রবিবার, জুলাই ১৯, ২০২৬
৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

অনশনে বসে মোদির পদত্যাগ চাইলেন সিজেপি প্রধান

আর এন এস আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৮ জুলাই, ২০২৬, ০৯:৫৮ পিএম

অনশনে বসে মোদির পদত্যাগ চাইলেন সিজেপি প্রধান
ছবি: Collected

ভারতের রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে নতুন করে তীব্র উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। প্রখ্যাত সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুকের চলমান অহিংস অনশন কর্মসূচিতে প্রশাসনের আকস্মিক হস্তক্ষেপ এবং তাকে জোরপূর্বক হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে এবার সরাসরি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির পদত্যাগ দাবি করেছেন ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা ও শীর্ষ আহ্বায়ক অভিজিৎ দিপকে।

 

শনিবার, ১৮ জুলাই দেশটির রাজধানী নয়াদিল্লিতে পুলিশের এই বিতর্কিত ও বলপ্রয়োগমূলক পদক্ষেপের পরপরই তিনি এই চরম রাজনৈতিক ঘোষণা দেন। একই সঙ্গে সরকারের এই অব্যাহত দমনপীড়নমূলক আচরণের প্রতিবাদে তিনি নিজে অনির্দিষ্টকালের অনশন কর্মসূচি শুরু করার কথা আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছেন, যা ভারতের বর্তমান রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতিতে এক নতুন মাত্রার পাশাপাশি গভীর উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।

 

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোও দিল্লির এই ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার দিকে নিবিড় দৃষ্টি রাখছে। ঘটনার মূল সূত্রপাত হয় শনিবার, যখন নয়াদিল্লিতে দীর্ঘ সময় ধরে শান্তিপূর্ণভাবে অনশনরত বিশিষ্ট সমাজকর্মী ও অধিকারকর্মী সোনম ওয়াংচুককে পুলিশ অতর্কিতভাবে তুলে নিয়ে যায়।

 

আন্দোলনকারী এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ, পুলিশ সম্পূর্ণ জোরপূর্বক এবং অগণতান্ত্রিকভাবে ওয়াংচুককে তার নির্ধারিত অনশনস্থল থেকে সরিয়ে নিয়ে গিয়ে জোর করে হাসপাতালে ভর্তি করেছে।

 

এই ঘটনাটি একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের সাধারণ নাগরিকের মৌলিক অধিকার এবং স্বাধীন মতপ্রকাশের ওপর এক নগ্ন হস্তক্ষেপ বলে মনে করছেন সেখানে উপস্থিত আন্দোলনকারী ও বিরোধী রাজনৈতিক কর্মীরা।

 

উল্লেখ্য, সোনম ওয়াংচুক দীর্ঘদিন ধরে সমাজের অধিকার প্রতিষ্ঠা, পরিবেশগত ন্যায্যতা এবং সাধারণ মানুষের দাবি আদায়ে অহিংস আন্দোলন করে আসছিলেন। তার এই শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক কর্মসূচিতে প্রশাসনের এমন অনাকাঙ্ক্ষিত বলপ্রয়োগ দেশজুড়ে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিয়েছে এবং এরই প্রত্যক্ষ প্রতিক্রিয়া হিসেবে ককরোচ জনতা পার্টির প্রধান অভিজিৎ দিপকে এই অত্যন্ত কঠোর অবস্থান গ্রহণ করতে বাধ্য হয়েছেন।

 

এই অনাকাঙ্ক্ষিত ও অপ্রত্যাশিত ঘটনার পরপরই সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি দীর্ঘ ও আবেগঘন ভিডিও বার্তা প্রকাশ করে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অভিজিৎ দিপকে।

 

ভিডিও বার্তায় অত্যন্ত দৃঢ় ও আপসহীন কণ্ঠে তিনি ক্ষমতাসীন সরকারকে সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, প্রশাসন যদি এমন ভ্রান্ত ধারণা পোষণ করে থাকে যে সোনম ওয়াংচুককে জোর করে আন্দোলনস্থল থেকে সরিয়ে দিলেই এই গণ-আন্দোলনের আগুন চিরতরে নিভে যাবে, তবে তারা সম্পূর্ণ ভুলের স্বর্গে বাস করছে।

