চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম সিনহুয়া আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছে যে, সোমবার, ৮ জুন দুপুরে চীনা প্রেসিডেন্টকে বহনকারী বিশেষ বিমানটি পিয়ংইয়ং আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সফলভাবে অবতরণ করেছে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এই সফরটি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে।
বিমানবন্দরে এক আড়ম্বরপূর্ণ ও বর্ণিল আয়োজনের মধ্য দিয়ে চীনা রাষ্ট্রপ্রধানকে বরণ করে নেওয়া হয়। চীনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভির সম্প্রচারিত ভিডিও চিত্রে দেখা যায়, প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং চীনের ফার্স্ট লেডি পেং লিউয়ান যখন বিমান থেকে অবতরণ করেন, তখন উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উন ও তাঁর স্ত্রী রি সল জু করতালি দিয়ে তাঁদের অত্যন্ত উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান।
এ সময় উত্তর কোরিয়ার একদল শিশু চীনা প্রেসিডেন্টকে ফুলেল শুভেচ্ছায় সিক্ত করে। রাষ্ট্রীয় এই অতিথির আগমন উপলক্ষে পিয়ংইয়ংয়ের প্রধান প্রধান সড়কগুলোকে চীনের জাতীয় পতাকা এবং শি জিনপিংয়ের সুবিশাল প্রতিকৃতি দিয়ে অত্যন্ত আকর্ষণীয়ভাবে সাজানো হয়েছে, যা দুই দেশের গভীর বন্ধুত্বের প্রতীক হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
চলতি বছর এটি চীনা প্রেসিডেন্টের প্রথম বিদেশ সফর। মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগেই বেইজিংয়ে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাথে পৃথকভাবে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করার পর তাঁর এই উত্তর কোরিয়া সফর বিশ্বমঞ্চে বিশেষ ভূ-রাজনৈতিক তাৎপর্য বহন করছে।
আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকদের মতে, এই সফরের মাধ্যমে চীন বিশ্বরাজনীতিতে নিজেদের বহুমুখী প্রভাব বিস্তার এবং শীর্ষ মধ্যস্থতাকারী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার প্রয়াসকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে।
সফরের প্রাক্কালে উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে পাঠানো এক বিশেষ বার্তায় শি জিনপিং স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, সময়ের যত পরিবর্তনই হোক বা আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট যতই বদলাক না কেন, চীন ও উত্তর কোরিয়ার মধ্যকার ঐতিহ্যগত বন্ধুত্ব চিরস্থায়ী, অবিচ্ছেদ্য এবং এটি প্রতিনিয়ত নতুন প্রাণশক্তিতে উজ্জীবিত হবে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কিম জং উন এবং ভ্লাদিমির পুতিনের মধ্যে সামরিক সহযোগিতার সম্পর্ক এক অভূতপূর্ব উচ্চতায় পৌঁছালেও, শি জিনপিংয়ের এই সফর বিশ্ববাসীকে স্মরণ করিয়ে দেয় যে উত্তর কোরিয়ার জন্য চীন এখনও সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক চালিকাশক্তি এবং প্রধান কূটনৈতিক মিত্র।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের গভীর পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে যে, উত্তর কোরিয়া মূলত আন্তর্জাতিক অঙ্গনে চীন ও রাশিয়ার মধ্যে একটি অত্যন্ত সূক্ষ্ম কৌশলগত ভারসাম্য বজায় রাখার নীতি নিবিড়ভাবে অনুসরণ করছে।
এর মূল লক্ষ্য হলো কোনো একক শক্তিশালী দেশের ওপর পুরোপুরি নির্ভরশীল না হয়ে উভয় পক্ষের কাছ থেকেই সর্বোচ্চ সামরিক ও অর্থনৈতিক সুবিধা আদায় করা। শি জিনপিংয়ের এই ঐতিহাসিক সফর আঞ্চলিক ভূ-রাজনীতি ও কোরীয় উপদ্বীপের স্থিতিশীলতায় গভীর প্রভাব ফেলবে বলে আন্তর্জাতিক মহল মনে করছে।