নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার চাদরে মোড়া এই বিশাল জনসভার মঞ্চ থেকে প্রধানমন্ত্রী রেল এবং কৃষি খাতের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বৃহৎ প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।
তবে তাঁর ভাষণের মূল আকর্ষণ ছিল অবিভক্ত বাংলার ইতিহাস, সীমান্ত পরিস্থিতি এবং বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি তীব্র আক্রমণাত্মক বার্তা। ইতিহাসের পাতা থেকে দৃষ্টান্ত টেনে নরেন্দ্র মোদি বলেন, ব্রিটিশ শাসনাধীন ভারতে অবিভক্ত বাংলা সীমাহীন অত্যাচার, বঞ্চনা ও বলিদানের নির্মম সাক্ষী হয়েছে।
১৯৪৬ সালে কলকাতায় সংঘটিত ভয়াবহ দাঙ্গা এবং নোয়াখালীর মর্মান্তিক সহিংসতার কথা স্মরণ করে তিনি অভিযোগ করেন, সেই অস্থির সময়ে সম্পূর্ণ বাংলাকে ভারত থেকে বিচ্ছিন্ন করে পাকিস্তানের অন্তর্ভুক্ত করার এক সুদূরপ্রসারী ষড়যন্ত্র রচিত হয়েছিল।
প্রধানমন্ত্রীর দাবি, তৎকালীন কংগ্রেস নেতৃত্ব এই দেশবিরোধী চক্রান্তকারীদের কাছে কার্যত আত্মসমর্পণ করেছিল। তবে সেই সংকটময় মুহূর্তে ডক্টর শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের দৃঢ় নেতৃত্ব ও আপসহীন ঐতিহাসিক সংগ্রামের ফলেই চক্রান্তটি সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়।
তাঁর একক প্রচেষ্টাতেই এই ভূখণ্ডের মানুষ নিজেদের অধিকার ফিরে পান এবং পশ্চিমবঙ্গ ভারতের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে সক্ষম হয়। এই সাহসী পদক্ষেপের কারণেই বাংলার হাজার বছরের সমৃদ্ধ সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সুরক্ষিত রয়েছে বলে তিনি দৃঢ়ভাবে মত প্রকাশ করেন।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে পূর্ববর্তী সরকারগুলোর অত্যন্ত কড়া সমালোচনা করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি স্পষ্ট ভাষায় অভিযোগ করেন, কংগ্রেস সুকৌশলে ইতিহাসকে বিকৃত করার পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গ দিবসকে সাধারণ মানুষের স্মৃতি থেকে মুছে ফেলার চেষ্টা চালিয়েছে।
এরপর বামফ্রন্ট এবং সর্বশেষ তৃণমূল কংগ্রেস দশকের পর দশক ধরে শাসন ক্ষমতায় থেকে সমগ্র রাজ্যটিকে অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের একটি নিরাপদ অভয়ারণ্যে পরিণত করেছিল।
পূর্বতন তৃণমূল সরকারের শাসনকালে রাজ্যের সার্বিক পরিস্থিতির অবনতির কারণে শিল্পপতিরা রাজ্য ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছিলেন বলে উল্লেখ করে তিনি জানান, বর্তমানে রাজ্যে নতুন সরকার প্রতিষ্ঠার ফলে সম্পূর্ণ দৃশ্যপট বদলে গেছে।
বাংলার বাতাসে এখন নতুন সুবাস বইছে এবং সাধারণ মানুষ নিজেদের সাংবিধানিক অধিকার ফিরে পাওয়ায় রাজ্যটি দ্রুত তার হারানো গৌরব পুনরুদ্ধার করতে শুরু করেছে।
বাংলাদেশ সীমান্ত পরিস্থিতি ও জাতীয় নিরাপত্তা নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় জমি হস্তান্তরের প্রক্রিয়াটি পূর্বতন রাজ্য সরকার উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বছরের পর বছর ধরে আটকে রেখেছিল।
কিন্তু রাজ্যে নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পরপরই সেই থমকে থাকা কাজ অত্যন্ত দ্রুতগতিতে শুরু হয়েছে। উল্লেখ্য, ১৯৪৭ সালের ২০ জুন স্বাধীন ভারতের অংশ হিসেবে যুক্ত হওয়ার ঐতিহাসিক প্রস্তাবটি পশ্চিমবঙ্গের প্রাদেশিক আইনসভায় আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদিত হয়েছিল, যার নেপথ্যে প্রধান কারিগর ছিলেন ডক্টর শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়।
পূর্বতন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার পয়লা বৈশাখকে পশ্চিমবঙ্গ দিবস হিসেবে পালন করে আসছিল। তবে ক্ষমতার পটপরিবর্তনের পর বর্তমান রাজ্য সরকার ঐতিহাসিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ ২০ জুন তারিখটিকেই আনুষ্ঠানিকভাবে ‘পশ্চিমবঙ্গ দিবস’ হিসেবে উদ্যাপনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।