 

তিনি অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন যে, তাদের এই ন্যায়সঙ্গত ও যৌক্তিক আন্দোলন কোনোভাবেই স্তিমিত হবে না। বরং পুলিশি পদক্ষেপের প্রতিবাদে আন্দোলনকারীরা নিজেদের অবস্থানে আরও ইস্পাতকঠিনভাবে অনড় থাকবেন।

 

তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে ঘোষণা করেন যে, আগামী ২০ জুলাই তারা ভারতের সংসদ ভবনের দিকে এক বিশাল প্রতিবাদী পদযাত্রা পরিচালনা করবেন। এই পদযাত্রা সরকারের একনায়কতান্ত্রিক দমননীতির বিরুদ্ধে সমগ্র দেশবাসীর পক্ষ থেকে একটি জোরালো ও চূড়ান্ত বার্তা দেবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

 

আন্দোলনকারীদের রাজনৈতিক দাবি এবং এর পেছনের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে সিজেপি প্রধান জানান, তাদের এই চলমান আন্দোলন মূলত সুনির্দিষ্ট কিছু দাবি আদায়ের লক্ষ্যে অত্যন্ত শৃঙ্খলার সঙ্গে পরিচালিত হচ্ছিল। এর আগে তারা কেবল বর্তমান পরিস্থিতির দায়ভার হিসেবে ভারতের কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতেই সীমাবদ্ধ ছিলেন।

 

কিন্তু শনিবারের এই ন্যক্কারজনক পুলিশি হস্তক্ষেপ এবং একজন বর্ষীয়ান ও অহিংস সমাজকর্মীর ওপর এমন অমানবিক আচরণের পর আন্দোলনের গতিপ্রকৃতি ও লক্ষ্যের সম্পূর্ণ পরিবর্তন ঘটেছে।

 

অভিজিৎ দিপকে অত্যন্ত ক্ষুব্ধ ও জোরালো প্রতিক্রিয়ায় জানান যে, এই নিন্দনীয় ও অগণতান্ত্রিক ঘটনার পর তাদের দাবি আর কেবল একক কোনো মন্ত্রীর পদত্যাগের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে পারে না; এখন তারা সরাসরি রাষ্ট্র পরিচালনার সার্বিক ব্যর্থতা এবং স্বৈরতান্ত্রিক আচরণের সম্পূর্ণ দায়ভার চাপিয়ে খোদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির পদত্যাগ দাবি করছেন।

 

তিনি মনে করেন, সরকারের এমন অসহিষ্ণু আচরণ একটি স্বাধীন ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের সাংবিধানিক নীতির সম্পূর্ণ পরিপন্থি। এদিকে, বর্তমান পরিস্থিতির সর্বশেষ আপডেট হিসেবে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) পক্ষ থেকে জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতির মাধ্যমে নিশ্চিত করা হয়েছে যে, দলের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে এরই মধ্যে তার পূর্বঘোষণা অনুযায়ী অনির্দিষ্টকালের জন্য অনশন কর্মসূচিতে বসেছেন।

 

তার এই অনশন ঘোষণা এবং প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগের মতো বড় দাবি রাজধানী দিল্লির রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে চরম উত্তাপ ছড়াচ্ছে। দেশের সাধারণ মানুষ, সুশীল সমাজ এবং বিভিন্ন মানবাধিকার কর্মীরা এই উদ্ভূত পরিস্থিতির দিকে সতর্ক ও গভীর দৃষ্টি রাখছেন।

 

আগামী ২০ জুলাই সংসদ ভবনের দিকে তাদের ঘোষিত ঐতিহাসিক পদযাত্রা কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও প্রশাসনের মধ্যে যেমন ব্যাপক প্রস্তুতি চলছে, ঠিক তেমনি জনমনেও এক অজানা ও গভীর উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে।

 

সরকারের পরবর্তী পদক্ষেপ এবং আন্দোলনকারীদের এই অনড় অবস্থান শেষ পর্যন্ত ভারতের রাজনৈতিক ও গণতান্ত্রিক চর্চায় কী ধরনের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলে, তা দেখার জন্য এখন পুরো বিশ্ব ও দেশবাসী অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে।

 

- ইত্তেফাক