মঙ্গলবার, নভেম্বর ৩, ২০২৬
১৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আসামে উচ্ছেদ অভিযানে মসজিদ ও বসতবাড়ি ধ্বংস, চরম নিরাপত্তাহীনতায় মুসলিমরা

আর এন এস আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৩ নভেম্বর, ২০২৬, ০৬:০৮ পিএম

আসামে উচ্ছেদ অভিযানে মসজিদ ও বসতবাড়ি ধ্বংস, চরম নিরাপত্তাহীনতায় মুসলিমরা
ছবি : Collected

ভারতের বিজেপিশাসিত আসাম রাজ্যে সাম্প্রতিক সময়ে পরিচালিত ব্যাপক উচ্ছেদ অভিযান দেশটির সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অধিকার, নিরাপত্তা এবং সাংবিধানিক সুরক্ষার বিষয়টি নিয়ে চলমান বৃহত্তর বিতর্কের আগুনে নতুন করে ঘি ঢেলেছে।

 

উচ্ছেদ অভিযানের নামে শত শত বাঙালি মুসলিম পরিবারের বসতবাড়ি এবং ধর্মীয় উপাসনালয় গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় স্থানীয় মানুষদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও মানবাধিকারকর্মীদের মতে, আসামের এই ঘটনা কোনো বিচ্ছিন্ন বিষয় নয়, বরং এটি ভারতের বিভিন্ন বিজেপিশাসিত রাজ্যে ধর্মীয় সংখ্যালঘু, দলিতসহ প্রান্তিক জনগোষ্ঠী এবং ভিন্নমতাবলম্বীদের ওপর চলমান কাঠামোগত বৈষম্য ও হয়রানির বৃহত্তর চিত্রের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ।

 

রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ বা আরএসএস এবং ক্ষমতাসীন দল বিজেপির রাজনৈতিক সমালোচকদের দাবি, হিন্দুত্ববাদী রাজনৈতিক আদর্শের ক্রমবর্ধমান ও আগ্রাসী প্রভাব সমগ্র ভারতীয় সমাজে একটি গভীর ধর্মীয় মেরুকরণ তৈরি করছে।

 

এর অবশ্যম্ভাবী পরিণতি হিসেবে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের মধ্যে বৈষম্য এবং নিরাপত্তাহীনতার অনুভূতি ক্রমশ তীব্র আকার ধারণ করছে। বিশেষ করে মুসলিমবিরোধী রাজনৈতিক বক্তব্য, মুসলিম অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে ধারাবাহিক উচ্ছেদ অভিযান, ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক পরিচয়ের ওপর মানসিক ও কাঠামোগত চাপ এবং সমান নাগরিক অধিকারের চরম লঙ্ঘনের ঘটনাগুলো দেশি ও বিদেশি বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা এবং সুশীল সমাজের মধ্যে গভীর উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।

 

সমালোচকদের মতে, কোনো সরকারি বা রাষ্ট্রীয় নীতি যখন দেশের সাধারণ মানুষের বাসস্থান, জীবিকা, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান এবং সাংবিধানিক অধিকারকে সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত করে, তখন সেই নীতিকে অবশ্যই নিরপেক্ষতা, আইনের শাসন এবং মানবাধিকারের সর্বজনীন মানদণ্ডে কঠোরভাবে যাচাই করা জরুরি।

 

আসামের সর্বশেষ এই নির্মম উচ্ছেদ অভিযান মানবাধিকার ও সাংবিধানিক সুরক্ষার সেই মৌলিক প্রশ্নগুলোকে পুনরায় জোরালোভাবে সামনে নিয়ে এসেছে। গত ১ নভেম্বর আসামের ধুবড়ি জেলার গৌরীপুর রাজস্ব চক্রের অধীন আলমগঞ্জ পার্ট-৯ এলাকায় রাজ্যটির বিজেপি নেতৃত্বাধীন সরকার এক বিশাল ও অভাবনীয় উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করে।

 

