গত মঙ্গলবার গভীর রাতে রাজ্যের সোনহাট থানা এলাকার নওগাইন গ্রামে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। নিহত ওই বিজেপি নেতার নাম ভরত সিং, যিনি এলাকায় ‘লল্লা সিং’ নামেও পরিচিত ছিলেন এবং তিনি সাবেক জনপদ পঞ্চায়েত সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
স্থানীয় পুলিশ ও ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিরোধ মীমাংসার উদ্দেশ্যে ভরত সিং ও তার সঙ্গীরা একটি গাড়িতে করে ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন। কিন্তু সেখানে আগে থেকেই ওঁত পেতে থাকা দুর্বৃত্তরা তাদের পরিকল্পিত ফাঁদে ফেলে।
এই হামলায় ভরত সিংয়ের গাড়িটিকে সামনে ও পেছন থেকে ভারী যান দিয়ে আটকে দিয়ে পালানোর সব পথ সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া হয়। এরপর গাড়িটিতে দাহ্য পদার্থ ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।
আগুন নিভে যাওয়ার পর ভস্মীভূত গাড়িটি থেকে তিনজনের দগ্ধ মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত অপর দুজন হলেন বীরেন্দ্র সিং এবং ভরত সিংয়ের চাচাতো ভাই পেশায় শিক্ষক নাগেন্দ্র সিং।
প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, এই মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের মূল কারণ হলো বালু খনির ইজারা ও পরিবহন নিয়ে দীর্ঘদিনের ব্যবসায়িক ও রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব। ভরত সিংয়ের পরিবারের কাছে ওই এলাকার বালু খনির ইজারা ছিল।
অন্যদিকে, অপর বিজেপি নেতা মনোজ ত্রিপাঠীর পরিবারের মালিকানাধীন ভারী ট্রাকগুলো বৈকুণ্ঠপুর এলাকায় বালু পরিবহনের কাজে নিযুক্ত ছিল। এই বালু পরিবহন এবং খনি কার্যক্রম থেকে অর্থ আদায়ের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সোনহাটসহ আশপাশের বেশ কয়েকটি গ্রামে দুই পক্ষের মধ্যে কয়েক মাস ধরে তীব্র উত্তেজনা চলছিল।
শুরুতে এটি নিছক ব্যবসায়িক বিরোধ থাকলেও, ধীরে ধীরে তা স্থানীয় আধিপত্য ও প্রভাব বিস্তারের প্রাণঘাতী লড়াইয়ে রূপ নেয়, যার চরম পরিণতি এই হত্যাকাণ্ড। এই নৃশংস ঘটনার পর স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
নিহতদের পরিবারের পক্ষ থেকে দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ ইতোমধ্যে হত্যা ও হত্যাচেষ্টাসহ একাধিক গুরুতর ধারায় নয়জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে। পুলিশি অভিযান চালিয়ে অক্ষত ত্রিপাঠী, বিশাল ত্রিপাঠী, সত্যপ্রকাশ ত্রিপাঠী এবং মান্নু ত্রিপাঠী নামের চার অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
হত্যাকাণ্ডে জড়িত পলাতক বাকি আসামিদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে পুলিশের চিরুনি তল্লাশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে। মর্মান্তিক এই ঘটনাটি সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে গভীর উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।