ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) এবং তাদের আদর্শিক মিত্র রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (আরএসএস) এই তীব্র আন্দোলনকে ভারতের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা ও শান্তি বিনষ্ট করার একটি সুপরিকল্পিত আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র হিসেবে আখ্যায়িত করেছে।
বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের অভিযোগ, নির্দিষ্ট কিছু বিদেশি শক্তি অত্যন্ত সুকৌশলে ভারতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অপচেষ্টা চালাচ্ছে। পাশাপাশি, দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে কোণঠাসা হয়ে পড়া কিছু বিরোধী দলও এই চক্রান্তের সঙ্গে হাত মিলিয়ে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছে বলে দাবি করা হয়েছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের নির্ভরযোগ্য প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিজেপির সাধারণ সম্পাদক তরুণ চুঘ এই আন্দোলনের নেপথ্যে সরাসরি বিদেশি ইন্ধনের গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন।
ক্ষমতাসীন শিবিরের দাবি, সিজেপি-এর প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে দীর্ঘদিন যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করার পর, মূলত শনিবারের কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবি তুলতেই তড়িঘড়ি করে দেশে ফিরে এসেছেন।
ঝাড়খণ্ড সফরে থাকা বিজেপির অন্যতম নেতা নীতিন নবীনও একই ধরনের মনোভাব ব্যক্ত করেছেন। তিনি অত্যন্ত দৃঢ়তার সঙ্গে জানিয়েছেন যে, দেশের বাইরে বসে কোনো বিদেশি শক্তি ভারতের স্বাধীন তরুণ সমাজকে ভুল পথে পরিচালিত করতে পারবে না এবং দেশের সচেতন যুবসমাজ এই ধরনের নেতিবাচক ও ধ্বংসাত্মক রাজনীতিকে সম্পূর্ণভাবে বর্জন করবে।
উল্লেখ্য, গত শনিবারের এই বিক্ষোভে সাধারণ ছাত্রছাত্রী, উদ্বিগ্ন অভিভাবক, চাকরিপ্রার্থী এবং বিভিন্ন বামপন্থি ও সামাজিক সংগঠনের কর্মীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেছিলেন।
ব্যাপক জনসমাগম সত্ত্বেও বিজেপির অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক মূল্যায়নে বলা হচ্ছে যে, এই আন্দোলন শেষ পর্যন্ত কোনো বড় বা প্রভাবশালী রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারবে না।
ক্ষমতাসীন শিবিরের মতে, নির্বাচনী রাজনীতিতে চরমভাবে ব্যর্থ হওয়া রাজনৈতিক দলগুলোই মূলত নিজেদের হারানো অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে এই ঘটনাকে ফুলিয়ে-ফাঁপিয়ে বড় করে দেখানোর মরিয়া চেষ্টা করছে।
এছাড়া, সরকারি পর্যায় থেকে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিও অত্যন্ত স্পষ্টভাবে ও কঠোর ভাষায় নাকচ করে দেওয়া হয়েছে। অতীত দৃষ্টান্ত টেনে সরকারের এক দায়িত্বশীল মন্ত্রী স্পষ্ট করেছেন যে, বর্তমান প্রশাসন কোনো ধরনের অযৌক্তিক রাজনৈতিক চাপের মুখে নতি স্বীকার করে না।
তবে, রাজনৈতিক মহলে এমন একটি জোরালো জল্পনা রয়েছে যে, আগামী মাসের শুরুতে সম্ভাব্য মন্ত্রিসভা রদবদলের সময় শিক্ষামন্ত্রীকে হয়তো কৌশলগত কারণে অন্য কোনো দপ্তরে সরিয়ে দেওয়া হতে পারে।
বর্তমানে ক্ষমতাসীন দল অত্যন্ত নিবিড়ভাবে এই বিক্ষোভকারীদের সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট পর্যালোচনা করছে। দলের রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আন্দোলনকারীরা কেবল শহুরে তরুণ প্রজন্মের একটি অতি ক্ষুদ্র অংশের প্রতিনিধিত্ব করছে।
অপরদিকে, গ্রামীণ এলাকার প্রান্তিক কৃষক ও শ্রমজীবী পরিবারের তরুণরা সরকারের বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের সরাসরি সুফল পেয়ে মোদি সরকারের প্রতিই তাদের অবিচল আস্থা বজায় রেখেছে।
এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই আরএসএস-ঘনিষ্ঠ একটি হিন্দি সাময়িকী এবং তাদের ডিজিটাল মাধ্যমগুলোতে বিক্ষোভের বেশ কিছু খণ্ডিত ভিডিওচিত্র ছড়িয়ে দিয়ে আন্দোলনকারীদের দেশপ্রেম এবং জাতীয়তাবোধ নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তোলা হয়েছে।
একই সঙ্গে, বিক্ষোভে ব্যবহৃত বিভিন্ন স্লোগান ভারতের সার্বভৌমত্ব ও অখণ্ডতার পরিপন্থি কি না, তা অত্যন্ত গভীরভাবে খতিয়ে দেখছে সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা মহল।