শনিবার, জুন ৬, ২০২৬
২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ভারতে ১৫টি মসজিদ সিলগালা করল বিজেপি সরকার

আর এন এস আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৫ জুন, ২০২৬, ০২:৪৬ পিএম

ভারতে ১৫টি মসজিদ সিলগালা করল বিজেপি সরকার
ছবি: সংগৃহীত

ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য অরুণাচল প্রদেশের রাজধানী ইটানগর অঞ্চলে ১৫টি মসজিদ সম্পূর্ণভাবে সিলগালা করে দিয়েছে বিজেপি নেতৃত্বাধীন রাজ্য সরকার। অবৈধ বসতি স্থাপন এবং জনসংখ্যার কাঠামোগত পরিবর্তনের অভিযোগ তুলে স্থানীয় আদিবাসী জনগোষ্ঠীর তীব্র আপত্তির পর প্রশাসন এই কঠোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।

 

শুক্রবার ভারতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি তাদের একটি বিস্তারিত প্রতিবেদনে এই প্রশাসনিক পদক্ষেপের তথ্য নিশ্চিত করেছে। অরুণাচল প্রদেশ ইন্ডিজেনাস ইয়ুথ অর্গানাইজেশন নামক একটি স্থানীয় আদিবাসী যুব সংগঠনের দীর্ঘ আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় এই প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়।

 

এর আগে অননুমোদিত ধর্মীয় স্থাপনা উচ্ছেদ এবং অবৈধ অনুপ্রবেশ বন্ধের দাবিতে সংগঠনটি রাজধানী অঞ্চলে ২৪ ঘণ্টার এক প্রতীকী ধর্মঘট পালন করেছিল। তাদের দাবিগুলো সম্পূর্ণরূপে মানা না হলে তারা আরও কঠোর ও বৃহত্তর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দিয়েছিল।

 

রাজ্য সরকারের আনুষ্ঠানিক মুখপাত্র ও শিক্ষামন্ত্রী পিডি সোনা বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে মুখ্যমন্ত্রী পেমা খাণ্ডুর সঙ্গে ওই আদিবাসী সংগঠনের প্রতিনিধিদের এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে বিষয়টি প্রথম প্রশাসনের নজরে আসে।

 

উক্ত বৈঠকের পর মুখ্যমন্ত্রীর সরাসরি নির্দেশে জেলা প্রশাসন রাজধানী অঞ্চলে প্রয়োজনীয় অনুমোদনহীন সমস্ত ধর্মীয় স্থাপনাগুলো চিহ্নিত করার উদ্যোগ গ্রহণ করে। একটি সরকারি জরিপ পরিচালনার মাধ্যমে মোট ১৫টি অননুমোদিত মসজিদের অস্তিত্ব শনাক্ত করা হয়।

 

শিক্ষামন্ত্রী আরও জানান, জেলা কর্তৃপক্ষ সমস্ত আইনি প্রক্রিয়া যথাযথভাবে অনুসরণ করে প্রথমে ১২টি মসজিদ সিলগালা ও খালি করে দেয়। পরবর্তীতে গত ১ জুন মুখ্যমন্ত্রী ও আদিবাসী নেতাদের মধ্যে অনুষ্ঠিত এক জরুরি বৈঠকে বাকি তিনটি মসজিদের বিষয়েও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে সেগুলোও সিলগালা করা হয়।

 

আন্দোলনকারী সংগঠনটির মূল দাবিগুলো ইতিমধ্যে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সমাধান করা হয়েছে জানিয়ে প্রশাসন আশা করছে, জনস্বার্থের কথা বিবেচনা করে তারা নতুন করে কোনো আন্দোলনের ডাক দেওয়া থেকে বিরত থাকবে।

 

এই পদক্ষেপ অরুণাচল প্রদেশে অবৈধ অনুপ্রবেশ, জনসংখ্যার দ্রুত পরিবর্তন এবং স্থানীয় আদিবাসীদের সাংবিধানিক অধিকার সুরক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোকে কেন্দ্র করে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

 

রাজ্য কর্মকর্তারা স্বীকার করেছেন, রাজ্যের উন্মুক্ত আন্তঃরাজ্য এবং আন্তর্জাতিক সীমান্তগুলো অনুপ্রবেশ প্রতিরোধের ক্ষেত্রে একটি বড় চ্যালেঞ্জ এবং এর জন্য ধারাবাহিক নজরদারি অপরিহার্য।

 

এর আগে মে মাসে মুখ্যমন্ত্রীর সভাপতিত্বে ছাত্র সংগঠন, উপজাতীয় সমাজ, নাগরিক সমাজ এবং রাজনৈতিক দলগুলোর অংশগ্রহণে একটি উচ্চপর্যায়ের পরামর্শমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়।

 

সেখানে স্থানীয় আদিবাসীদের অধিকার রক্ষা এবং রাজ্যে বিশেষ প্রবেশাধিকার ব্যবস্থা বা ইনার লাইন পারমিট জোরদার করার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। মুখ্যমন্ত্রী পেমা খাণ্ডু জানিয়েছেন, এই চ্যালেঞ্জটি কেবল রাজ্যের অভ্যন্তরীণ বিষয় নয়, বরং এটি সীমান্ত ব্যবস্থাপনা ও জাতীয় সুরক্ষার সঙ্গেও গভীরভাবে জড়িত।

 

উপজাতীয় পরিচয়, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য এবং সাংবিধানিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে রাজ্য সরকার ইতিমধ্যে এই বিশেষ প্রবেশাধিকার ব্যবস্থা তদারকি ও নিয়ন্ত্রণের জন্য সম্পূর্ণ আলাদা একটি সরকারি বিভাগ গঠনের নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

 

এনডিটিভি