ধৃতরা হলেন মুকেশ রজক এবং রাকেশ গুপ্ত। মুকেশকে পূর্ব বর্ধমানের একটি নার্সিংহোম থেকে এবং রাকেশকে মেমারির একটি ভাড়া বাড়ি থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে, এই দুই যুবক মহিলাদের পরিচয় ব্যবহার করে সেনা কর্মকর্তাদের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলতেন। এরপর তাঁদের কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ সামরিক তথ্য সংগ্রহ করে পাকিস্তানের বিভিন্ন গুপ্তচর সংস্থার কাছে পাচার করতেন।
পুলিশের তদন্তে বেরিয়ে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। মুকেশ ও রাকেশ সম্প্রতি পূর্ব বর্ধমানের মেমারি-সহ বেশ কিছু দোকান থেকে বেনামে অসংখ্য সিম কার্ড সংগ্রহ করেন। এই সিম কার্ডগুলো ব্যবহার করে তারা নতুন হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট খুলতেন এবং সেগুলোর মাধ্যমে পাকিস্তানি গুপ্তচর সংস্থার সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখতেন। এমনকি, হোয়াটসঅ্যাপের ওয়ান টাইম পাসওয়ার্ড (OTP) পর্যন্ত পাকিস্তানি এজেন্টদের সাথে শেয়ার করা হতো।
গোয়েন্দারা আরও জানিয়েছেন, এই বেনামি মোবাইল নম্বরগুলো মূলত 'হানি ট্র্যাপ' অভিযানের জন্য ব্যবহার করা হতো, যেখানে ভারতীয় সেনাবাহিনীর কর্মকর্তারা ছিলেন মূল লক্ষ্য। অভিযুক্তরা নারী সেজে তাদের সাথে যোগাযোগ করতেন এবং ধীরে ধীরে বিশ্বাস অর্জন করে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হাতবদল করতেন। জানা যাচ্ছে, বেশ কয়েকজন সেনা কর্মকর্তা এই 'হানি ট্র্যাপ'-এর শিকার হয়েছেন এবং তাদের কাছ থেকে সংগৃহীত তথ্য পাকিস্তানের বিভিন্ন সংস্থার কাছে পাচার করা হয়েছে।
শনিবার গভীর রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বর্ধমানের দুটি ভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে এসটিএফ এই দুজনকে গ্রেফতার করে। মঙ্গলবার এই খবর আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়। কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা এবং রাজ্যের স্পেশ্যাল টাস্ক ফোর্সের সাম্প্রতিক তদন্তে বারবার উঠে এসেছে যে, পাকিস্তানি গুপ্তচর সংস্থাগুলো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে ভারতীয় সেনা এবং টেলিকম কর্মীদের নিশানা করছে। অনেক সময় মোটা অঙ্কের অর্থের লোভ দেখিয়েও নিরাপত্তা সংক্রান্ত তথ্য আদায়ের চেষ্টা করা হয়। এই গ্রেফতারি সেই বৃহত্তর ষড়যন্ত্রের একটি অংশ বলেই মনে করা হচ্ছে।