বৃহস্পতিবার, জুলাই ২৩, ২০২৬
৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শুক্রবার দেশব্যাপী ব্যাপক বিক্ষোভের ডাক ককরোচ পার্টির

আর এন এস আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৩ জুলাই, ২০২৬, ০৬:৫০ পিএম

শুক্রবার দেশব্যাপী ব্যাপক বিক্ষোভের ডাক ককরোচ পার্টির
ছবি: সংগৃহীত

ভারতে চলমান পুলিশি সহিংসতা, কাঠামোগত নিপীড়ন এবং শিক্ষার্থীদের অধিকার হরণের প্রতিবাদে শুক্রবার দেশব্যাপী এক বিশাল ও সর্বাত্মক বিক্ষোভ কর্মসূচির ডাক দিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি বা সিজেপি।

 

বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিশেষ ও অত্যন্ত আবেগঘন বার্তায় সংগঠনটির পক্ষ থেকে দেশের আপামর ছাত্রসমাজ, তরুণ প্রজন্ম এবং সাধারণ নাগরিকদের এই অহিংস প্রতিবাদ কর্মসূচিতে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণের উদাত্ত আহ্বান জানানো হয়েছে।

 

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাষ্ট্রযন্ত্রের পুলিশি বাড়াবাড়ির বিরুদ্ধে দেশজুড়ে প্রবল জনমত গড়ে তুলতেই মূলত এই ব্যাপক প্রতিবাদের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া ওই বার্তায় বিক্ষোভের মাঠপর্যায়ের আয়োজকদের উদ্দেশে অত্যন্ত সুনির্দিষ্ট ও সুস্পষ্ট নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।

 

সিজেপি বলেছে, তারা যেন প্রতিটি বিক্ষোভ সমাবেশের একেবারে সম্মুখভাগে দাঁড়িয়ে শিক্ষার্থীদের মূল ও যৌক্তিক দাবিগুলো সমবেত জনতার সামনে অত্যন্ত স্পষ্টভাবে এবং উচ্চস্বরে পাঠ করেন।

 

এছাড়া, গণতান্ত্রিকভাবে এই বিক্ষোভ সমাবেশের পূর্বানুমতি গ্রহণ এবং মাঠের অন্যান্য আনুষঙ্গিক বিষয়াদি সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার জন্য বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি এবং অন্যান্য সহযোগী সংগঠনগুলোকে পারস্পরিক বোঝাপড়ার ভিত্তিতে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

 

এদিকে, ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির কেন্দ্রস্থল ঐতিহাসিক যন্তর মন্তরে চলমান এই আলোড়ন সৃষ্টিকারী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম প্রধান রূপকার এবং সিজেপি-এর প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে আকস্মিকভাবে শারীরিক অসুস্থতার শিকার হয়েছেন।

 

অধিকার আদায়ের এই নিরলস সংগ্রামে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেওয়া এই তরুণ নেতা বৃহস্পতিবার সকালে এক প্রকাশ্য বিবৃতিতে জানান যে, গত কয়েকদিন ধরেই তিনি প্রচণ্ড জ্বর ও তীব্র শারীরিক যন্ত্রণা উপেক্ষা করে চলেছেন।

 

কেবল শক্তিশালী ব্যথানাশক ওষুধের ওপর নির্ভর করে তিনি এতদিন আন্দোলনের মাঠে সক্রিয় ছিলেন। তবে শারীরিক অবস্থার চরম অবনতি হওয়ায় চিকিৎসকের পরামর্শে বাধ্য হয়ে তাকে কয়েক ঘণ্টার জন্য বিক্ষোভস্থল থেকে সাময়িক বিরতি নিতে হচ্ছে।

 

আন্দোলনকারী সহযোদ্ধা ও সাধারণ মানুষের কাছে এই সাময়িক অনুপস্থিতির জন্য ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টি কামনা করে তিনি অত্যন্ত দৃঢ়তার সঙ্গে জানিয়েছেন যে, একান্ত প্রয়োজনীয় বিশ্রাম শেষে শরীর কিছুটা সুস্থ হলেই বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার মধ্যে তিনি পুনরায় যন্তর মন্তরের প্রতিবাদ মঞ্চে ফিরে আসবেন এবং আন্দোলনের হাল ধরবেন।

 

অন্যদিকে, শিক্ষার্থীদের এই তীব্র ও দেশব্যাপী ছড়িয়ে পড়া আন্দোলনের মুখে উদ্ভূত গভীর সংকট সমাধানের জন্য ভারত সরকার একাধিকবার কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক উদ্যোগ গ্রহণ করেছে বলে সরকারিভাবে দাবি করা হয়েছে।

 

দেশটির কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং সংবাদমাধ্যমের কাছে দাবি করেছেন, সরকারের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে অন্তত চারবার ককরোচ জনতা পার্টির শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগের ঐকান্তিক চেষ্টা করা হয়েছে, তবে তাদের তরফ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো ধরনের ইতিবাচক সাড়া বা আলোচনার সদিচ্ছা পাওয়া যায়নি।

