সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় অভিজিৎ নিজেই দেশে ফেরার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। ওই বার্তায় তিনি তাঁর অনুসারীদের যন্তর মন্তরে জড়ো হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, সেখানে আসার সময় সবাইকে একটি বই এবং ভারতের জাতীয় পতাকা সঙ্গে রাখতে হবে।
পাশাপাশি, কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যদের প্রতি সম্মান ও কৃতজ্ঞতা জানাতে তাঁদের হাতে ফুল তুলে দেওয়ারও অনুরোধ করেন তিনি। তাঁর এই আন্দোলন সম্পূর্ণ অহিংস এবং ভালোবাসা ও শান্তির পথে পরিচালিত হবে বলে তিনি দৃঢ়ভাবে উল্লেখ করেন।
সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, বিমানবন্দর থেকে বেরিয়ে অভিজিৎ সরাসরি সংসদ মার্গ থানার উদ্দেশে রওনা হন। যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী অভিজিৎ পড়াশোনা শেষে সেখানেই বসবাস করছিলেন।
ভারতের মূলধারার রাজনৈতিক দলগুলোকে ব্যঙ্গ করে সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ককরোচ জনতা পার্টি নামে একটি অভিনব প্ল্যাটফর্ম চালু করেন তিনি। অল্প কয়েক দিনের মধ্যেই এই উদ্যোগের অনুসারীর সংখ্যা কোটি ছাড়িয়ে যায়।
মূলত ভারতে অনুষ্ঠিত এনইইটি-ইউজি ২০২৬, সিইউইটি, এসএসসি জিডি এবং সিবিএসই পরীক্ষার মূল্যায়ন পদ্ধতিতে ব্যাপক অনিয়ম ও প্রশ্নফাঁসের অভিযোগের প্রতিবাদে এই আন্দোলন গড়ে তোলা হয়।
ককরোচ জনতা পার্টির ডাকে নয়াদিল্লিতে শত শত শিক্ষার্থী রাস্তায় নেমেছেন, যাঁদের প্রধান দাবি কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের অবিলম্বে পদত্যাগ। এই দাবি আদায়ের লক্ষ্যে যন্তর মন্তর এলাকায় একটি অবস্থান কর্মসূচির ডাক দেওয়া হয়।
তবে দিল্লি পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল যে, সিজেপির প্রধান সংগঠক সশরীরে উপস্থিত হয়ে আবেদন করলেই কেবল এই কর্মসূচির অনুমতি দেওয়া হবে। পুলিশের কাছ থেকে সেই অনুমতি গ্রহণ এবং আন্দোলনকে আরও সুসংগঠিত করতেই অভিজিৎ ভারতে ফিরেছেন।
অভিজিতের এই নাগরিক আন্দোলনের প্রতি একাত্মতা প্রকাশ করেছেন ভারতের বিশিষ্ট সমাজকর্মী সোনাম ওয়াংচুক। তিনি স্পষ্ট ভাষায় হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, পুলিশ যদি কোনো কারণে অভিজিৎ দিপকেকে গ্রেপ্তার করে, তবে তিনি টানা ছয় সপ্তাহের অনশন কর্মসূচি শুরু করবেন।
এই পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে যেকোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে এবং সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতে দিল্লির গুরুত্বপূর্ণ এলাকা ও সীমান্তগুলোতে এক হাজারেরও বেশি অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
এদিকে, অভিজিতের আকস্মিক দেশে ফেরা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ডানপন্থী নেট-প্রভাবক ও সমালোচকদের মধ্যে ব্যাপক বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। শায়ান কৃষ্ণা নামের এক সমালোচক দাবি করেন, অভিজিৎ স্বেচ্ছায় দেশে ফেরেননি; বরং শিক্ষার্থী ভিসার নিয়ম ভঙ্গ করে বিদেশি রাজনৈতিক আন্দোলনে যুক্ত থাকার অপরাধে মার্কিন অভিবাসন কর্তৃপক্ষ তাঁকে জোরপূর্বক দেশে ফেরত পাঠিয়েছে।
এই দাবির সত্যতা প্রমাণ করতে সমালোচকেরা অভিজিৎকে তাঁর পাসপোর্টের সিল প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছেন। তবে এই গুঞ্জনের বিষয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়াল একটি নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে স্পষ্ট করেছেন যে, মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে অভিজিতের ভিসা লঙ্ঘন বা জোরপূর্বক ফেরত পাঠানোর বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো তথ্য ভারতের কাছে দেওয়া হয়নি।
সরকারি নথিপত্র অনুযায়ী, অভিজিতের বিরুদ্ধে জোরপূর্বক বহিষ্কারের কোনো সক্রিয় প্রক্রিয়া চলমান নেই। তিনি বোস্টন বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন নিয়মিত ছাত্র এবং তাঁর এই আন্দোলন ইতিমধ্যেই ভারতের তরুণ প্রজন্মের মধ্যে এক নজিরবিহীন রাজনৈতিক সচেতনতা ও আলোড়নের জন্ম দিয়েছে।