মঙ্গলবার, জুন ১৬, ২০২৬
২ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মমতা ব্যানার্জীর বাসভবনের সামনে কুণাল ঘোষকে পচা ডিম নিক্ষেপ, গ্রেপ্তার দুই

আর এন এস আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৬ জুন, ২০২৬, ০৫:৫৭ পিএম

মমতা ব্যানার্জীর বাসভবনের সামনে কুণাল ঘোষকে পচা ডিম নিক্ষেপ, গ্রেপ্তার দুই
ছবি : Collected

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জীর বাসভবনের সামনে তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়ক ও দলীয় মুখপাত্র কুণাল ঘোষের ওপর পচা ডিম নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (১৫ জুন) বিকেলে কলকাতার কালীঘাট এলাকায় এই অনাকাঙ্ক্ষিত হামলার শিকার হন তিনি।

 

এই ঘটনায় রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। মঙ্গলবার কালীঘাট থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে চন্দন ও রবি নামের দুই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে। এর আগে সোমবার রাতেই কুণাল ঘোষ নিজে বাদী হয়ে থানায় একটি আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করেছিলেন।

 

স্থানীয় ও দলীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার সাবেক মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবনে একটি জরুরি বৈঠক ডাকা হয়েছিল। সেই বৈঠকে অংশ নিতে কুণাল ঘোষ সেখানে উপস্থিত হন।

 

তিনি যখন মমতা ব্যানার্জীর বাড়ির মূল ফটকের সামনে এসে দাঁড়ান, ঠিক তখনই হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটের ভেতর থেকে এক যুবক হাতে বেশ কয়েকটি পচা ডিম নিয়ে বেরিয়ে আসে এবং আকস্মিকভাবে তাঁকে লক্ষ্য করে ছুড়তে শুরু করে।

 

নিজেকে রক্ষার জন্য কুণাল ঘোষ মাথা নিচু করলেও ডিমগুলো তাঁর মাথা ও পিঠে আঘাত করে। উপস্থিত গণমাধ্যমকর্মী ও নিরাপত্তারক্ষীরা দ্রুত ওই যুবককে আটকানোর চেষ্টা করেন।

 

গ্রেপ্তারের পর মূল অভিযুক্ত চন্দন সাংবাদিকদের কাছে দাবি করেন, কুণাল ঘোষ অতীতে বহু মানুষের ওপর অত্যাচার করেছেন এবং সেই ক্ষোভ থেকেই তিনি এই কাজ করেছেন।

 

এই অতর্কিত হামলার পর কুণাল ঘোষ অত্যন্ত দৃঢ়তার সঙ্গে তাঁর প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। হামলাকারীদের প্রতি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে তিনি বলেন, একসময় দেড় শতাধিক পুলিশ তাঁকে সামলাতে হিমশিম খেত, সেখানে দু-একটি কুকুর-বেড়ালের মতো হামলাকারী তাঁর কোনো ক্ষতি করতে পারবে না।

 

তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, বোমা বা পাথর ছোড়া হলেও তিনি ওই একই রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করবেন এবং হামলাকারীদের সাহস থাকলে যেন জনসমক্ষে তা করে দেখায়। অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেসের সংসদ সদস্য ও প্রবীণ আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন।

 

তিনি সরাসরি ভারতীয় জনতা পার্টিকে (বিজেপি) দায়ী করে বলেন, বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর অনুসারী ও বিজেপির মদদপুষ্ট গুন্ডাবাহিনীই সাংবাদিকদের সামনে এই হামলা চালিয়েছে।

 

কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় পুলিশের নিষ্ক্রিয়তা নিয়েও চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাঁর অভিযোগ, হামলার সময় পুলিশ কার্যত নীরব দর্শকের মতো নিষ্ক্রিয় দাঁড়িয়ে ছিল, যা রাজ্যের গণতান্ত্রিক পরিবেশকে চরম হুমকির মুখে ফেলেছে।

 

সাম্প্রতিক সময়ে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন প্রান্তে তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা-কর্মীদের লক্ষ্য করে এ ধরনের পচা ডিম ছোড়ার ঘটনা নিয়মিতই ঘটছে। তবে খোদ সাবেক মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবনের মতো একটি অতিগুরুত্বপূর্ণ ও সংরক্ষিত এলাকার সামনে একজন বর্তমান বিধায়কের ওপর এমন হামলার ঘটনা রাজ্যের সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে গভীর প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।