ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, বিগত এক বছরে ভারত মোট ৩৮ হাজার ৪২৪ কোটি টাকার প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম বিশ্ববাজারে রপ্তানি করেছে, যা দেশটির সামরিক শিল্প খাতের ইতিহাসে সর্বোচ্চ।
ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, সদ্য সমাপ্ত ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এই অভাবনীয় সাফল্য অর্জিত হয়েছে। পূর্ববর্তী অর্থবছরের তুলনায় এই খাতে রপ্তানি আয় অবিশ্বাস্যভাবে ৬২ দশমিক ৬৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা টাকার অঙ্কে গত বছরের চেয়ে প্রায় ১৪ হাজার ৮০২ কোটি টাকা বেশি।
একই অর্থ বছরে ভারতের অভ্যন্তরীণ প্রতিরক্ষা উৎপাদনের পরিমাণও রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে, যার আর্থিক মূল্য ১ দশমিক ৭৮ লক্ষ কোটি টাকা। মন্ত্রণালয়ের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, মোট রপ্তানির অর্ধেকেরও বেশি অর্থাৎ ৫৪ দশমিক ৮৪ শতাংশ এসেছে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিরক্ষা সংস্থাগুলোর (ডিপিএসইউ) মাধ্যমে।
অন্যদিকে, বেসরকারি খাতের অবদান ছিল ৪৫ দশমিক ১৬ শতাংশ। বিশেষ করে, রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর রপ্তানি প্রবৃদ্ধি গত বছরের তুলনায় রেকর্ড ১৫১ শতাংশ বেড়েছে এবং বেসরকারি খাতে এই বৃদ্ধির হার ছিল ১৪ শতাংশ।
এই অভাবনীয় অগ্রগতির নেপথ্যে ভারতের প্রতিরক্ষা খাতের কাঠামোগত পরিবর্তন ও আধুনিক প্রযুক্তিগত উন্নয়ন কাজ করেছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
শীর্ষস্থানীয় প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ‘আর্মোরি’-র প্রতিষ্ঠাতা অমরদীপ সিং এই প্রসঙ্গে জানান, বিশ্বজুড়ে চলমান যুদ্ধবিগ্রহের ধরন এখন দ্রুতগতির এবং চরম মাত্রায় প্রযুক্তিনির্ভর হয়ে উঠেছে।
ড্রোন, সাইবার ব্যবস্থা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর নজরদারি এবং ইলেকট্রনিক যুদ্ধ সরঞ্জামের ক্রমবর্ধমান চাহিদার এই যুগে স্বনির্ভরতা অর্জন কেবল একটি কৌশলগত সিদ্ধান্ত নয়, বরং সময়ের জাতীয় প্রয়োজনে পরিণত হয়েছে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, নকশা তৈরি, প্রকৌশলবিদ্যা, সফটওয়্যার ও সেন্সর প্রযুক্তির মতো প্রতিটি স্তরেই ভারত এখন নিজস্ব উদ্ভাবনী সক্ষমতার বহিঃপ্রকাশ ঘটাচ্ছে। পরবর্তী ধাপে ভারতের লক্ষ্য হবে আরও উন্নত প্রযুক্তির উন্মেষ ঘটানো।
অনুরূপভাবে কৃষ্ণা ডিফেন্স অ্যান্ড অ্যালাইড ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক অঙ্কুর শাহ এই রেকর্ড উৎপাদন ও রপ্তানিকে ভারতের অভ্যন্তরীণ গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে শক্তিশালী অবস্থানের বড় প্রমাণ হিসেবে দেখছেন।
বিগত পাঁচ বছরের সরকারি পরিসংখ্যান পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, ভারতের প্রতিরক্ষা রপ্তানি আয় প্রায় তিনগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২২ সালেও যেখানে এই খাতের মোট আয় ছিল ১২ হাজার ৮০০ কোটি টাকা, তা বর্তমানে ৩৮ হাজার কোটি টাকার গৌরবময় ঘর অতিক্রম করেছে।
বিশ্ববাজারের এই নতুন সমীকরণ ও ক্রমবর্ধমান প্রবৃদ্ধি ভারতকে আন্তর্জাতিক স্তরে একটি বড় অর্থনৈতিক ও সামরিক শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে।