শনিবার, অক্টোবর ১০, ২০২৬
২৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ, 'কালো জরুরি অবস্থা'র অভিযোগ

আর এন এস আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ১০ অক্টোবর, ২০২৬, ০২:০৯ পিএম

নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ, 'কালো জরুরি অবস্থা'র অভিযোগ
ছবি: সংগৃহীত

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে বর্তমানে এক নজিরবিহীন, শ্বাসরুদ্ধকর এবং চরম রাজনৈতিক উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। দেশের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে তার বর্তমান পদ থেকে অবিলম্বে অপসারণের এক দফা দাবিতে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) পূর্বঘোষিত একটি বিশাল গণবিক্ষোভ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে পুরো রাজধানী শহরে কার্যত এক অচল ও থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।

 

এই শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক বিক্ষোভ কর্মসূচিকে যেকোনো মূল্যে প্রতিহত করার লক্ষ্যে ভারতের ক্ষমতাসীন কেন্দ্রীয় সরকার রাজধানী নয়াদিল্লি এবং এর আশপাশের সংলগ্ন এলাকাগুলোতে যে নজিরবিহীন ও কঠোর নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে, তাকে বিরোধী দল আম আদমি পার্টি অত্যন্ত কঠোর ভাষায় একটি অঘোষিত ‘কালো জরুরি অবস্থা’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে।

 

আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বিশ্লেষক এবং মানবাধিকার কর্মীদের মতে, একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে সাধারণ নাগরিকদের অহিংস প্রতিবাদের সাংবিধানিক অধিকারকে এমন কঠোর সামরিক ও পুলিশি প্রহরার মাধ্যমে অবদমন করার এই চেষ্টা অত্যন্ত বিরল এবং এটি দেশের অন্তর্নিহিত গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ওপর এক চরম ও প্রত্যক্ষ আঘাত।

 

শনিবার সকাল দশটার দিকে নয়াদিল্লির ঐতিহাসিক ও ঐতিহ্যবাহী প্রতিবাদস্থল যন্তর মন্তরে এই বিশাল গণবিক্ষোভ কর্মসূচির ডাক দিয়েছিল ককরোচ জনতা পার্টি। দলটির পক্ষ থেকে উত্থাপিত প্রধান অভিযোগ হলো, সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনগুলোতে ব্যাপক কারচুপি ও কথিত 'ভোট চুরি'র মতো গুরুতর জালিয়াতির ঘটনা ঘটেছে এবং বর্তমান প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার এই সম্পূর্ণ অগণতান্ত্রিক ও বেআইনি প্রক্রিয়াকে পরোক্ষভাবে সমর্থন ও আইনি বৈধতা জুগিয়েছেন।

 

তাই ভারতের মতো একটি বৃহৎ গণতান্ত্রিক দেশে একটি অবাধ, সুষ্ঠু, স্বচ্ছ ও সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ নির্বাচনী ব্যবস্থা নিশ্চিত করার স্বার্থে তারা অবিলম্বে জ্ঞানেশ কুমারের নিঃশর্ত পদত্যাগ দাবি করছেন। এই গণবিক্ষোভ কর্মসূচির জন্য দিল্লি পুলিশের কাছে অনেক আগে থেকেই আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমতি চাওয়া হয়েছিল।

 

কিন্তু পুলিশ প্রশাসন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি এবং জনদুর্ভোগের খোঁড়া যুক্তি দেখিয়ে এই গণতান্ত্রিক সমাবেশের অনুমতি প্রদান থেকে সম্পূর্ণভাবে বিরত থাকে। তবে সিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব পুলিশের এই অযৌক্তিক নিষেধাজ্ঞাকে বিন্দুমাত্র তোয়াক্কা না করে অত্যন্ত দৃঢ়তার সঙ্গে পূর্বনির্ধারিত সময়েই রাজপথে নেমে তাদের প্রতিবাদ কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার অনড় ঘোষণা দেয়, যা মূলত রাষ্ট্রযন্ত্রের সঙ্গে তাদের সরাসরি সংঘাতের এক অনিবার্য ক্ষেত্র প্রস্তুত করে।

 

এই চরম শ্বাসরুদ্ধকর ও সংঘাতময় পরিস্থিতির মধ্যে আম আদমি পার্টির প্রথম সারির নেতারা সিজেপির এই যৌক্তিক দাবির প্রতি তাদের পূর্ণ সমর্থন, সংহতি ও একাত্মতা প্রকাশ করেছেন। সাংবাদিকদের সঙ্গে এক বিশেষ ও জরুরি মতবিনিময় সভায় আম আদমি পার্টির বর্ষীয়ান নেতা এবং দিল্লির রাজ্য সরকারের বর্তমান বিধায়ক গোপাল রায় কেন্দ্রীয় সরকারের এই চরম দমনপীড়ন নীতির তীব্র ও দ্ব্যর্থহীন সমালোচনা করেন।

