মঙ্গলবার, জুন ১৬, ২০২৬
১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে এনসিপিআই-এর আকস্মিক উত্থান, দলটির শেকড় বাংলাদেশে

আর এন এস আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৫ জুন, ২০২৬, ০৮:৫৬ পিএম

পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে এনসিপিআই-এর আকস্মিক উত্থান, দলটির শেকড় বাংলাদেশে
ছবি : Collected

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে আচমকা উত্থান ঘটেছে ‘ন্যাশনালিস্ট সিটিজেন্স পার্টি অফ ইন্ডিয়া’ বা এনসিপিআই নামের একটি তুলনামূলক অপরিচিত রাজনৈতিক দলের।

 

রোববার ক্ষমতাসীন তৃণমূল কংগ্রেসের ২০ জন বিদ্রোহী সংসদ সদস্য নাটকীয়ভাবে এই দলে যোগ দেওয়ার পর রাজ্য রাজনীতিতে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। তবে এবার এই দলটির উৎপত্তিস্থল ও নেপথ্য কারণ নিয়ে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ তুলেছেন প্রবীণ কংগ্রেস নেতা এবং সাবেক সংসদ সদস্য অধীর রঞ্জন চৌধুরী।

 

তিনি অত্যন্ত দৃঢ়তার সঙ্গে দাবি করেছেন, ত্রিপুরাভিত্তিক হিসেবে পরিচিতি পাওয়া এই রাজনৈতিক দলটির আসলে জন্ম হয়েছে প্রতিবেশী রাষ্ট্র বাংলাদেশে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এতদিন এই দলটির অস্তিত্ব ও কার্যক্রম সম্পর্কে সাধারণ মানুষ খুব একটা অবগত ছিলেন না।

 

কিন্তু সম্প্রতি এনসিপিআই তাদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রকাশ করে দাবি করেছে যে, বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গে তাদের নিজস্ব সংসদ সদস্য সংখ্যা ২০-এ দাঁড়িয়েছে। ওই হিসাব অনুযায়ী, বিজেপির ১২টি, তৃণমূল কংগ্রেসের আটটি এবং কংগ্রেসের মাত্র একটি আসন রয়েছে।

 

অর্থাৎ, মাত্র কয়েক বছর আগে রাজনৈতিক অঙ্গনে আত্মপ্রকাশ করা এনসিপিআই রাতারাতি পশ্চিমবঙ্গের সর্ববৃহৎ সংসদীয় রাজনৈতিক দল হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করার দাবি তুলেছে, যা রাজ্যের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সমীকরণকে সম্পূর্ণ পাল্টে দিয়েছে।

 

সোমবার (১৫ জুন) বহরমপুরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে অধীর চৌধুরী দলটির পটভূমি নিয়ে গভীর সংশয় প্রকাশ করেন।

 

ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের অনুপ্রবেশ বিরোধী কঠোর অবস্থানের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারে এসে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বারবার বাংলাদেশ থেকে অবৈধ অনুপ্রবেশ ইস্যুতে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন।

 

কিন্তু বর্তমানে দেখা যাচ্ছে, কেবল সাধারণ মানুষই নয়, আস্ত একটি রাজনৈতিক দলও অনুপ্রবেশ করে ভারতের অভ্যন্তরে ঢুকে পড়েছে। প্রবীণ এই কংগ্রেস নেতার বিস্ফোরক দাবি, বাংলাদেশে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে চলা রাজনৈতিক আন্দোলনের সময়ই এই দলটির জন্ম হয়েছিল এবং এখন তারা সরাসরি দিল্লিতে পৌঁছে গেছে।

 

এই বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর আরও সতর্ক হওয়া প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন। দলটিকে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, একে ‘সিটিজেন্স’ বা নাগরিকদের দল বলা উচিত নয়, বরং এটি একটি ‘চিটিজেন্স’ বা প্রতারকদের দল, যারা সাধারণ মানুষের সঙ্গে নির্লজ্জ প্রতারণা করেছে।

 

একই সঙ্গে মুর্শিদাবাদ জেলা থেকে তৃণমূল কংগ্রেসের তিনজন সংসদ সদস্যের আকস্মিক দলবদলেরও তীব্র সমালোচনা করেন অধীর রঞ্জন চৌধুরী। বিশেষ করে ক্রিকেটার থেকে রাজনীতিতে আসা ইউসুফ পাঠানের দিকে ইঙ্গিত করে তিনি অভিযোগ করেন যে, অর্থের বিনিময়ে চুক্তির ভিত্তিতে একটি রাজনৈতিক আসরে অংশ নিতে এসেছিলেন তিনি।

 

চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ায় এবং ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণেই তিনি দল বদলের মতো ঝুঁকি এড়িয়ে নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধান করেছেন। অধীরের মতে, আগামী তিন বছর পর তৃণমূল কংগ্রেসের রাজনৈতিক অস্তিত্ব টিকবে কি না বা তারা পুনরায় নির্বাচনে মনোনয়ন পাবেন কি না, সেই ভীতি থেকেই এই সংসদ সদস্যরা ক্ষমতার স্বাদ নিতে নতুন এই দলে ভিড়েছেন।

 

অর্থ, প্রলোভন, ভয় এবং ক্ষমতাসীন দলের সুবিধা ভোগের উদ্দেশ্যে পশ্চিমবঙ্গের নেতাদের এমন দলবদলের সংস্কৃতি রাজ্যের দীর্ঘদিনের সমৃদ্ধ রাজনৈতিক ভাবমূর্তিকে চরমভাবে ক্ষুণ্ন করছে বলে তিনি আক্ষেপ প্রকাশ করেন।

 

- কালবেলা