শনিবার, জুন ২০, ২০২৬
৫ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সামরিক সক্ষমতা বাড়াতে ব্রহ্মস ক্ষেপণাস্ত্রকে হাইপারসনিক করছে ভারত ও রাশিয়া

আর এন এস আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৯ জুন, ২০২৬, ০৩:০৩ পিএম

সামরিক সক্ষমতা বাড়াতে ব্রহ্মস ক্ষেপণাস্ত্রকে হাইপারসনিক করছে ভারত ও রাশিয়া
ছবি : Collected

ভারত ও রাশিয়ার যৌথ উদ্যোগে নির্মিত এবং বিশ্বজুড়ে বহুল আলোচিত সামরিক প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম 'ব্রহ্মস' ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রকে এবার শব্দের চেয়ে পাঁচগুণ বা তারও বেশি দ্রুতগতির 'হাইপারসনিক' স্তরে উন্নীত করার কৌশলগত প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

 

ভারতে নিযুক্ত রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত ডেনিস অ্যালিপভ সম্প্রতি এই গুরুত্বপূর্ণ ও দূরগামী সিদ্ধান্তের কথা গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন। একটি শীর্ষস্থানীয় গণমাধ্যমকে দেওয়া বিশেষ সাক্ষাৎকারে রুশ রাষ্ট্রদূত জানান, প্রস্তাবিত এই নতুন সংস্করণটি আগের তুলনায় আকারে কিছুটা ছোট এবং ওজনে তুলনামূলকভাবে হালকা হবে।

 

তবে গঠনগত পরিবর্তন সত্ত্বেও এর বিধ্বংসী ক্ষমতা এবং কার্যকারিতায় কোনো কমতি হবে না, বরং এই আধুনিকায়ন ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীর বহুমাত্রিক ও দূরপাল্লার আঘাত হানার সক্ষমতাকে উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করবে।

 

দুই দেশের প্রতিরক্ষা খাতের এই যৌথ আধুনিকীকরণ প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হলো ভারতীয় স্থল, নৌ এবং বিমানবাহিনীর জন্য বর্ধিত পাল্লা ও অত্যাধুনিক গতিবেগ সম্পন্ন ক্ষেপণাস্ত্রের নিয়মিত সরবরাহ নিশ্চিত করা।

 

রাশিয়ার সামরিক বাহিনী ইতিমধ্যেই তাদের নিজস্ব পরিচালনায় নতুন প্রজন্মের হাইপারসনিক 'ব্রহ্মস মার্ক-২' ক্ষেপণাস্ত্রের ব্যবহার শুরু করেছে। এখন মস্কোর উন্নত প্রযুক্তিগত সহায়তায় এই অত্যাধুনিক প্রতিরক্ষামূলক অস্ত্রটি ভারতের মাটিতেও যৌথভাবে উৎপাদন করার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা করছে নয়াদিল্লি।

 

বর্তমানে ভারতীয় সেনাবাহিনীর অস্ত্রাগারে থাকা 'ব্রহ্মস মার্ক-১' সংস্করণের কার্যকারী পাল্লা ৪৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত সীমাবদ্ধ হলেও, নতুন নকশার 'ব্রহ্মস মার্ক-২' সংস্করণটি ৮০০ কিলোমিটারেরও বেশি দূরের সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে নিখুঁতভাবে আঘাত হানতে সক্ষম হবে।

 

এই প্রযুক্তির সবচেয়ে বড় কৌশলগত বৈশিষ্ট্য হলো, এটি অত্যন্ত উচ্চগতির কারণে শত্রুপক্ষের যেকোনো আধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে সতর্ক হওয়ার বা প্রতিরক্ষামূলক পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ না দিয়েই চোখের পলকে নিখুঁত আঘাত নিশ্চিত করতে পারে।

 

ক্ষেপণাস্ত্রটির সফল প্রথম পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণের পঁচিশতম বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত একটি বিশেষ অনুষ্ঠানে ডেনিস অ্যালিপভ উল্লেখ করেন যে, সূচনালগ্ন থেকেই ধারাবাহিক আধুনিকীকরণের মধ্য দিয়ে গেছে এই যৌথ প্রতিরক্ষা প্রকল্প।

 

প্রাথমিকভাবে এটি কেবল স্থলবাহিনীর ব্যবহারের জন্য তৈরি করা হলেও, পরবর্তী সময়ে যুদ্ধজাহাজ, ডুবোজাহাজ এবং যুদ্ধবিমান থেকে উৎক্ষেপণযোগ্য একাধিক আধুনিক সংস্করণ অত্যন্ত সফলতার সাথে প্রস্তুত করা হয়েছে।

 

রাশিয়া এই হাইপারসনিক সংস্করণের যৌথ উৎপাদনের ক্ষেত্রে নয়াদিল্লিকে প্রয়োজনীয় সমস্ত রকম প্রযুক্তিগত সহায়তা প্রদানের আনুষ্ঠানিক আশ্বাস দিয়েছে। ভারতের ঐতিহ্যবাহী ব্রহ্মপুত্র এবং রাশিয়ার মস্কোভা নদীর নাম মিলিয়ে নামকরণ করা এই ক্ষেপণাস্ত্রটি মূলত ভারতের প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থা (ডিআরডিও) এবং রাশিয়ার এনপিও মাশিনোস্ট্রোয়েনিয়ার যৌথ অংশীদারিত্বের একটি সফল নিদর্শন।

 

বর্তমানে দুই দেশের সামরিক বাহিনীতে ব্যবহৃত এই ক্ষেপণাস্ত্রের সুপারসনিক সংস্করণটি শব্দের প্রায় তিনগুণ গতিতে চলতে পারে এবং এটি প্রচলিত বিস্ফোরকের পাশাপাশি পারমাণবিক যুদ্ধাস্ত্র বহনেও সমানভাবে সক্ষম।

 

- দ্য ইকোনমিক টাইমস