বুধবার, জুন ২৪, ২০২৬
১০ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাংলাদেশে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর প্রথমবার ভারত থেকে আসছে যাত্রীবাহী ট্রেন

আর এন এস আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৪ জুন, ২০২৬, ০৫:৩৭ পিএম

বাংলাদেশে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর প্রথমবার ভারত থেকে আসছে যাত্রীবাহী ট্রেন
ছবি : Collected

বাংলাদেশে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের পতনের পর প্রথমবারের মতো প্রতিবেশী দেশ ভারত থেকে যাত্রীবাহী ট্রেনের বগি বাংলাদেশে আসতে যাচ্ছে। আগামী জুলাই মাসের মধ্যেই এই বগিগুলো বাংলাদেশে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।

 

বুধবার, ২৪ জুন ভারতের প্রভাবশালী গণমাধ্যম দ্য ইকোনমিক টাইমস এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশ করেছে। প্রতিবেদনটিতে দুই দেশের মধ্যকার রেল যোগাযোগ খাতের এই নতুন অগ্রগতিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তুলে ধরা হয়েছে, যা দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক যোগাযোগ ব্যবস্থার ক্ষেত্রে একটি উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

 

ভারতের রেলওয়ের রপ্তানি বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে যে, চুক্তি অনুযায়ী প্রথম চালানের ২০টি ব্রডগেজ যাত্রীবাহী ট্রেনের বগি আগামী জুলাই মাসে বাংলাদেশে পাঠানোর জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত করা হয়েছে।

 

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সম্পাদিত একটি দ্বিপাক্ষিক চুক্তির আওতায় মোট ৯১৫ কোটি ভারতীয় রুপির বিনিময়ে ২০০টি ব্রডগেজ বগি কেনার সিদ্ধান্ত হয়েছিল। আগামী মাসে যে ২০টি বগি বাংলাদেশে আসবে, তা মূলত ওই বড় চুক্তিরই একটি প্রাথমিক অংশ।

 

এই বিশাল রেল অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পে প্রয়োজনীয় অর্থায়ন করছে ইউরোপীয় বিনিয়োগ ব্যাংক। এর আগে, ২০২৪ সালের মে মাসে একটি উন্মুক্ত আন্তর্জাতিক দরপত্রের মাধ্যমে অত্যন্ত প্রতিযোগিতামূলক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে ভারত এই যাত্রীবাহী বগি নির্মাণের কার্যাদেশ লাভ করেছিল।

 

ভারতীয় রেলওয়ের একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এই প্রকল্পের বর্তমান অগ্রগতি সম্পর্কে বিস্তারিত জানিয়ে বলেছেন যে, বর্তমান চুক্তির আওতায় বগিগুলোর প্রথম বহরটি আগামী জুলাই মাসের নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই চূড়ান্তভাবে প্রস্তুত হয়ে যাবে।

 

বর্তমানে বাংলাদেশের রেল কর্তৃপক্ষের কাছে এই উন্নতমানের বগিগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করার জন্য যাবতীয় প্রশাসনিক ও কারিগরি প্রস্তুতি গ্রহণ করা হচ্ছে। এই আধুনিক এবং দীর্ঘস্থায়ী যাত্রীবাহী বগিগুলো ভারতের পাঞ্জাব রাজ্যের কাপুরথালায় অবস্থিত উন্নত রেল বগি কারখানায় অত্যন্ত সতর্কতার সাথে তৈরি করা হচ্ছে।

 

এই কারখানাটি তাদের উন্নত নির্মাণশৈলী এবং গুণগত মানের জন্য আন্তর্জাতিকভাবে সুপরিচিত। দ্য ইকোনমিক টাইমস তাদের প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করেছে যে, ২০২৪ সালে বাংলাদেশে ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থান এবং পরবর্তী রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর ভারতের বাণিজ্যিক রপ্তানির ক্ষেত্রে একধরনের সাময়িক অনিশ্চয়তা ও ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছিল।

 

বিশেষ করে দুই দেশের নতুন রাজনৈতিক ও কৌশলগত সমীকরণ কেমন হবে, তা নিয়ে কূটনৈতিক মহলে নানামুখী আলোচনার সৃষ্টি হয়। ভারতীয় রেলের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে শাসনব্যবস্থার এই আমূল পরিবর্তনের পর এই বিশেষ প্রকল্পের কাজের গতি সাময়িকভাবে বেশ ধীর হয়ে পড়েছিল এবং সামগ্রিক রপ্তানি প্রক্রিয়া কিছুটা স্তিমিত হয়ে গিয়েছিল।

 

তবে সমস্ত রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক প্রতিবন্ধকতা কাটিয়ে বর্তমানে এই প্রকল্পের কাজ পুনরায় গতিশীল হয়েছে এবং পূর্বনির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী কাজ এগিয়ে চলছে। এই ২০টি নতুন বগি বাংলাদেশে সফলভাবে পৌঁছানোর মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক রেল সামগ্রী আদান-প্রদানের বিষয়টি পুনরায় স্বাভাবিক ধারায় ফিরে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।

 

বর্তমান এই ২০০টি বগির চুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার আগেও ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যকার যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও জোরদার করতে এবং দুই দেশের পরিবহন অবকাঠামো খাতের পারস্পরিক সহযোগিতার অংশ হিসেবে বিভিন্ন সময়ে রেল সামগ্রী পাঠানো হয়েছিল।

 

পূর্ববর্তী সময়ে ভারত থেকে বাংলাদেশে ১২০টি ব্রডগেজ যাত্রীবাহী বগি, ২৫টি ব্রডগেজ রেল ইঞ্জিন এবং ১০টি মিটারগেজ রেল ইঞ্জিন সফলভাবে সরবরাহ করা হয়েছিল। দুই দেশের জনসাধারণের যাতায়াত ব্যবস্থা সহজ করা এবং দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সম্প্রসারণে পণ্য পরিবহনে গতিশীলতা আনাই ছিল এই দীর্ঘস্থায়ী সহযোগিতার মূল লক্ষ্য।

 

সর্বশেষ চুক্তি অনুযায়ী, ভারত কেবল এই বগিগুলো সরবরাহের মধ্যেই নিজেদের দায়িত্ব সীমাবদ্ধ রাখছে না, বরং এর পাশাপাশি দীর্ঘ মেয়াদে বাংলাদেশে এই বগিগুলোর নকশাগত সহায়তা, প্রয়োজনীয় খুচরা যন্ত্রাংশ সরবরাহ, বাংলাদেশি রেলওয়ে কর্মকর্তা ও প্রকৌশলীদের আধুনিক কারিগরি প্রশিক্ষণ প্রদান এবং এই ট্রেনগুলো বাংলাদেশের রেলপথে আনুষ্ঠানিকভাবে চলাচল শুরুর ক্ষেত্রে সব ধরনের কারিগরি ও প্রশাসনিক সহায়তা নিশ্চিত করবে।

 

- ইকোনোমিক টাইমস