 

তিনি অত্যন্ত ক্ষোভ ও হতাশার সঙ্গে জানান যে, শুধুমাত্র একজন দুর্নীতিগ্রস্ত ও বিতর্কিত প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে তার পদে টিকিয়ে রাখার জন্য এবং তাকে রক্ষা করার অসৎ উদ্দেশ্যে কেন্দ্রীয় সরকার পুরো দেশজুড়ে এক অঘোষিত 'কালো জরুরি অবস্থা' বা স্বৈরতান্ত্রিক শাসন জারি করেছে।

 

গোপাল রায় তার আনুষ্ঠানিক বক্তব্যে অত্যন্ত স্পষ্টভাবে বলেন, আজ শুধুমাত্র জ্ঞানেশ কুমারকে সাধারণ জনগণের পুঞ্জীভূত রোষানল থেকে বাঁচাতে সরকার রাজধানী নয়াদিল্লিকে কার্যত একটি অবরুদ্ধ ও বিচ্ছিন্ন সামরিক ঘাঁটিতে পরিণত করেছে।

 

কিন্তু ক্ষমতাসীন শাসকগোষ্ঠীর একটি বিষয় খুব ভালোভাবে অনুধাবন করা উচিত যে, রাজপথে তারা যতই বিপুল সংখ্যক সশস্ত্র বাহিনী এবং রায়ট পুলিশ মোতায়েন করুক না কেন, সাধারণ মানুষের এই স্বতঃস্ফূর্ত, যৌক্তিক এবং অধিকার আদায়ের গণআন্দোলনকে বুলেটের ভয় দেখিয়ে বা পুলিশি বুটের তলায় পিষ্ট করে চিরতরে দমন করা কোনোভাবেই সম্ভব নয়।

 

একই সুরে সুর মিলিয়ে আম আদমি পার্টির দিল্লি শাখার সম্মানিত সভাপতি সৌরভ ভরদ্বাজ একটি অত্যন্ত আবেগময় ও প্রতিবাদী ভিডিও বার্তার মাধ্যমে সরকারের এই স্বৈরতান্ত্রিক ও গণবিরোধী আচরণের কড়া নিন্দা জানিয়েছেন।

 

তিনি অত্যন্ত জোর দিয়ে বলেন যে, এই আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত সাধারণ মানুষ ও রাজনৈতিক কর্মীরা কোনো ধরনের ধ্বংসাত্মক, উসকানিমূলক বা হিংসাত্মক পথ বেছে নেননি; তারা কেবল সম্পূর্ণ ‘অহিংস’ ও শান্তিপূর্ণ উপায়ে নিজেদের যৌক্তিক দাবিগুলো রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারকদের সামনে তুলে ধরতে চান।

 

কিন্তু সরকার তাদের সেই গণতান্ত্রিক কথা শোনার নূন্যতম সদিচ্ছা না দেখিয়ে, উল্টো সেখানে বিপুল সংখ্যক সশস্ত্র নিরাপত্তা বাহিনী ও জলকামান মোতায়েন করে সাধারণ মানুষের মনে এক ভয়ংকর ভীতির পরিবেশ তৈরি করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে।

 

ভরদ্বাজ তার বার্তায় বর্তমান প্রজন্মের আধুনিক ও সচেতন তরুণ সমাজের কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, জোরজবরদস্তি করে, মিথ্যা মামলা দিয়ে বা ভয় দেখিয়ে আজকের এই আধুনিক, যুক্তিবাদী ও অধিকার সচেতন তরুণ সমাজকে আর বোকা বানিয়ে চুপ করিয়ে রাখা যায় না।

 

তারা এই দেশেরই ভবিষ্যৎ এবং সমাজের অত্যন্ত সচেতন একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। সরকারের উচিত তাদের ওপর নির্বিচারে লাঠিচার্জ না করে, তাদের সঙ্গে বসে অত্যন্ত সম্মানজনক ও যৌক্তিক আলোচনার মাধ্যমে এই রাজনৈতিক সংকটের সমাধান করা।

 

