শনিবার দিল্লির ঐতিহাসিক যন্তর মন্তর এলাকায় আয়োজিত এক বিশাল অবস্থান কর্মসূচিতে বর্তমান শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের জোরালো দাবি ওঠে। একই সঙ্গে প্রখ্যাত শিক্ষাবিদ ও সমাজকর্মী সোনাম ওয়াংচুককে দেশের নতুন শিক্ষামন্ত্রী করার দাবিতে স্লোগানে স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো বিক্ষোভস্থল।
এই নাগরিক বিক্ষোভে সশরীরে উপস্থিত হয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের দাবির প্রতি পূর্ণ সংহতি প্রকাশ করেন বলিউডের সাড়া জাগানো চলচ্চিত্র ‘থ্রি ইডিয়টস’-এর অনুপ্রেরণা এবং লাদাখের বিশিষ্ট সমাজকর্মী সোনাম ওয়াংচুক।
সমবেত ছাত্র-জনতার উদ্দেশে দেওয়া এক ভাষণে তিনি বলেন, বর্তমান শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিটি এই আন্দোলনের একটি প্রাথমিক পদক্ষেপ মাত্র। তাঁদের এই সংগ্রামের মূল উদ্দেশ্য হলো দেশের সমগ্র শিক্ষাব্যবস্থার একটি আমূল ও কার্যকর সংস্কার করা।
জাতীয় পর্যায়ের বিভিন্ন পরীক্ষায় ধারাবাহিক অনিয়ম এবং প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো ন্যক্কারজনক ঘটনাগুলোকে অত্যন্ত গভীর পদ্ধতিগত ত্রুটির একটি ক্ষুদ্র লক্ষণ হিসেবে আখ্যায়িত করেন তিনি।
পাশাপাশি, শিক্ষাক্ষেত্রে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং প্রতিটি নাগরিকের জন্য মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে পুরো ব্যবস্থার ব্যাপক পরিবর্তনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন এই শিক্ষাবিদ।
অন্যদিকে, এই যৌক্তিক আন্দোলনে সশরীরে নেতৃত্ব দিতে যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টন থেকে ভারতে উড়ে এসেছেন সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে। বিক্ষোভস্থলে উপস্থিত শত শত বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর উদ্দেশে তিনি বলেন, এটি অত্যন্ত দীর্ঘস্থায়ী এবং কঠিন এক সংগ্রাম।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি তোলার পর ইতিমধ্যে এক মাস অতিক্রান্ত হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কোনো দৃশ্যমান ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। বরং আন্দোলনকারীদের কণ্ঠরোধ করার উদ্দেশ্যে তাঁদের সামাজিক মাধ্যমের অ্যাকাউন্ট হ্যাক এবং প্রতিবাদী পোস্ট মুছে ফেলার মতো অন্যায্য পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে তিনি তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
অভিজিৎ অত্যন্ত দৃঢ়তার সঙ্গে ঘোষণা করেন, কর্তৃপক্ষ হয়তো ভার্চুয়াল জগৎ থেকে তাঁদের মুছে ফেলতে পারবে, কিন্তু রাজপথের এই গণতান্ত্রিক আন্দোলন থেকে তাঁদের সরানো কোনোভাবেই সম্ভব নয়। তিনি আরও বলেন, আরশোলারা কখনো ভয় পায় না এবং তারা সহজে মরেও না; সুতরাং এই লড়াই চলবে।
মূলত ভবিষ্যৎ প্রজন্মের স্কুলপড়ুয়া ছাত্রছাত্রীদের একটি নিরাপদ শিক্ষাজীবন উপহার দিতেই তিনি এই আন্দোলনে শামিল হয়েছেন বলে জানান। সাম্প্রতিক সময়ে ভারতে অনুষ্ঠিত নিট (NEET) সহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় পর্যায়ের পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং নিয়োগে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ ওঠার পর থেকেই তরুণ সমাজের মধ্যে এই চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সার্বিক নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং যেকোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে শনিবার দিল্লির গুরুত্বপূর্ণ এলাকা ও সীমানাগুলোতে এক হাজারেরও বেশি অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, ভারতের সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত সম্প্রতি একটি মামলার শুনানিকালে দেশের বেকার তরুণদের একাংশকে ‘তেলাপোকা’ বা আরশোলার সঙ্গে তুলনা করে এক বিতর্কিত মন্তব্য করেছিলেন।
মূলত তাঁর সেই মন্তব্যের অভিনব প্রতিবাদ হিসেবেই গত ১৬ মে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ নামে এই ব্যঙ্গাত্মক রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্মটির আত্মপ্রকাশ ঘটে। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তরুণ প্রজন্মের মাঝে এটি অভাবনীয় জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে এবং দেশের শিক্ষাব্যবস্থার ত্রুটিগুলো তুলে ধরতে একটি শক্তিশালী মাধ্যম হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।