একই সঙ্গে এই অত্যন্ত জটিল ও স্পর্শকাতর সংকট নিরসনে প্রধান মধ্যস্থতাকারী রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিবেশী দেশ পাকিস্তানের বলিষ্ঠ ও কার্যকর কূটনৈতিক ভূমিকারও ভূয়সী প্রশংসা করেছে বেইজিং। আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা এএফপির এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার এই সমঝোতাকে বিশ্বশান্তি ও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার ক্ষেত্রে একটি অত্যন্ত ইতিবাচক ও যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে চীনা প্রশাসন।
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান যৌথভাবে ঘোষণা করেছে যে, তারা লেবাননসহ মধ্যপ্রাচ্যের সবকটি যুদ্ধক্ষেত্রে তাৎক্ষণিকভাবে সামরিক সংঘাত বন্ধ করতে এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি পুনরায় সচল করার বিষয়ে একটি দ্বিপাক্ষিক চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছে।
তবে এই সমঝোতার সুদূরপ্রসারী লক্ষ্য ও সাফল্যের কথা বলা হলেও, ইরানের বহুল বিতর্কিত পারমাণবিক কর্মসূচি সংক্রান্ত অত্যন্ত জটিল ও সংবেদনশীল বিষয়গুলোর সমাধান কীভাবে হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত এবং সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য এখন পর্যন্ত আন্তর্জাতিক মহলে পুরোপুরি স্পষ্ট করা হয়নি।
এ নিয়ে বিভিন্ন দেশের কূটনৈতিক মহলে এখনও নানা চুলচেরা বিশ্লেষণ চলছে। এই বিষয়ে চীনের রাজধানী বেইজিংয়ে আয়োজিত নিয়মিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রভাবশালী মুখপাত্র লিন জিয়ান বিশ্ব গণমাধ্যমের সামনে চীনের সুনির্দিষ্ট অবস্থান তুলে ধরেন।
তিনি অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় বলেন, চীন এই ঐতিহাসিক দ্বিপাক্ষিক শান্তি চুক্তিকে আন্তরিকভাবে স্বাগত জানায় এবং এই সংকট নিরসনে ও দুই পক্ষকে আলোচনার টেবিলে ফিরিয়ে আনতে বন্ধুরাষ্ট্র পাকিস্তানের নিরলস কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ও অবদানের গভীর প্রশংসা করে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, বেইজিং গভীরভাবে আশা করছে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো পূর্বনির্ধারিত সময়সূচি এবং প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী অত্যন্ত সফলভাবে এই শান্তি চুক্তিটি স্বাক্ষর করতে সক্ষম হবে।
মুখপাত্র লিন জিয়ান তার বক্তব্যে আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক বাণিজ্যের নিরাপত্তার বিষয়টিও বিশেষ গুরুত্বের সঙ্গে উল্লেখ করেন। তিনি জানান, চীন আশা করে এই সফল রাজনৈতিক সমঝোতার মাধ্যমে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম প্রধান পথ হরমুজ প্রণালী দিয়ে সব ধরনের আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ ও নৌ চলাচল অত্যন্ত দ্রুততম সময়ের মধ্যে নিরাপদ, অবাধ এবং স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে।
আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে চীনের বিশাল অর্থনৈতিক ও কৌশলগত স্বার্থ জড়িয়ে থাকায়, এই অঞ্চলে শান্তি প্রতিষ্ঠা বেইজিংয়ের বৈশ্বিক নীতির জন্য একটি বড় বিজয় হিসেবে গণ্য হচ্ছে। একই সঙ্গে পাকিস্তানের এই সফল মধ্যস্থতা দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক কূটনীতিতেও দেশটির মর্যাদা বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।