শনিবার সকালে সারিনা বিবি নামের সাঁইত্রিশ বছর বয়সী ওই নারীকে তার নিজ বাসভবন থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশের দাবি, গত বৃহস্পতিবার ফলতা থানায় হামলা এবং পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের মূল পরিকল্পনাকারী ছিলেন তিনি।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তথ্যমতে, গত আট জুন নেপাল সীমান্ত হয়ে পালানোর সময় গ্রেপ্তার হন তৃণমূল কংগ্রেসের স্থানীয় নেতা জাহাঙ্গীর খান।
এরপর থেকে তিনি ফলতা থানার হেফাজতে বন্দি রয়েছেন। পুলিশি হেফাজতে থাকার সময় তাকে কোমরে দড়ি বেঁধে ফলতার প্রকাশ্য রাস্তায় ঘোরানো হয়। মূলত এই ঘটনার প্রতিশোধ নিতেই ক্ষুব্ধ সারিনা বিবি তার স্বামীর উগ্র সমর্থকদের সংঘবদ্ধ করে থানায় আকস্মিক হামলা চালান বলে তদন্তকারী কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
তাদের মূল লক্ষ্য ছিল জোরপূর্বক হাজতখানা ভেঙে জাহাঙ্গীর খানকে মুক্ত করা। এই নজিরবিহীন হামলার ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
ফলতা এলাকায় আয়োজিত এক জনসভায় তিনি এই সহিংস ঘটনার কঠোর নিন্দা জানান। পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, সারিনা বিবির বিরুদ্ধে রাষ্ট্রবিরোধী কার্যকলাপের মতো গুরুতর ধারায় মামলা দায়ের করার জন্য।
মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, যারা আইন নিজেদের হাতে তুলে নেওয়ার চেষ্টা করবে, তাদের সমস্ত সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করাসহ কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। রাজ্যে যেকোনো মূল্যে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় সরকার বদ্ধপরিকর।
উল্লেখ্য, গ্রেপ্তারকৃত জাহাঙ্গীর খান তৃণমূল কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে রাজনৈতিক মহলে পরিচিত। ডায়মন্ড হারবার লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত ফলতা অঞ্চলে তার বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক সন্ত্রাস ও আধিপত্য বিস্তারের বিস্তর অভিযোগ রয়েছে।
গত বিধানসভা নির্বাচনের সময় একজন জ্যেষ্ঠ পুলিশ কর্মকর্তার সঙ্গে প্রকাশ্য দ্বন্দ্বে জড়িয়ে তিনি দেশজুড়ে সমালোচনার জন্ম দিয়েছিলেন। সে সময় ফলতা কেন্দ্রে ব্যাপক ভোট কারচুপির সুনির্দিষ্ট অভিযোগ উঠলে ভারতের নির্বাচন কমিশন ওই কেন্দ্রের নির্বাচন সম্পূর্ণ বাতিল করতে বাধ্য হয়।
ওই নির্বাচনে জাহাঙ্গীর খান তৃণমূল কংগ্রেসের মনোনীত প্রার্থী ছিলেন এবং স্থানীয়ভাবে নিজেকে দক্ষিণী চলচ্চিত্র 'পুষ্পা'-এর আদলে প্রভাবশালী হিসেবে জাহির করতেন। তবে নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে পুনরায় ভোটগ্রহণের ঠিক আগমুহূর্তে নাটকীয়ভাবে তিনি নিজের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নেন।
ফলশ্রুতিতে সেখানে ভারতীয় জনতা পার্টি ঐতিহাসিক জয় লাভ করে। নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের হুমকি প্রদান এবং ভোট জালিয়াতির চেষ্টার অভিযোগে তিনি ভারতের কেন্দ্রীয় আর্থিক দুর্নীতি তদন্তকারী সংস্থার কড়া নজরদারিতে ছিলেন।