বৃহস্পতিবার, জুলাই ২৩, ২০২৬
৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দিল্লির প্রশ্নফাঁস আন্দোলনের আঁচ মুম্বাইয়ে, সমাবেশ নিষিদ্ধ

আর এন এস আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৩ জুলাই, ২০২৬, ০১:৪৬ পিএম

দিল্লির প্রশ্নফাঁস আন্দোলনের আঁচ মুম্বাইয়ে, সমাবেশ নিষিদ্ধ
ছবি : Collected

ভারতের চিকিৎসাবিদ্যায় ভর্তির অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশিকা পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজধানী নয়াদিল্লিতে শুরু হওয়া গণ-অসন্তোষের আগুন এবার ছড়িয়ে পড়েছে দেশটির বাণিজ্যিক রাজধানী মুম্বাইয়ে।

 

শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে ছিনিমিনি খেলার এই ন্যক্কারজনক ঘটনার প্রতিবাদে দেশজুড়ে যে ক্ষোভের দাবানল সৃষ্টি হয়েছে, তা সামাল দিতে প্রশাসনকে এখন রীতিমতো হিমশিম খেতে হচ্ছে।

 

নয়াদিল্লির ঐতিহাসিক বিক্ষোভস্থল জন্তর মন্তর থেকে শুরু হওয়া এই ছাত্র আন্দোলনের তীব্রতা ও দেশব্যাপী এর সম্ভাব্য বিস্তৃতির কথা বিবেচনা করে মুম্বাই পুলিশ শহরটিতে সব ধরনের বড় জমায়েত বা রাজনৈতিক ও অরাজনৈতিক সমাবেশের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।

 

আজ বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) থেকে কার্যকর হওয়া এই আইনি বিধিনিষেধ আগামী ৬ আগস্ট পর্যন্ত বলবৎ থাকবে বলে স্বনামধন্য ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক বিশেষ প্রতিবেদনে নিশ্চিত করা হয়েছে।

 

প্রশাসনের জারি করা এই নতুন নির্দেশনার আওতায়, পূর্বানুমতি ছাড়া মুম্বাই শহরে একসঙ্গে পাঁচজন বা তার বেশি মানুষের জমায়েত হওয়া সম্পূর্ণ বেআইনি বলে গণ্য হবে। মূলত দিল্লির জন্তর মন্তরে শিক্ষার্থীদের লাগাতার ও তীব্র আন্দোলনের কারণে সৃষ্ট জাতীয় অস্থিরতার বিষয়টি অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে বিবেচনা করেই মুম্বাইয়ের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এমন প্রতিরোধমূলক ও কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

 

তবে এই আনুষ্ঠানিক নিষেধাজ্ঞা জারির আগেই দিল্লির আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের প্রতি সরাসরি সমর্থন ও সহমর্মিতা জানিয়ে মুম্বাইয়ের রাজপথে নামা সাধারণ মানুষ ও অধিকারকর্মীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া শুরু হয়েছে।

 

জানা গেছে, চলমান এই ছাত্র আন্দোলনে সংহতি প্রকাশের দায়ে মুম্বাই পুলিশ ইতোমধ্যে অন্তত ৯০০ জন ব্যক্তির বিরুদ্ধে আটটি প্রাথমিক তথ্য বিবরণী দায়ের করেছে, যা আন্দোলন দমনে প্রশাসনের কঠোর অবস্থানেরই একটি সুস্পষ্ট ও প্রত্যক্ষ ইঙ্গিত।

 

অন্যদিকে, এই আন্দোলনের মূল কেন্দ্রবিন্দু দেশের রাজধানী দিল্লির সামগ্রিক পরিস্থিতি দিন দিন আরও ঘোলাটে ও উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) ব্যানারে ও নেতৃত্বে জন্তর মন্তরে অবস্থান নেওয়া হাজারো বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থী ও জনতার প্রধান দাবি হয়ে দাঁড়িয়েছে বর্তমান শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের অবিলম্বে ও নিঃশর্ত পদত্যাগ।

 