সৌরভ ভরদ্বাজ তার বক্তব্যে রাষ্ট্রযন্ত্রের আরও একটি গভীর রাজনৈতিক মনস্তত্ত্বের দিকে অত্যন্ত সুনিপুণভাবে ইঙ্গিত করেন। তিনি বলেন, বর্তমান ক্ষমতাসীন সরকার তাদের এই অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ এবং ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে গোটা বিশ্বকে এমন একটি ভুল বার্তা দিতে চায় যে, আমরা একটি অত্যন্ত ভীতু এবং মেরুদণ্ডহীন জাতি, যারা পুলিশের লাঠির ভয়ে খুব সহজেই নিজেদের অধিকার আদায়ের সংগ্রাম থেকে পিছু হটে আসবে।

 

কিন্তু বাস্তবে ভারতের সাধারণ জনগণ মোটেই তা নয়; এ দেশের মানুষ যুগে যুগে মহাত্মা গান্ধীর অহিংস নীতির অনুসারী হিসেবে নিজেদের প্রমাণ করেছে এবং স্বাধীন ভারতের পবিত্র সংবিধানের ওপর তাদের পূর্ণ আস্থা ও অবিচল বিশ্বাস রয়েছে।

 

সংবিধান এই দেশের প্রতিটি নাগরিককে যে স্বাধীন মতপ্রকাশের এবং শান্তিপূর্ণ সমাবেশের মৌলিক অধিকার দিয়েছে, তা কোনো অগণতান্ত্রিক বা স্বৈরাচারী শক্তি চাইলেই গায়ের জোরে কেড়ে নিতে পারে না।

 

এদিকে, ককরোচ জনতা পার্টির এই অহিংস গণবিক্ষোভ যেকোনো উপায়ে ঠেকাতে কেন্দ্রীয় সরকার এবং দিল্লি পুলিশ প্রশাসন যে ধরনের নজিরবিহীন, কঠোর ও সর্বাত্মক নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে, তা স্বাধীন ভারতের ইতিহাসে সত্যিই অত্যন্ত বিরল ও অভাবনীয়।

 

প্রশাসন যেকোনো মূল্যে যন্তর মন্তর এবং এর আশপাশের এলাকায় জনসমাগম ঠেকাতে একেবারে বদ্ধপরিকর। সরকারি হিসাব ও বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য সংবাদমাধ্যমের প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, এই একটিমাত্র রাজনৈতিক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে পুরো রাজধানীতে পঁচিশ হাজারেরও বেশি পুলিশের নিয়মিত সদস্য এবং কেন্দ্রীয় আধাসামরিক বাহিনীর সশস্ত্র সদস্যদের সম্পূর্ণ যুদ্ধসাজে মোতায়েন করা হয়েছে।

 

বিক্ষোভকারীদের প্রতিটি গতিবিধি অত্যন্ত নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করার জন্য নয়াদিল্লির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, মোড়, প্রবেশদ্বার এবং স্পর্শকাতর পয়েন্টগুলোতে তিন শতাধিক অত্যাধুনিক নিরাপত্তা ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে।

 

সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন যাতায়াত সম্পূর্ণভাবে বিঘ্নিত করে এবং গোটা শহরকে দেশের অন্যান্য অংশ থেকে অবরুদ্ধ করে দেওয়ার হীন উদ্দেশ্যে নয়াদিল্লির অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পঁয়তাল্লিশটি মেট্রোরেল স্টেশনের সবগুলো অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

 

শুধু তাই নয়, রাজধানীর বাইরের বিভিন্ন রাজ্য থেকে যেন কোনো আন্দোলনকারী বা সাধারণ সমর্থক শহরে প্রবেশ করে এই বিক্ষোভে যোগ দিতে না পারে, তা নিশ্চিত করতে দিল্লিগামী অন্তত আড়াইশোটি যাত্রীবাহী ট্রেনও আকস্মিকভাবে বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে।

 

সরকারের এই অপরিকল্পিত ও একগুঁয়ে সিদ্ধান্তের ফলে হাজার হাজার সাধারণ যাত্রী, নারী, শিশু এবং বয়স্ক মানুষ বিভিন্ন স্টেশনে আটকা পড়ে চরম অমানবিক ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। নিরাপত্তার এই বাহ্যিক কড়াকড়ি এবং অবরুদ্ধ অবস্থার পাশাপাশি বিরোধী রাজনৈতিক কণ্ঠস্বরকে চিরতরে স্তব্ধ করে দেওয়ার জন্য প্রশাসন এক ব্যাপক, বেআইনি ও সাঁড়াশি ধরপাকড় অভিযান শুরু করেছে।

 

