রবিবার, জুন ২১, ২০২৬
৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ভারতে ৪৫ দিনে ২৩টির বেশি মসজিদ-মাদরাসা উচ্ছেদ করলো বিজেপি সরকার

আর এন এস আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ২১ জুন, ২০২৬, ০৭:৫৩ পিএম

ভারতে ৪৫ দিনে ২৩টির বেশি মসজিদ-মাদরাসা উচ্ছেদ করলো বিজেপি সরকার
ছবি : Collected

ভারতে গত দেড় মাসে অন্তত ২৩টিরও বেশি মসজিদ, মাদরাসা, ঈদগাহ এবং দরগাহ আংশিক বা সম্পূর্ণভাবে ভেঙে ফেলার ঘটনা ঘটেছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ‘মুসলিম মিরর’-এর সাম্প্রতিক এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে এই উদ্বেগজনক তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।

 

প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, উচ্ছেদ ও ভাঙচুরের এসব ঘটনার সিংহভাগই ভারতের ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টি বা বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলোতে সংঘটিত হয়েছে।

 

এই ঘটনাগুলোকে কেন্দ্র করে দেশটিতে সংখ্যালঘু মুসলিম সম্প্রদায় এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলোর মাঝে গভীর উদ্বেগ ও তীব্র অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে।

 

স্থানীয় প্রশাসন ও সরকারি কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে, অবৈধভাবে সরকারি জমি দখলমুক্ত করা, অনুমোদনহীন স্থাপনা অপসারণ এবং বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক নগর উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের নিয়মিত কার্যক্রমের অংশ হিসেবেই দেশজুড়ে এই উচ্ছেদ অভিযানগুলো পরিচালনা করা হয়েছে।

 

প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা বারবার আশ্বস্ত করার চেষ্টা করেছেন যে, এসব প্রশাসনিক পদক্ষেপ কোনো নির্দিষ্ট ধর্মীয় গোষ্ঠীকে লক্ষ্য করে গ্রহণ করা হয়নি। কিন্তু স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষেরা প্রশাসনের এই দাবি দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করেছেন।

 

তাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে ওই সব এলাকায় প্রতিষ্ঠিত এবং ধর্মীয় ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের প্রাণকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসা প্রাচীন স্থাপনাগুলোকেও সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এই অভিযানের আওতায় এনে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

 

আকস্মিক এই উচ্ছেদ অভিযানের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার সাধারণ মানুষের মাঝে ব্যাপক উৎকণ্ঠা ও ক্ষোভের জন্ম নিয়েছে। মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা এই চলমান পরিস্থিতিকে অত্যন্ত সংবেদনশীল ও উদ্বেগজনক হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।

 

তারা বলেছেন, আইন প্রয়োগ এবং তথাকথিত উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনার সময় ধর্মীয় স্থাপনাগুলোর ঐতিহাসিক গুরুত্ব ও মানুষের অনুভূতির প্রতি ন্যূনতম সংবেদনশীলতা প্রদর্শন করা হয়নি।

 

তারা অবিলম্বে এসব উচ্ছেদ অভিযানের একটি সম্পূর্ণ স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্ত, সংশ্লিষ্ট দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনা এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের যথাযথ পুনর্বাসনের জোর দাবি জানিয়েছেন।

 

মানবাধিকার সংগঠন এবং সংখ্যালঘু অধিকার নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক মহলও এই সার্বিক পরিস্থিতিতে গভীর শঙ্কা প্রকাশ করেছে। তারা মনে করেন, ধারাবাহিকভাবে এ ধরনের উচ্ছেদ কার্যক্রম একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সংখ্যালঘুদের সাংবিধানিক অধিকারকে চরমভাবে হুমকির মুখে ফেলে দেয়।

 

এই ঘটনাপ্রবাহ বর্তমানে ভারতের জনপরিসরে একটি নতুন ও সুদীর্ঘ বিতর্কের সূচনা করেছে। সমাজের একাংশ যেখানে প্রশাসনের কঠোর আইন প্রয়োগ ও উন্নয়নমূলক উদ্যোগের পক্ষে শক্ত অবস্থান গ্রহণ করেছে, ঠিক সেখানেই আরেকটি বড় অংশ সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর মৌলিক অধিকার, নিরাপত্তা ও ধর্মীয় স্বাধীনতার প্রশ্নটি অত্যন্ত জোরালোভাবে সামনে নিয়ে আসছে।

 

- মুসলিম মিরর