 

বৃহস্পতিবার কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে এক গুরুত্বপূর্ণ ও রুদ্ধদ্বার বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় বলেন, আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের যেকোনো যৌক্তিক দাবিদাওয়া নিয়ে খোলামেলা ও গঠনমূলক আলোচনার জন্য সরকারের দরজা সব সময় উন্মুক্ত রয়েছে।

 

দেশের সার্বিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক ও শান্ত করতে আন্দোলনকারীরা চাইলে যেকোনো সময় ভারতীয় জনতা পার্টির শীর্ষ নেতা জে পি নাড্ডার সরকারি বাসভবন কিংবা কার্যালয়ে এসে সরকারের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সরাসরি সংলাপে বসতে পারেন বলে তিনি আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব দিয়েছেন।

 

চলমান এই অস্থিরতার অন্যতম মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের মহাকেলেঙ্কারি নিয়ে একই দিন সকালে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি প্রথমবারের মতো অত্যন্ত কড়া ও সরাসরি বার্তা দিয়েছেন।

 

দেশের ভবিষ্যৎ কাণ্ডারি তরুণ প্রজন্মের মেধা ও ভবিষ্যৎ নিয়ে যারা জালিয়াতি ও দুর্নীতি করে ছিনিমিনি খেলার অপচেষ্টা করছে, রাষ্ট্রীয় আইনে তাদের কাউকেই কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না বলে তিনি দ্ব্যর্থহীনভাবে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন।

 

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিস্তারিত বার্তায় প্রধানমন্ত্রী সমগ্র জাতিকে নিশ্চিত করেছেন যে, প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো জঘন্য, রাষ্ট্রবিরোধী অপরাধের সঙ্গে জড়িত চক্রের সদস্যদের দ্রুততম সময়ে দৃষ্টান্তমূলক সাজা প্রদান করতে সরকার ইতোমধ্যে বিশেষ দ্রুত বিচার আদালত গঠনের চূড়ান্ত আইনি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।

 

এই বিষয়ে দৃশ্যমান ও কার্যকরী পদক্ষেপ নিতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন, বিচার বিভাগ ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তবে প্রধানমন্ত্রীর এই আশ্বাসের পরপরই সিজেপি তাদের পুরোনো ও অটল দাবিতে পুনরায় রাজপথে সরব হয়েছে।

 

তারা অবিলম্বে ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে তার পদ থেকে চূড়ান্তভাবে বরখাস্ত করার দাবি পুনর্ব্যক্ত করেছে এবং দলটির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যকে কেন্দ্র করে শিক্ষামন্ত্রীকে চরম ব্যর্থতার দায়ে তীব্র ভাষায় কটাক্ষ করতেও পিছপা হননি।

 

উদ্ভূত এই টালমাটাল পরিস্থিতির মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া দ্রুত বিচার আদালত গঠনের প্রতিশ্রুতিকে চরম রাজনৈতিক ভণ্ডামি বলে আখ্যায়িত করে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছে ভারতের প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেস।

 

দলটির শীর্ষ নেতা রাহুল গান্ধী নরেন্দ্র মোদির কড়া সমালোচনা করে সরাসরি অভিযোগ করেছেন যে, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নিজেই মূলত তার ভুল নীতির মাধ্যমে দেশের তরুণদের ভবিষ্যতের সবচেয়ে বড় সর্বনাশটি করেছেন।

 

তার গুরুতর অভিযোগ, মোদির দীর্ঘ শাসনামলেই ভারতের গোটা শিক্ষাব্যবস্থাকে একটি বিশেষ মহলের দ্বারা পরিকল্পিতভাবে দখল ও পঙ্গু করে দেওয়ার অবাধ সুযোগ সৃষ্টি করা হয়েছে এবং এর নেপথ্যে থাকা প্রতিটি দুর্নীতিবাজ অপরাধীকে রাষ্ট্রযন্ত্রই দীর্ঘকাল ধরে পরম যত্নে সুরক্ষা প্রদান করে এসেছে।

 

এই সংকট নিরসনে রাহুল গান্ধী সাধারণ শিক্ষার্থীদের পক্ষ নিয়ে রাষ্ট্রের কাছে তিনটি অত্যন্ত সুনির্দিষ্ট ও কঠোর দাবি উত্থাপন করেছেন। তার দাবিগুলো হলো-প্রথমত, শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে অবিলম্বে মন্ত্রিসভা থেকে অসম্মানজনকভাবে বরখাস্ত করতে হবে; দ্বিতীয়ত, সাধারণ শিক্ষার্থীদের মেধা নিয়ে এই অবহেলার জন্য রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে ক্ষমা প্রার্থনা করতে হবে; এবং তৃতীয়ত, গত ২০ জুলাই রাজধানী দিল্লিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলনরত নিরীহ শিক্ষার্থীদের ওপর যে বর্বরোচিত ও অমানবিক পুলিশি হামলা হয়েছে, তার সঙ্গে জড়িত প্রতিটি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যের বিরুদ্ধে কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

 

- ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস