হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই ব্যক্তিকে তার স্ত্রী এবং স্ত্রীর প্রেমিক মিলে বিষপ্রয়োগ করে হত্যা করেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। ঘটনাটিকে স্বাভাবিক মৃত্যু হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য তারা হাসপাতালের কর্মী ও ফরেনসিক বিশেষজ্ঞদের একটি বড় চক্রকে বিপুল অর্থের বিনিময়ে হাত করেছিল।
এই সংঘবদ্ধ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিহতের স্ত্রী, তার প্রেমিক এবং চিকিৎসা কর্মকর্তাসহ মোট নয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। পুলিশের তদন্তে জানা যায়, নিহত সন্দীপ মাঞ্জারগি গত ১৩ মার্চ একটি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় সামান্য আহত হন।
প্রথমে তাকে স্থানীয় একটি সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও পরে তার স্ত্রী সুমা মাঞ্জারগি তাকে ঘাটপ্রভার জেজি হাসপাতালে স্থানান্তর করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৫ মার্চ সন্দীপকে মৃত ঘোষণা করা হয়।
হাসপাতালের নথিপত্রে মৃত্যুর কারণ হিসেবে হৃদরোগের কথা উল্লেখ করা হয়েছিল। এমনকি ময়নাতদন্তের প্রাথমিক ফরেনসিক প্রতিবেদনেও দাবি করা হয় যে, তার শরীরে কোনো ধরনের বিষক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
সন্দীপ সম্পূর্ণ সুস্থ ও সবল একজন মানুষ ছিলেন এবং তার আঘাতও গুরুতর ছিল না। তাই এমন আকস্মিক মৃত্যুতে তদন্তকারী কর্মকর্তাদের মনে শুরু থেকেই গভীর সন্দেহের সৃষ্টি হয়। এই রহস্যের জট খোলে সুমার প্রেমিক পুন্ডলিক দোম্বারের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া একটি রহস্যময় বার্তার মাধ্যমে।
সামান্য দুর্ঘটনায় কীভাবে একজন মানুষের মৃত্যু হতে পারে-এমন প্রশ্ন তুলে তিনি একটি পোস্ট দেন, যা পুলিশের নজরে আসে। পুলিশ তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করলে জেরার একপর্যায়ে সে এই পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের সম্পূর্ণ নীলনকশা স্বীকার করে।
তদন্তে বেরিয়ে আসে, পুন্ডলিক এবং সন্দীপ একে অপরের ব্যবসায়িক অংশীদার ছিলেন এবং তারা যৌথভাবে একটি হোটেল পরিচালনা করতেন। এই পরিচয়ের সূত্র ধরেই সন্দীপের স্ত্রী সুমার সঙ্গে পুন্ডলিকের অবৈধ সম্পর্ক গড়ে ওঠে।
সন্দীপের নামে তিনটি ভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে প্রায় দুই কোটি টাকার জীবন বীমা করা ছিল। এই বিপুল অর্থ আত্মসাতের লোভেই তারা সন্দীপকে হত্যার চূড়ান্ত পরিকল্পনা করে। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার সুযোগ নিয়ে সুমা ও পুন্ডলিক স্যালাইনের মাধ্যমে সন্দীপের শরীরে সুকৌশলে বিষপ্রয়োগ করে এবং তাকে মাত্রাতিরিক্ত ঘুমের ওষুধ খাইয়ে দেয়।
হত্যাকাণ্ডকে স্বাভাবিক মৃত্যু হিসেবে সাজাতে এবং ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে যাতে বিষক্রিয়ার কোনো প্রমাণ না আসে, সেজন্য এই চক্রটি তিন লাখ টাকারও বেশি ঘুষ দিয়ে হাসপাতালের চিকিৎসক, ল্যাবরেটরি সহকারী এবং সরকারি ফরেনসিক কর্মকর্তাদের প্রভাবিত করেছিল।
এই জঘন্য অপরাধের সঙ্গে জড়িত থাকায় পুলিশ অভিযান চালিয়ে নিহতের স্ত্রী, প্রেমিক, একজন চিকিৎসক, ফরেনসিক কর্মকর্তা ও সহকারীসহ মোট নয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে।
পাশাপাশি অপরাধে ব্যবহৃত বিষের পাত্র, সিরিঞ্জ ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ আলামত জব্দ করা হয়েছে। লোভ ও প্রতারণার এই নির্মম ঘটনাটি স্থানীয় জনমনে গভীর ক্ষোভ ও বিস্ময়ের জন্ম দিয়েছে।