এই অমানবিক ও নিষ্ঠুর হত্যাকাণ্ডের পর থেকে অভিযুক্ত মা সম্পূর্ণ আত্মগোপনে রয়েছেন। অত্যন্ত চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটেছে গত মার্চ মাসে, তবে দীর্ঘ প্রায় তিন মাস পর শিশুটির শোকাহত পিতা স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করলে পুরো বিষয়টি জনসমক্ষে আসে এবং ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ও স্থানীয় গণমাধ্যমগুলোতে এই অমানবিক সংবাদটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে প্রচারিত হচ্ছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রকাশ করা বিভিন্ন প্রতিবেদন এবং পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত থেকে জানা যায়, মর্মান্তিক এই শিশু হত্যার ঘটনাটি সংঘটিত হয়েছিল গত ২৪ মার্চ।
শিশুটির হতভাগ্য বাবা প্রবীণ তাঁর দায়ের করা আইনি অভিযোগে জোরালোভাবে দাবি করেছেন যে, তাঁর বিবাহিত স্ত্রী প্রিয়াঙ্কা এবং স্ত্রীর প্রেমিক মোহন সম্পূর্ণ পরিকল্পিতভাবে তাঁদের পাঁচ বছর বয়সী অবুঝ সন্তান ভেন্নিলাকে হত্যা করেছেন।
পুলিশি তদন্ত ও স্থানীয় সূত্র থেকে প্রাপ্ত পারিবারিক ইতিহাস অনুযায়ী, প্রবীণ এবং প্রিয়াঙ্কার বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন ২০০৭ সালে। তাঁদের দীর্ঘ দাম্পত্য জীবনে সতেরো বছর বয়সী এক কিশোরী এবং পাঁচ বছর বয়সী ভেন্নিলাসহ মোট দুজন কন্যাসন্তান ছিল।
দীর্ঘদিনের এই সংসারে হঠাৎ করেই ছন্দপতন ঘটে, যখন কয়েক বছর আগে প্রিয়াঙ্কা তাঁর পুরোনো কলেজবন্ধু মোহনের সঙ্গে নতুন করে যোগাযোগ স্থাপন করেন। ধীরে ধীরে সেই যোগাযোগ একটি গভীর অনৈতিক সম্পর্কে রূপ লাভ করে।
এই সম্পর্কের কারণে প্রবীণ ও প্রিয়াঙ্কার মাঝে নিত্যদিন দাম্পত্য কলহ লেগেই থাকত। পারিবারিক এই চরম অশান্তির জের ধরে প্রিয়াঙ্কা বেশ কয়েকবার তাঁর স্বামী প্রবীণের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে বিবাহবিচ্ছেদের দাবি উত্থাপন করেছিলেন।
পরিস্থিতির একপর্যায়ে স্বামীর ঘর ছেড়ে তিনি নিজের ছোট মেয়ে ভেন্নিলাকে নিয়ে প্রেমিক মোহনের সঙ্গে আলাদাভাবে বসবাস শুরু করেন। পুলিশের কাছে দেওয়া অভিযোগপত্রে অত্যন্ত বেদনাহত ভাষায় উল্লেখ করা হয়েছে যে, মায়ের সঙ্গে নতুন আশ্রয়ে যাওয়ার পর থেকে ওই অবুঝ শিশুটিকে নিয়মিত চরম শারীরিক নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছিল।
নির্যাতনের মাত্রা এতটাই ভয়াবহ ছিল যে, অবর্ণনীয় কষ্ট দেওয়ার পর অত্যন্ত নিষ্ঠুরভাবে শ্বাসরোধ করে শিশুটির জীবন কেড়ে নেওয়া হয়। এমন একটি হৃদয়বিদারক ও পৈশাচিক ঘটনার আনুষ্ঠানিক অভিযোগ হাতে পাওয়ার পরপরই স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন অত্যন্ত তৎপর হয়ে ওঠে এবং দ্রুত আইনানুগ পদক্ষেপ গ্রহণ করে।
ইতিমধ্যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সফল অভিযানের মাধ্যমে ঘটনার অন্যতম প্রধান অভিযুক্ত এবং প্রিয়াঙ্কার প্রেমিক মোহনকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে। তবে নিজ সন্তানকে হত্যার অভিযোগে অভিযুক্ত মা প্রিয়াঙ্কা ঘটনার পর থেকেই পলাতক ও নিখোঁজ রয়েছেন।
তাঁকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে আইনের আওতায় নিয়ে আসতে পুলিশের একাধিক বিশেষ দল চারদিকে সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করছে। বেঙ্গালুরু পুলিশ প্রশাসন গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছে যে, এই অত্যন্ত সংবেদনশীল ও মর্মান্তিক শিশু হত্যার ঘটনার একটি পূর্ণাঙ্গ এবং নিরপেক্ষ আইনি তদন্ত বর্তমানে চলমান রয়েছে।
অপরাধীদের সর্বোচ্চ ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে হত্যাকাণ্ডের পেছনের প্রতিটি দিক এবং সম্ভাব্য সব উদ্দেশ্য অত্যন্ত গভীরভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।