মঙ্গলবার, জানুয়ারী ১৩, ২০২৬
৩০ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

নতুন শ্রম কোড নিয়ে কেন্দ্র-শ্রমিক সংঘাত: অধিকাংশ রাজ্যই আইন বদলেছে, ধর্মঘটের আগে জানালেন শ্রমমন্ত্রী

RNS News

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৯ জুলাই, ২০২৫, ০২:০৭ এএম

নতুন শ্রম কোড নিয়ে কেন্দ্র-শ্রমিক সংঘাত: অধিকাংশ রাজ্যই আইন বদলেছে, ধর্মঘটের আগে জানালেন শ্রমমন্ত্রী
ফাইল ছবি

দেশজুড়ে শ্রমিক সংগঠনগুলির ডাকা ভারত বনধের ঠিক আগের দিন, মঙ্গলবার, কেন্দ্রীয় শ্রমমন্ত্রী মনসুখ মান্ডব্য দাবি করলেন যে বিতর্কিত চারটি শ্রম কোডের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে দেশের অধিকাংশ রাজ্যই নিজেদের স্থানীয় আইন পরিবর্তন করেছে। তাঁর এই মন্তব্য চলমান শ্রমিক অসন্তোষের আবহে নতুন মাত্রা যোগ করেছে, কারণ এই শ্রম কোডগুলির বিরুদ্ধেই আজ দেশজুড়ে ধর্মঘট করছেন প্রায় ২৫ কোটি শ্রমিক।

এক সাংবাদিক বৈঠকে শ্রমমন্ত্রী জানান, কেন্দ্র এখনও এই চারটি কোড দেশজুড়ে কার্যকর না করলেও, ৩১টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল ইতিমধ্যেই এই কোডগুলির মূল সংস্কারগুলিকে অন্তর্ভুক্ত করে নিজেদের আইন পাস বা সংশোধন করেছে। উল্লেখযোগ্যভাবে, এই তালিকায় ক্ষমতাসীন এনডিএ এবং বিরোধী-শাসিত উভয় শিবিরেই থাকা রাজ্যগুলি রয়েছে। তবে কেন্দ্র কবে থেকে এই কোডগুলি সম্পূর্ণরূপে বাস্তবায়ন করবে, সে বিষয়ে তিনি নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা দেননি।

শ্রমিক ইউনিয়নগুলির বিরোধিতাকে "রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত" বলে অভিহিত করে মন্ত্রী আলোচনার দরজা খোলা আছে বলে জানান।

অন্যদিকে, শ্রমিক সংগঠনগুলি তাদের অবস্থানে অনড়। তারা জানিয়েছে, শুধুমাত্র "চা পানের জন্য" তারা সরকারের সঙ্গে বৈঠকে বসতে আগ্রহী নয়। দশটি জাতীয় ইউনিয়নের একটি যৌথ মঞ্চ এই ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে, যেখানে ব্যাংকিং, বিমা এবং খনি শিল্পের মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রগুলি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তাদের প্রধান দাবি, এই শ্রম কোডগুলিতে থাকা "শ্রমিক-বিরোধী" আইনগুলি অবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে।

কী কী পরিবর্তন করেছে রাজ্যগুলি?

কেন্দ্রীয় সরকারের এই নতুন কোডগুলির মূল উদ্দেশ্য হলো বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং সংস্থাগুলির জন্য কর্মী নিয়োগ ও ছাঁটাই প্রক্রিয়া সহজ করা। শ্রম মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, বিরোধী-শাসিত পাঞ্জাব এবং হিমাচল প্রদেশও ছাঁটাইয়ের ক্ষেত্রে সরকারি অনুমতির নিয়ম শিথিল করেছে। আগে ১০০ জন কর্মী থাকা সংস্থাকে ছাঁটাইয়ের জন্য সরকারি অনুমতি নিতে হতো, নতুন নিয়ম অনুযায়ী ৩০০ জন কর্মী পর্যন্ত থাকা সংস্থাগুলি অনুমতি ছাড়াই কর্মী ছাঁটাই বা কারখানা বন্ধ করতে পারবে।

কর্ণাটক এবং তেলেঙ্গানার মতো রাজ্যগুলি 'অপরাধের মীমাংসা' (compounding of offences) সংক্রান্ত আইন পরিবর্তন করেছে, যার ফলে নিয়োগকর্তারা নির্দিষ্ট কিছু নিয়ম লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে বিচারের মুখোমুখি না হয়ে জরিমানা দিয়ে পার পেতে পারবেন। তবে কেরালা ও পশ্চিমবঙ্গের মতো রাজ্যগুলি এই নিয়ম শিথিল করেনি। এছাড়া, বেশিরভাগ রাজ্যই মহিলাদের রাতের শিফটে কাজ করার অনুমতি দেওয়ার জন্য নিয়ম পরিবর্তন করেছে।

 

সূত্র// হিন্দুস্থান টাইমস