রোববার দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্টের কার্যালয় থেকে আনুষ্ঠানিক এক বিবৃতির মাধ্যমে এই যুগান্তকারী সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। এই মনোনয়ন আন্তর্জাতিক রাজনীতি এবং দেশটির অভ্যন্তরীণ প্রশাসনিক ক্ষেত্রে একটি ইতিবাচক ও তাৎপর্যপূর্ণ বার্তা হিসেবে গ্রহণ করা হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রেসিডেন্টের এই প্রস্তাবিত মনোনয়ন এখন দেশের আইনসভার অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। দেশটির পার্লামেন্ট যদি এই মনোনয়নে চূড়ান্ত অনুমোদন প্রদান করে, তবে গত বিশ বছরের ইতিহাসে হান সেওংসুকই হবেন দক্ষিণ কোরিয়ার প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী।
এই ঘটনা দেশটির রাজনীতিতে নারীর ক্ষমতায়নের ক্ষেত্রে একটি বড় মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হবে। শুধু রাজনৈতিক পরিচয় নয়, হান সেওংসুকের রয়েছে এক সমৃদ্ধ ও বৈচিত্র্যময় পেশাগত পটভূমি।
তিনি এর আগে দক্ষিণ কোরিয়ার অন্যতম বৃহৎ এবং জনপ্রিয় প্রযুক্তি ও ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান নাভার-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে অত্যন্ত সফলতার সাথে দায়িত্ব পালন করেছেন।
হান সেওংসুকের এই দীর্ঘ প্রযুক্তিগত অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে দক্ষিণ কোরিয়া কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির রূপান্তরে বিশ্বমঞ্চে নেতৃত্ব দেওয়ার স্বপ্ন দেখছে। প্রেসিডেনশিয়াল চিফ অব স্টাফ কাং হুন-সিক এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, হান সেওংসুক দেশের প্রযুক্তিগত এবং অর্থনৈতিক রূপান্তরে একটি শক্তিশালী ভূমিকা পালন করবেন বলে সরকার গভীরভাবে আশাবাদী।
বিশেষ করে দেশের অত্যন্ত দ্রুত বর্ধনশীল সেমিকন্ডাক্টর বা অর্ধপরিবাহী শিল্প এবং ক্রমবর্ধমান রপ্তানিমুখী অর্থনীতির ওপর ভিত্তি করে অর্জিত প্রবৃদ্ধিকে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক রূপ দেওয়াই হবে তাঁর অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।
এর মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক সুফল যেন শুধু বৃহৎ কর্পোরেশনের হাতে কুক্ষিগত না থেকে বরং তৃণমূল পর্যায়ের ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাসহ সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছায়, সেটি নিশ্চিত করতে তিনি কাজ করবেন।
প্রশাসনিক কাঠামোর দিক থেকে দক্ষিণ কোরিয়া মূলত একটি প্রেসিডেন্ট শাসিত সরকার ব্যবস্থার দেশ। এই ব্যবস্থায় রাষ্ট্রের প্রধান এবং নির্বাহী ক্ষমতার সর্বোচ্চ অধিকারী হলেন প্রেসিডেন্ট নিজে।
সেখানে প্রধানমন্ত্রীর পদটি মূলত প্রশাসনিক সমন্বয় এবং আনুষ্ঠানিক রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে। তা সত্ত্বেও, দেশের অভ্যন্তরীণ নীতি নির্ধারণ, মন্ত্রিপরিষদের কার্যক্রম পরিচালনা এবং বিশেষ করে অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত সংস্কারের ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
প্রযুক্তি খাতের একজন সফল সাবেক শীর্ষ কর্মকর্তা হিসেবে হান সেওংসুকের এই নতুন প্রশাসনিক যাত্রা দক্ষিণ কোরিয়ার ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক সমতা এবং আধুনিকায়নের পথে একটি শক্তিশালী ভিত্তি তৈরি করবে বলে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন।