শনিবার, জুন ৬, ২০২৬
২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সম্পর্কচ্ছেদের জেরে কর্মস্থলে ঢুকে নারী সহকর্মীকে নৃশংসভাবে হত্যা

আর এন এস আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৫ জুন, ২০২৬, ০৪:৫৩ পিএম

সম্পর্কচ্ছেদের জেরে কর্মস্থলে ঢুকে নারী সহকর্মীকে নৃশংসভাবে হত্যা
ছবি : Collected

ভারতের পাঞ্জাব প্রদেশের মোহালিতে প্রেমঘটিত সম্পর্কের অবসান মেনে নিতে না পেরে এক নারী সহকর্মীকে কর্মস্থলেই নির্মমভাবে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। গত বৃহস্পতিবার মোহালির সেক্টর-৬৬ এলাকার একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে।

 

অভিযুক্ত যুবক হামলার পর নিজেও আত্মহত্যার চেষ্টা করেন এবং বর্তমানে আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। কর্মক্ষেত্রে এমন প্রকাশ্য ও নৃশংস হামলার একটি নিরাপত্তা ক্যামেরার দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মাঝে ব্যাপক চাঞ্চল্য ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়।

 

নিহত ওই তরুণীর নাম ডিম্পল এবং অভিযুক্তের নাম হরবিন্দর মান, যিনি হ্যারি নামেও পরিচিত। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই দুজন গত প্রায় তিন বছর ধরে একটি প্যাকার্স অ্যান্ড মুভার্স প্রতিষ্ঠানে একসঙ্গে কাজ করতেন।

 

দীর্ঘদিনের পরিচয়ের সূত্র ধরে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। তবে সম্প্রতি তাদের সেই সম্পর্কের বিচ্ছেদ ঘটে। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, এই বিচ্ছেদের মানসিক চাপ ও ক্ষোভ থেকে হরবিন্দর এই চরম পথ বেছে নেন।

 

ঘটনার দিন সন্ধ্যায় কর্মস্থলে দুজনের মধ্যে তীব্র বাগবিতণ্ডা হয়। এর কিছুক্ষণ পরেই ডিম্পল যখন নিজের ডেস্কে কাজে মনোযোগ দেন, তখন হরবিন্দর পেছন থেকে এসে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার ওপর অতর্কিত হামলা চালান।

 

ছড়িয়ে পড়া নিরাপত্তা ক্যামেরার দৃশ্যগুলোতে দেখা যায়, আকস্মিক হামলায় প্রাণ বাঁচাতে ডিম্পল আপ্রাণ চেষ্টা করছিলেন। পরিস্থিতি বুঝতে পেরে উপস্থিত অন্যান্য সহকর্মীরাও তাকে রক্ষার জন্য দ্রুত এগিয়ে আসেন, কিন্তু আক্রমণকারীর উন্মত্ততার কাছে তাদের প্রচেষ্টা শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হয়।

 

প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনামতে, পুরো কার্যালয়ে মুহূর্তের মধ্যেই এক ভয়াবহ আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। সহকর্মীদের সামনেই ডিম্পলকে উপর্যুপরি আঘাত করার পর অভিযুক্ত হরবিন্দর নিজের গলায় আঘাত করে আত্মহত্যার চেষ্টা চালান।

 

পরবর্তীতে গুরুতর আহত অবস্থায় দুজনকে দ্রুত স্থানীয় ফোর্টিস হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা ডিম্পলকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। বর্তমানে অভিযুক্ত হরবিন্দর ওই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং তার অবস্থাও অত্যন্ত সংকটাপন্ন বলে জানা গেছে।

 

মোহালি পুলিশ জানিয়েছে, তারা ঘটনার সমস্ত দিক পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখছে এবং সিসিটিভি ফুটেজসহ প্রয়োজনীয় সব আলামত সংগ্রহ করে আইনি প্রক্রিয়া অব্যাহত রেখেছে।

 

অভিযুক্ত ব্যক্তি শারীরিকভাবে সুস্থ হয়ে উঠলে তাকে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে বলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষকদের অভিমত, ব্যক্তিগত সম্পর্কের টানাপোড়েন বা বিচ্ছেদের মতো সংবেদনশীল সংকটগুলো কখনোই এমন চরম সহিংসতার কারণ হতে পারে না।

 

এ ধরনের মানসিক বিপর্যয় ও চরম হতাশার ক্ষেত্রে আবেগ নিয়ন্ত্রণের জন্য যথাযথ মনস্তাত্ত্বিক চিকিৎসা বা পেশাদার কাউন্সেলিং এবং পারিবারিক সমর্থন নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।

 

নিউজ২৪