একটি স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও দুর্নীতিমুক্ত শিক্ষাব্যবস্থার দাবিতে সোচ্চার হওয়া এই আন্দোলনকারীরা মনে করেন, এত বড় একটি জাতীয় কেলেঙ্কারির পর শিক্ষামন্ত্রীর স্বপদে বহাল থাকার আর কোনো নৈতিক অধিকার অবশিষ্ট নেই।

 

কিন্তু এখন পর্যন্ত সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের কোনো সুস্পষ্ট ইঙ্গিত না পাওয়ায় রাজপথের এই আন্দোলন ক্রমশই আরও বেগবান হচ্ছে, যা যেকোনো মুহূর্তে একটি বড় ধরনের রাজনৈতিক সংকটে রূপ নিতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

 

দেশের শিক্ষাব্যবস্থা ও রাজনৈতিক অঙ্গনে যখন এমন একটি চরম অস্থিতিশীল ও উত্তেজনাকর পরিস্থিতি বিরাজ করছে, ঠিক তখনই উদ্ভূত এই সংকট নিরসনে সরাসরি হস্তক্ষেপ করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

 

আজ বৃহস্পতিবার সকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক দীর্ঘ ও সুনিশ্চিত বার্তায় তিনি দেশবাসীর উদ্দেশে, বিশেষ করে ক্ষুব্ধ তরুণ প্রজন্মের উদ্দেশে তার সরকারের কঠোর অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।

 

প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত সুস্পষ্ট ভাষায় ঘোষণা দিয়েছেন যে, যারা এই জঘন্য প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনার সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত, তাদের প্রত্যেককে অবিলম্বে বিচারের মুখোমুখি করা হবে। এই বিচার প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে এবং দোষীদের দ্রুততম সময়ের মধ্যে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বিশেষ ‘দ্রুত বিচার আদালত’ গঠনের একটি যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে সরকার।

 

প্রধানমন্ত্রী মোদি তাঁর ওই বার্তায় দেশের তরুণ সমাজকে আশ্বস্ত করে লিখেছেন যে, রাষ্ট্রের কাছে দেশের তরুণদের সার্বিক কল্যাণ এবং তাদের একটি সুন্দর ও উজ্জ্বল ভবিষ্যতের চেয়ে বড় বা অধিকতর গুরুত্বপূর্ণ আর কোনো কিছুই হতে পারে না।

 

এই ভয়াবহ শিক্ষামূলক কেলেঙ্কারিতে জড়িত অপরাধীদের দ্রুত ও কঠোরতম শাস্তি প্রদান নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সকল কর্তৃপক্ষ এবং প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় সকল ধরনের কাঠামোগত ও আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সরাসরি নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে বলে তিনি দেশবাসীকে অবহিত করেন।

 

প্রধানমন্ত্রী আরও জোর দিয়ে বলেন, সাধারণ শিক্ষার্থীদের ন্যায্য অধিকার ও মেধার স্বার্থ সুরক্ষায় সরকার যে ধারাবাহিক ও আপসহীন উদ্যোগগুলো গ্রহণ করে আসছে, এটি তারই একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ মাত্র।

 

পরিশেষে, কোনো ধরনের রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক ছাড় না দেওয়ার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে নরেন্দ্র মোদি তাঁর বার্তায় দ্ব্যর্থহীন ভাষায় হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন যে, যারা দেশের ভবিষ্যৎ রূপকার এই তরুণ প্রজন্মের ভবিষ্যৎ ধ্বংস করার অপচেষ্টা চালাবে, তাদের কোনো অবস্থাতেই ক্ষমা করা হবে না।

 

রাষ্ট্রীয় আইনের সর্বোচ্চ প্রয়োগের মাধ্যমে তাদের চরম পরিণতি ভোগ করতে হবে। শীর্ষ নেতৃত্বের এমন কঠোর বার্তার পর দিল্লির আন্দোলনকারীদের ক্ষোভ কতটা প্রশমিত হয় এবং মুম্বাইয়ের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আগামী দিনগুলোতে কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেদিকেই গভীর পর্যবেক্ষণে তাকিয়ে আছে সমগ্র আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও ভারতবাসী।

 

- এনডিটিভি