বৃহস্পতিবার, জুন ১৮, ২০২৬
৪ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাংলাদেশ ও পাকিস্তানে হামাসের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করছে ইসরায়েল, রাষ্ট্রদূতের দাবি

আর এন এস আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৮ জুন, ২০২৬, ০৭:৩৩ পিএম

বাংলাদেশ ও পাকিস্তানে হামাসের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করছে ইসরায়েল, রাষ্ট্রদূতের দাবি
ছবি : Collected

ভারতে নিযুক্ত ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূত রিউভেন আজার দাবি করেছেন যে, বাংলাদেশ ও পাকিস্তানে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাসের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

 

গত বছরের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামাসের আকস্মিক হামলার পর থেকে দক্ষিণ এশিয়ার এই দুই দেশে গোষ্ঠীটির সম্ভাব্য তৎপরতার ওপর ইসরায়েল গভীর নজরদারি রাখছে বলেও তিনি উল্লেখ করেছেন।

 

বুধবার ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির জ্যেষ্ঠ নির্বাহী সম্পাদক আদিত্য রাজ কাউলকে দেওয়া এক বিশেষ ও বিস্তৃত সাক্ষাৎকারে তিনি এই বিস্ফোরক দাবি করেন।

 

মধ্যপ্রাচ্যের গণ্ডি পেরিয়ে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানে চরমপন্থী প্রভাব বিস্তারের সম্ভাবনা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এই জ্যেষ্ঠ ইসরায়েলি কূটনীতিক। বিশেষ করে আঞ্চলিক কূটনীতিতে পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকারী হিসেবে অবতীর্ণ হওয়ার সাম্প্রতিক প্রচেষ্টাকে তিনি চরম সংশয়ের চোখে দেখছেন।

 

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরিতে ইসলামাবাদের উদ্যোগ প্রসঙ্গে রিউভেন আজার স্পষ্টভাবে জানান যে, ইসরায়েল কোনোভাবেই পাকিস্তানকে বিশ্বাস করে না।

 

তিনি অভিযোগ করেন, পাকিস্তান একদিকে আঞ্চলিক শান্তি প্রক্রিয়ায় নিজেকে সম্পৃক্ত করার চেষ্টা করছে, অন্যদিকে কট্টরপন্থী গোষ্ঠীগুলোকে মদত জোগানো এবং অস্থিতিশীলতা তৈরির মতো গুরুতর অভিযোগে বিদ্ধ হচ্ছে।

 

চরমপন্থা মোকাবিলায় ইসলামাবাদের সদিচ্ছা নিয়ে প্রশ্ন তোলার পাশাপাশি আঞ্চলিক ভূ-রাজনীতিতে কাতারের ভূমিকারও কঠোর সমালোচনা করেন তিনি। আজার মন্তব্য করেন, বিশ্বের কিছু দেশ এমন এক শান্তি ব্যবস্থার কথা ভাবে, যেখানে ইসরায়েলের কোনো অস্তিত্বই থাকবে না, যা ইসরায়েলের শান্তির সংজ্ঞার সঙ্গে একেবারেই সাংঘর্ষিক।

 

সাক্ষাৎকারে রাষ্ট্রদূতের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দাবিটি আবর্তিত হয়েছে হামাসের বৈশ্বিক নেটওয়ার্ককে ঘিরে। আজারের মতে, প্রকাশ্যে আসা বিভিন্ন গোয়েন্দা তথ্যের পাশাপাশি এমন অনেক কার্যক্রম থাকতে পারে, যা এখনও জনসমক্ষে আসেনি।

 

বাংলাদেশ ও পাকিস্তানে হামাসের গতিবিধির ওপর নজর রাখার বিষয়টি নিশ্চিত করে তিনি সতর্ক করে দেন যে, চরমপন্থী সংগঠনগুলো ৭ অক্টোবরের হামলাকে তাদের ভবিষ্যৎ কার্যক্রমের একটি অনুকরণীয় মডেল হিসেবে গ্রহণ করতে পারে।

 

এ ধরনের বিপজ্জনক পরিস্থিতি দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর সরকারগুলোর জন্য চরম উদ্বেগের কারণ হওয়া উচিত বলে তিনি মনে করেন। তিনি আরও জানান যে, চরমপন্থী নেটওয়ার্কের এই সম্ভাব্য বিস্তার একটি বড় ধরনের নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ এবং ইসরায়েল ইতোমধ্যেই তাদের এই গভীর উদ্বেগের বিষয়টি ভারতীয় কর্তৃপক্ষকে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করেছে।

 

এছাড়া, পাকিস্তানের শাসনব্যবস্থার একটি অংশের বিরুদ্ধে ইহুদি-বিদ্বেষী মনোভাব উসকে দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন রিউভেন আজার। পাকিস্তানি কর্মকর্তাদের কিছু বিতর্কিত মন্তব্যের সূত্র ধরে তিনি জানান, এ ধরনের দায়িত্বহীন বক্তব্য ইসরায়েল ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার প্রতি ইসলামাবাদের দৃষ্টিভঙ্গির কোনো ইতিবাচক পরিবর্তনের ওপর আস্থা রাখার পথ রুদ্ধ করে দেয়।

 

পরিশেষে, ইরানকে কেন্দ্র করে চলমান বৈশ্বিক কূটনৈতিক প্রচেষ্টা প্রসঙ্গে তিনি মন্তব্য করেন যে, তেহরানকে যুক্ত করে যেকোনো ধরনের আন্তর্জাতিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হলে তা যেন অবশ্যই ইসরায়েলের নিরাপত্তা উদ্বেগ ও আঞ্চলিক হুমকিগুলোর যথাযথ সমাধান নিশ্চিত করে।

 

- এনডিটিভি