প্রাপ্ত তথ্যমতে, শুক্রবার সন্ধ্যা থেকেই রাজধানী নয়াদিল্লি এবং এর সংলগ্ন বিভিন্ন আবাসিক ও বাণিজ্যিক এলাকাগুলোতে পুলিশের একাধিক বিশেষ দল একযোগে অভিযান চালায়। এই আকস্মিক, ভীতিকর ও পূর্বপরিকল্পিত গভীর রাতের অভিযানে এখন পর্যন্ত এক হাজারেরও বেশি সাধারণ নাগরিক, রাজনৈতিক কর্মী এবং সিজেপির সাধারণ সমর্থককে কোনো ধরনের সুনির্দিষ্ট আইনি অভিযোগ বা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছাড়াই সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে আটক করা হয়েছে।

 

আটকদের এই দীর্ঘ ও অত্যন্ত উদ্বেগজনক তালিকার মধ্যে ককরোচ জনতা পার্টির শীর্ষ স্থানীয় তিন প্রধান সংগঠক-অভিজিৎ দীপকে, সৌরভ দাস এবং আশুতোষ রাঙ্কার মতো প্রথম সারির নেতারা রয়েছেন। এছাড়া দলটির আইনি লড়াইয়ের নেতৃত্ব দেওয়া এবং মানবাধিকার শাখার প্রধান রত্না সিংহকেও পুলিশি হেফাজতে অমানবিক অবস্থায় আটকে রাখা হয়েছে।

 

সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর ও আন্তর্জাতিক মহলে সমালোচিত বিষয়টি হলো, সরকারের বিভিন্ন বিতর্কিত নীতির গঠনমূলক সমালোচনা করে বর্তমান তরুণ প্রজন্মের কাছে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জনকারী প্রখ্যাত ভিডিও নির্মাতা ও সমাজমাধ্যম প্রভাবক ধ্রুব রাঠিকেও এই রাতের অন্ধকারে তার নিজ বাসভবন থেকে আটক করা হয়েছে।

 

একজন স্বাধীন বিষয়বস্তু নির্মাতাকে এভাবে আটক করার ঘটনাটি আধুনিক ভারতে স্বাধীন মতপ্রকাশের অধিকার এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর একটি সরাসরি ও নগ্ন আঘাত হিসেবেই বিশ্বজুড়ে বিবেচনা করা হচ্ছে।

 

রাজধানীর এই চরম শ্বাসরুদ্ধকর, ভীতিজনক এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের চরম অবক্ষয়ের পরিস্থিতিতে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের এই চলমান লড়াইয়ে সাধারণ মানুষের পাশে থাকার এক অত্যন্ত সাহসী ও দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন আম আদমি পার্টির সর্বভারতীয় আহ্বায়ক এবং দিল্লির সাবেক মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল।

 

শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিশেষ বার্তায় তিনি অত্যন্ত সাহসিকতার সঙ্গে দেশবাসীকে জানিয়েছেন যে, রাষ্ট্রযন্ত্রের কোনো ভয়ভীতি বা রক্তচক্ষু তাকে দমাতে পারবে না এবং তিনি তার পরিবারের সকল সদস্যকে সঙ্গে নিয়ে সিজেপির ডাকা এই ন্যায্য, অহিংস ও গণতান্ত্রিক বিক্ষোভে সশরীরে অংশগ্রহণ করবেন।

 

তিনি দেশের সমস্ত সচেতন নাগরিক, আপামর জনসাধারণ এবং বিশেষ করে তরুণ ও ছাত্র সমাজকে পুলিশের বুট বা লাঠিচার্জে বিন্দুমাত্র ভীত না হয়ে তার সঙ্গে রাজপথে নেমে এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে সোচ্চার হওয়ার উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন।

 

ভারতের নির্বাচন কমিশনের মতো একটি সম্পূর্ণ স্বাধীন ও সর্বোচ্চ সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের প্রধানের পদত্যাগের ন্যায্য দাবিকে কেন্দ্র করে দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে যে এই অভাবনীয়, গভীর এবং বহুমুখী সংকটের সৃষ্টি হয়েছে, তা ভারতের আগামী দিনের গণতান্ত্রিক ভবিষ্যৎ এবং সামগ্রিক শাসনব্যবস্থার জন্য একটি অত্যন্ত কঠিন, জটিল ও ভাগ্যনির্ধারণী পরীক্ষা হিসেবেই আজ বিশ্ববাসীর সামনে প্রতীয়মান হচ্ছে।

 

রাষ্ট্রযন্ত্র তার সর্বোচ্চ শক্তি প্রয়োগ করে কীভাবে এই পুঞ্জীভূত গণঅসন্তোষ মোকাবিলা করে এবং শেষ পর্যন্ত স্বাধীন ভারতের সাধারণ জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার জয়যুক্ত হয় কি না, সেদিকেই এখন অত্যন্ত তীক্ষ্ণ ও গভীর নজর রাখছে পুরো বিশ্বের রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রগুলো।

 

- এনডিটিভি