শনিবার নয়াদিল্লির যন্তর মন্তর এলাকায় শত শত কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী জড়ো হয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে এই কর্মসূচির নেতৃত্ব দিচ্ছেন এবং দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত রাজপথে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার জোরালো ঘোষণা দিয়েছেন।
যন্তর মন্তরে সমবেত আন্দোলনকারীদের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে অভিজিৎ দিপকে বলেন, এটি একটি দীর্ঘ ও কঠিন সংগ্রাম। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি তোলার পর এক মাস পেরিয়ে গেলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কোনো কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি।
উল্টো কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে আন্দোলনকারীদের অ্যাকাউন্ট হ্যাক করা এবং পোস্ট মুছে ফেলার মতো অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, ভার্চুয়াল জগৎ থেকে তাঁদের মুছে ফেলা সম্ভব হলেও বাস্তবের রাজপথ থেকে তাঁদের সরানো কোনোভাবেই সম্ভব নয়।
দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি আরও বলেন, আরশোলারা কখনো ভয় পায় না এবং তারা মরেও না, তাই এই লড়াই অব্যাহত থাকবে। মূলত স্কুলে অধ্যয়নরত ভবিষ্যৎ প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের স্বার্থ রক্ষা করতেই তিনি রাজপথে নেমেছেন বলে উল্লেখ করেন।
উল্লেখ্য, চলতি বছর ভারতে অনুষ্ঠিত এনইইটি-ইউজি ২০২৬, সিইউইটি, এসএসসি জিডি এবং সিবিএসই পরীক্ষার মূল্যায়ন পদ্ধতিতে ব্যাপক অনিয়ম ও প্রশ্নফাঁসের গুরুতর অভিযোগ ওঠে। এই বিশাল ব্যর্থতার দায়ভার সরাসরি শিক্ষামন্ত্রীর ওপর চাপিয়ে তাঁর পদত্যাগের এক দফা দাবিতে আন্দোলন শুরু করে সিজেপি।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে দিল্লির গুরুত্বপূর্ণ এলাকা ও সীমানায় এক হাজারেরও বেশি অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
এর আগে, যন্তর মন্তরে এই বিক্ষোভের অনুমতি পাওয়ার জন্য দিল্লি পুলিশের শর্ত মেনে যুক্তরাষ্ট্র থেকে সশরীরে ভারতে ফিরে আসেন বোস্টন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক এই শিক্ষার্থী অভিজিৎ দিপকে।
এই অভিনব আন্দোলনের প্রেক্ষাপট তৈরি হয় ভারতের সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির একটি বিতর্কিত মন্তব্যের পর। সম্প্রতি তিনি দেশের তরুণ প্রজন্মের একাংশকে ‘আরশোলা’ ও ‘পরজীবী’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছিলেন।
ওই মন্তব্যের প্রতিবাদস্বরূপ গত ১৬ মে একটি ব্যঙ্গাত্মক রাজনৈতিক আন্দোলন হিসেবে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র আত্মপ্রকাশ ঘটে। মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোটি মানুষের সমর্থন আদায় করে নেয় এই অভিনব প্ল্যাটফর্ম।
চলমান এই নাগরিক আন্দোলনের প্রতি পূর্ণ সংহতি প্রকাশ করেছেন ভারতের বিশিষ্ট সমাজকর্মী সোনাম ওয়াংচুক। তিনি কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, পুলিশ যদি অভিজিৎ দিপকেকে কোনো কারণে গ্রেপ্তার করে, তবে তিনি অবিলম্বে টানা ছয় সপ্তাহের অনশন কর্মসূচি শুরু করবেন।