রবিবার, জুন ৭, ২০২৬
২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কাশ্মীর কখনোই ভারতের অংশ ছিল না, ভবিষ্যতেও হবে না- জাতিসংঘে পাকিস্তান

আর এন এস আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৬ জুন, ২০২৬, ০৬:২৮ পিএম

কাশ্মীর কখনোই ভারতের অংশ ছিল না, ভবিষ্যতেও হবে না- জাতিসংঘে পাকিস্তান
ছবি: সংগৃহীত

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে কাশ্মীর ইস্যুতে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে নতুন করে কূটনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। বিশ্বমঞ্চে ভারতের দাবিকে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে পাকিস্তান সুস্পষ্টভাবে জানিয়েছে, বিতর্কিত জম্মু ও কাশ্মীর অঞ্চল কখনোই ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিল না, বর্তমানে নেই এবং ভবিষ্যতেও কখনো হবে না।

 

সম্প্রতি জাতিসংঘে নিযুক্ত ভারতের স্থায়ী প্রতিনিধি পার্বথানেনি হরিশ কাশ্মীরকে ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ বলে দাবি করেন। তাঁর এই মন্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে ‘জবাব দেওয়ার অধিকার’ প্রয়োগ করে এই কড়া অবস্থান ব্যক্ত করেন পাকিস্তানি কূটনীতিক গুল কায়সার সারওয়ানি।

 

সাধারণ পরিষদের ১৯৩টি সদস্য রাষ্ট্রের সামনে সারওয়ানি স্মরণ করিয়ে দেন যে, আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত একটি বিরোধপূর্ণ অঞ্চল হিসেবে জম্মু ও কাশ্মীর এখনো জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের আলোচ্যসূচিতে রয়েছে।

 

তিনি জোর দিয়ে বলেন, কোনো ধরনের অপপ্রচার বা বিভ্রান্তি ছড়িয়ে এই বিরোধের ঐতিহাসিক, আইনি ও আন্তর্জাতিক সত্যতা মুছে ফেলা সম্ভব নয়। এর আগে জাতিসংঘে পাকিস্তানের স্থায়ী প্রতিনিধি আসিম ইফতিখার আহমেদ তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে, নিরাপত্তা পরিষদের বার্ষিক প্রতিবেদনে কাশ্মীর ও ফিলিস্তিন-উভয় সংকটেরই ধারাবাহিক প্রাসঙ্গিকতা সুস্পষ্টভাবে উঠে এসেছে।

 

তিনি জানান, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ভারত-পাকিস্তান ইস্যু সংক্রান্ত ২০টিরও বেশি চিঠি নিরাপত্তা পরিষদের নজরে আনা হয়েছে এবং একই বছরের মে মাসে এই বিষয়ে একটি রুদ্ধদ্বার বৈঠকও অনুষ্ঠিত হয়েছে।

 

এর মাধ্যমে প্রমাণিত হয় যে, সাত দশকেরও বেশি সময় ধরে কাশ্মীর বিরোধ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মনোযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। দক্ষিণ এশিয়ায় টেকসই শান্তি ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাবনা এবং কাশ্মীরি জনগণের আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী এই দীর্ঘস্থায়ী বিরোধের একটি ন্যায়সংগত সমাধানের ওপর জোর দেয় পাকিস্তান।

 

রাষ্ট্রদূত আসিম আহমেদ ফিলিস্তিন সংকট প্রসঙ্গে বলেন, গাজার বর্তমান পরিস্থিতি নিরাপত্তা পরিষদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারের তালিকায় থাকা উচিত। রক্তপাত বন্ধে জাতিসংঘের গৃহীত ২৮০৩ নম্বর প্রস্তাবের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ১৯৬৭ সালের পূর্বের সীমানার ভিত্তিতে জেরুজালেমকে রাজধানী করে একটি স্বাধীন, সার্বভৌম ও অখণ্ড ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠন করা অপরিহার্য।

 

একই সঙ্গে ফিলিস্তিনিদের আত্মনিয়ন্ত্রণ অধিকারের প্রতিও ইসলামাবাদ তাদের অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে। আন্তর্জাতিক শান্তি রক্ষায় জাতিসংঘের ভূমিকা ও কাঠামোগত সংস্কারের বিষয়েও পাকিস্তান তাদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে।

 

বিশ্বব্যাপী জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী এবং কার্যকর করতে পাকিস্তান পূর্ণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে জানান পাকিস্তানি প্রতিনিধি। বর্তমান বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য একটি অধিকতর গণতান্ত্রিক, প্রতিনিধিত্বশীল ও জবাবদিহিমূলক বহুপক্ষীয় ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে তিনি বলেন, নিরাপত্তা পরিষদে ভেটো ক্ষমতার অপব্যবহার সাধারণ সদস্য রাষ্ট্রগুলোর জন্য গভীর উদ্বেগের কারণ।

 

তাই নিরাপত্তা পরিষদে স্থায়ী সদস্য পদের একচেটিয়া সম্প্রসারণ এবং এই ভেটো ক্ষমতার যথেচ্ছ ব্যবহার জাতিসংঘের বৈশ্বিক ঐক্যের পরিপন্থি বলে তিনি মন্তব্য করেন।

 

- বার্তা বাজার