মঙ্গলবার, জুন ১৬, ২০২৬
১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পাকিস্তান বিমানবাহিনীর যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত, দুর্ঘটনায় দুই পাইলট নিহত

আর এন এস আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৫ জুন, ২০২৬, ০৩:২০ পিএম

পাকিস্তান বিমানবাহিনীর যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত, দুর্ঘটনায় দুই পাইলট নিহত
ছবি: Collected

পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশ খাইবার পাখতুনখোয়ার মারদান জেলায় রুটিন প্রশিক্ষণ চলাকালে পাকিস্তান বিমানবাহিনীর একটি যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়েছে। মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনায় যুদ্ধবিমানটিতে অবস্থানরত দুই বৈমানিকের প্রাণহানি ঘটেছে।

 

সোমবার (১৫ জুন) সকালের দিকে উড্ডয়নের পরপরই এই অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনাটি ঘটে বলে দেশটির সামরিক বাহিনীর আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর বা আইএসপিআর এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতির মাধ্যমে নিশ্চিত করেছে।

 

সামরিক বাহিনীর চৌকস এই দুই কর্মকর্তার মৃত্যুতে দেশজুড়ে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। আইএসপিআর-এর প্রকাশিত আনুষ্ঠানিক বিবৃতি থেকে জানা যায়, নিহত ওই দুই পাইলট হলেন বিমানবাহিনীর ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মুহম্মদ কাসিম আব্দুল্লাহ এবং নৌবাহিনীর লেফটেন্যান্ট তাহা আব্বাসী।

 

সামরিক সূত্রটি আরও জানিয়েছে যে, এটি কোনো বিশেষ সামরিক অভিযান ছিল না; বরং সামরিক বাহিনীর নিয়মিত বা রুটিন প্রশিক্ষণ কর্মসূচির অংশ হিসেবেই বিমানটি আকাশে উড়েছিল।

 

কিন্তু উড্ডয়নের সামান্য কিছুক্ষণ পরই যুদ্ধবিমানটিতে হঠাৎ করে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেয় এবং সেটি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের মারদান জেলার একটি এলাকায় তীব্র বেগে ভূপাতিত হয়।

 

দুর্ঘটনার ভয়াবহতা এতটাই বেশি ছিল যে, ওই দুই বৈমানিক বিমান থেকে নিরাপদে বের হওয়ার কোনো সুযোগই পাননি এবং ঘটনাস্থলেই তারা মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন।

 

একটি নিয়মিত প্রশিক্ষণ ফ্লাইটে ঠিক কী কারণে এবং কোন পরিস্থিতিতে এমন একটি উন্নতমানের সামরিক যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হলো, তার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন করতে পাকিস্তান বিমানবাহিনীর পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

 

আইএসপিআর জানিয়েছে, এই পেশাদার তদন্ত কমিটি দুর্ঘটনার পেছনের সব ধরনের যান্ত্রিক, কারিগরি এবং আবহাওয়াগত কারণগুলো অত্যন্ত গভীরভাবে খতিয়ে দেখবে, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মর্মান্তিক ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ করা সম্ভব হয়।

 

এদিকে, দেশের প্রতিরক্ষায় নিয়োজিত দুই তরুণ ও দক্ষ কর্মকর্তার এমন অকাল মৃত্যুতে পাকিস্তানের সর্বোচ্চ রাজনৈতিক ও সামরিক নেতৃত্ব গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।

 

পাকিস্তানের রাষ্ট্রপতি আসিফ আলী জারদারি এবং প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ আলাদা শোকবার্তায় নিহত পাইলটদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করার পাশাপাশি তাদের শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানিয়েছেন।

 

একই সঙ্গে, পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরও এই দুঃখজনক ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন এবং নিহতদের আত্মার শান্তি কামনা করেছেন।

 

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর বিশ্লেষণে উঠে এসেছে যে, পাকিস্তানে সামরিক বাহিনীর উড়োজাহাজ কিংবা আধুনিক হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হওয়ার মতো ঘটনা খুব একটা বিরল নয়।

 

এর আগে গত সপ্তাহেই পাকিস্তানের আজাদ কাশ্মীর অঞ্চলে কারিগরি ত্রুটির কারণে একটি সামরিক হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনা ঘটেছিল। সেই ভয়াবহ ও হৃদয়বিদারক দুর্ঘটনায় সামরিক বাহিনীর ২২ জন কর্মকর্তা ও সদস্য মর্মান্তিক মৃত্যুবরণ করেছিলেন।

 

অল্প সময়ের ব্যবধানে পরপর এমন দুটি প্রাণঘাতী সামরিক বিমান দুর্ঘটনার পর স্বাভাবিকভাবেই সামরিক যানগুলোর নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ এবং উড্ডয়ন নিরাপত্তার বিষয়টি আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় সচেতন মহলে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

 

- এবিসি নিউজ