রোববার দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে এই গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনার কথা আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে। কোরীয় উপদ্বীপে চলমান সামরিক উত্তেজনার মধ্যেই পিয়ংইয়ংয়ের পক্ষ থেকে এমন ঘোষণা আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে মনোযোগ আকর্ষণ করেছে।
সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর এই সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনার অংশ হিসেবে সম্প্রতি দেশের একটি অন্যতম বৃহৎ গোলাবারুদ ও সমরাস্ত্র তৈরির কারখানা পরিদর্শন করেন কিম জং উন।
রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত স্থিরচিত্রগুলোতে সামরিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাঁকে অত্যন্ত নিবিড়ভাবে অস্ত্র উৎপাদন প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা করতে দেখা যায়। দক্ষিণ কোরিয়াভিত্তিক বার্তা সংস্থা ইয়োনহাপ জানিয়েছে, কিম জং উনের কারখানা পরিদর্শনের সময় ধারণকৃত ছবিগুলোতে অত্যাধুনিক সমরাস্ত্রের বেশ কিছু নমুনা প্রকাশ্যে এসেছে।
প্রকাশিত ছবিগুলো গভীরভাবে বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, সেখানে বিশালাকার ক্ষেপণাস্ত্রের মূল কাঠামো এবং দূরপাল্লার হামলার উপযোগী ভারী গোলাবারুদ উৎপাদন করা হচ্ছে।
কারখানা পরিদর্শনকালে উত্তর কোরিয়ার শীর্ষ নেতা দেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে সম্পূর্ণ নিজস্ব প্রযুক্তিতে স্বয়ংসম্পূর্ণ এবং আরও যুগোপযোগী করার ওপর বিশেষ জোর দেন।
তিনি উৎপাদন কারখানার সার্বিক আধুনিকায়ন এবং অস্ত্র নির্মাণের গতি ত্বরান্বিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী ও ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তাদের সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।
নানাবিধ আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা ও ক্রমাগত বাহ্যিক চাপের মুখেও নিজেদের সামরিক শক্তি বৃদ্ধিতে পিয়ংইয়ং যে তাদের নীতি থেকে সরে আসবে না, এই পরিদর্শনের মাধ্যমে মূলত সেই দৃঢ় বার্তাই দেওয়া হয়েছে বলে মনে করছেন ভূরাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
কিম জং উনের এই সমরাস্ত্র কারখানা পরিদর্শনের খবরের মধ্যেই আরও একটি তাৎপর্যপূর্ণ কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু হতে যাচ্ছে। আগামীকালই একটি গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় সফরে উত্তর কোরিয়ার রাজধানী পিয়ংইয়ংয়ে পৌঁছানোর কথা রয়েছে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের।
বেইজিংয়ের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে, এই ঐতিহাসিক সফরে দুই দেশের শীর্ষ নেতা পারস্পরিক দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক উন্নয়ন, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং অভিন্ন কৌশলগত স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে উচ্চপর্যায়ের আলোচনা করবেন।
আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে পিয়ংইয়ংয়ের সবচেয়ে শক্তিশালী ও ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পরিচিত বেইজিং এই সফরের মাধ্যমে উত্তর কোরিয়ার সাথে তাদের দীর্ঘদিনের ঐতিহাসিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করার গভীর আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
সমরাস্ত্র বৃদ্ধির ঘোষণার ঠিক পরপরই চীনা প্রেসিডেন্টের এই গুরুত্বপূর্ণ সফর আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক ভূরাজনীতিতে অত্যন্ত প্রভাব বিস্তারকারী একটি ঘটনা হিসেবে নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।