শুক্রবার, জুলাই ৩, ২০২৬
১৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মোদীর​​​​​​​ মুখোশ পরে দোকানে হানা, খোয়া গেল লাখ টাকার মোবাইল

আর এন এস আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ০১ জুলাই, ২০২৬, ০৫:২১ পিএম

মোদীর​​​​​​​ মুখোশ পরে দোকানে হানা, খোয়া গেল লাখ টাকার মোবাইল
ছবি : Collected

অপরাধের ধরনে নিত্যনতুন কৌশল অবলম্বন করছে দুষ্কৃতিকারীরা। অনেক সময় নিজেদের পরিচয় গোপন রাখতে তারা এমন সব অভিনব পন্থার আশ্রয় নেয়, যা রীতিমতো বিস্ময়ের জন্ম দেয়। ঠিক এমনই এক দুঃসাহসিক ও চাঞ্চল্যকর চুরির ঘটনা ঘটেছে ভারতের রাজস্থান রাজ্যে।

 

সেখানে একটি মোবাইল বিক্রির দোকানে হানা দিয়েছে একদল সংঘবদ্ধ চোর। সিসিটিভি ক্যামেরায় ধরা পড়া ফুটেজে দেখা গেছে, অপরাধীদের মধ্যে একজন নিজের পরিচয় লুকাতে রীতিমতো ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ছবি সম্বলিত একটি মুখোশ পরে আছে।

 

এই অপ্রত্যাশিত দৃশ্য ইতিমধ্যে স্থানীয় প্রশাসন ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাজস্থান রাজ্যের ভিলওয়ারা জেলার কারেদা থানা এলাকায় এই অভিনব চুরির ঘটনাটি ঘটে।

 

সোমবার দিবাগত মধ্যরাতে রাতের নিস্তব্ধতার সুযোগ নিয়ে একদল চোর ওই এলাকার একটি সুপরিচিত মোবাইল ফোনের দোকানে হানা দেয়। তারা অত্যন্ত সুকৌশলে দোকানের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে এবং দ্রুততার সঙ্গে দামি স্মার্টফোনগুলো সরিয়ে ফেলে।

 

মঙ্গলবার সকালে দোকানের মালিক লক্ষণ সেন প্রতিদিনের মতো যখন তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খুলতে আসেন, তখন তিনি চুরির বিষয়টি প্রথম আঁচ করতে পারেন। দোকানের শাটার খোলার পরপরই তিনি দেখতে পান, ভেতরের জিনিসপত্র সম্পূর্ণ এলোমেলো অবস্থায় পড়ে আছে।

 

মেঝের চারদিকে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে নামিদামি ব্র্যান্ডের মোবাইল ফোনের অসংখ্য খালি বাক্স। এই অপ্রত্যাশিত দৃশ্য দেখে তিনি হতবাক হয়ে যান এবং তাৎক্ষণিকভাবে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনকে খবর দেন।

 

প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, ওই চুরির ঘটনায় দোকানটি থেকে অন্তত ত্রিশ থেকে চল্লিশটি অত্যাধুনিক স্মার্টফোন চুরি গেছে। খোয়া যাওয়া এসব স্মার্টফোনের আনুমানিক বাজারমূল্য চার থেকে পাঁচ লাখ ভারতীয় রুপি বলে দাবি করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী লক্ষণ সেন।

 

খবর পেয়ে কারেদা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (হাউজ অফিসার) পুরানমল মিনা দ্রুত পুলিশের একটি তদন্তকারী দল নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান। তদন্তের প্রথম ধাপ হিসেবে পুলিশ দোকানের ভেতরে এবং বাইরের রাস্তায় বসানো সিসিটিভি ক্যামেরার ভিডিও ফুটেজগুলো নিবিড়ভাবে বিশ্লেষণ করতে শুরু করে।

 

আর এই ভিডিও ফুটেজ পর্যবেক্ষণ করতে গিয়েই পুলিশ অত্যন্ত বিস্ময়কর একটি তথ্য আবিষ্কার করে। ভিডিওতে স্পষ্ট দেখা যায়, চোরদের দলটির মধ্যে একজন নিজের মুখমণ্ডল আড়াল করার জন্য ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর মুখের আদলে তৈরি একটি মুখোশ পরিধান করে আছে।

 

অপরাধীদের এমন ধৃষ্টতা ও অভিনব কৌশল তদন্তকারী কর্মকর্তাদেরও কিছুটা অবাক করেছে। পুলিশের ধারণা, এটি কোনো সাধারণ বা বিচ্ছিন্ন চুরির ঘটনা নয়, বরং এর পেছনে একটি পেশাদার ও সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্র জড়িত রয়েছে। এই চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে পরিকল্পনা করে এবং এলাকার পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করার পরই চুরির উদ্দেশ্যে মাঠে নেমেছে।

 

পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে আরও উঠে এসেছে যে, ওই একই রাতে চোরদের এই দলটি ওই এলাকার বিজ গোদাম চৌরাহা নামক স্থানে অবস্থিত অন্য আরেকটি মোবাইলের দোকানেও চুরির চেষ্টা চালিয়েছিল। তবে কোনো কারণে সেখানে তারা সফল হতে পারেনি।

 

একই রাতে পরপর দুটি দোকানে চুরির চেষ্টা প্রমাণ করে যে অপরাধীরা কতটা বেপরোয়া ছিল এবং তারা ওই এলাকায় একটি বড় ধরনের অর্থনৈতিক অপরাধ সংঘটনের লক্ষ্য নিয়েই এসেছিল। এই ঘটনার পর স্থানীয় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের মধ্যে এক ধরনের আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতার সৃষ্টি হয়েছে।

 

তবে পুলিশ প্রশাসন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে জোর তৎপরতা শুরু করেছে। কারেদা থানার পুলিশ কর্মকর্তা পুরানমল মিনা সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে, ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীর সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে ইতিমধ্যে থানায় একটি আনুষ্ঠানিক মামলা দায়ের করা হয়েছে।

 

পুলিশের একাধিক দল এই ঘটনার তদন্তে মাঠে নেমেছে। চোরদের শনাক্ত করতে সিসিটিভি ফুটেজ থেকে প্রাপ্ত ছবি অন্যান্য থানা এলাকায় পাঠানো হয়েছে। এছাড়া চুরি যাওয়া মোবাইল ফোনগুলোর প্রযুক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করে সেগুলো উদ্ধারের কাজও শুরু হয়েছে।

 

পুলিশ অত্যন্ত আশাবাদী যে, খুব দ্রুতই এই সংঘবদ্ধ চক্রের সদস্যদের গ্রেফতার করা সম্ভব হবে এবং চুরি যাওয়া মালামাল উদ্ধার করে ব্যবসায়ীর ক্ষতি পুষিয়ে দেওয়া যাবে। আধুনিক প্রযুক্তি এবং স্থানীয় গোয়েন্দা তথ্যের সমন্বয়ে এই চক্রের মূল হোতাদের আইনের মুখোমুখি করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে স্থানীয় প্রশাসন।

 

- টাইমস অব ইন্ডিয়া