স্থানীয় প্রশাসনের দাবি অনুযায়ী, অবৈধ দখলদারদের হাত থেকে প্রায় ৬৫০ বিঘা সরকারি জমি উদ্ধার করার লক্ষ্যে এই অভিযান চালানো হয়। এই বিশাল এলাকা দখলমুক্ত করার নামে স্থানীয় প্রশাসন অর্ধশতাধিক ভারী খননযন্ত্র বা বুলডোজার এবং বিপুলসংখ্যক সশস্ত্র পুলিশ সদস্য মোতায়েন করে।

 

এই সাঁড়াশি অভিযানে শত শত বাঙালি মুসলিম পরিবারের তিল তিল করে গড়ে তোলা বসতবাড়ি মুহূর্তের মধ্যে মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়া হয়। তবে পরিস্থিতি সবচেয়ে বেদনাদায়ক রূপ নেয় যখন মানুষের বাসস্থানের পাশাপাশি এলাকার মসজিদ, ধর্মীয় উপাসনালয়, মাজার এবং কবরস্থানসহ বিভিন্ন পবিত্র স্থাপনাগুলোও চরম নির্দয়ভাবে ভেঙে ফেলা হয়।

 

প্রশাসনের এই আকস্মিক ও কঠোর পদক্ষেপে ওই এলাকার কয়েক হাজার মানুষ সম্পূর্ণভাবে গৃহহীন ও সহায়-সম্বলহীন হয়ে খোলা আকাশের নিচে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন। উচ্ছেদ অভিযানকে কেন্দ্র করে স্থানীয় মুসলিম পরিবারগুলোর মধ্যে যেমন চরম মাত্রার উদ্বেগ দেখা দিয়েছে, তেমনি ভবিষ্যৎ নিয়ে তৈরি হয়েছে এক নিদারুণ অনিশ্চয়তা।

 

অভিযানের সময় নিজেদের মাথা গোঁজার ঠাঁই এবং দীর্ঘদিনের পরিচিত পরিবেশ চোখের সামনে ধ্বংস হতে দেখে স্থানীয় বাসিন্দারা কান্নায় ভেঙে পড়েন, যা এক ভয়াবহ মানবিক সংকটের চিত্র ফুটিয়ে তোলে।

 

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া অসংখ্য ভিডিও চিত্রে দেখা যায়, ভারী বুলডোজারগুলো যখন মসজিদের দিকে ধেয়ে আসছিল, তখন অসহায় নারীরা বুকফাটা কান্নায় ভেঙে পড়ছেন এবং শেষ সম্বলটুকু রক্ষার্থে সৃষ্টিকর্তার কাছে দুই হাত তুলে প্রার্থনা করছেন।

 

ধর্মীয় স্থাপনা এবং পূর্বপুরুষদের কবরস্থানের কাছেও বিপুলসংখ্যক শোকার্ত মানুষকে হতবিহ্বল অবস্থায় জড়ো হতে দেখা যায়। আলমগঞ্জে উচ্ছেদ অভিযান চলাকালে সৃষ্ট এই হৃদয়বিদারক পরিস্থিতি প্রমাণ করে যে, ক্ষতিগ্রস্তদের কাছে বিষয়টি কেবল একটুকরো জমি বা বসতবাড়ি হারানোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়।

 

এর সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে জড়িয়ে রয়েছে তাদের আজন্ম লালিত নিরাপত্তা, সামাজিক মর্যাদা, ধর্মীয় পরিচয় এবং নতুন করে জীবন শুরু করার এক ভয়াবহ অনিশ্চয়তা। বিশেষ করে সমাজের অত্যন্ত দরিদ্র ও প্রান্তিক এই পরিবারগুলোর মাথা গোঁজার ঠাঁই হারানোর পাশাপাশি তাদের সামাজিক ও ধর্মীয় পরিসরও সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় তাদের ভবিষ্যৎ আক্ষরিক অর্থেই অন্ধকারের অতল গহ্বরে নিমজ্জিত হয়েছে।

 

উচ্ছেদ অভিযানে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সংখ্যা নিয়ে স্থানীয় প্রশাসন এবং বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে কিছুটা ভিন্ন ভিন্ন তথ্য উঠে এলেও ক্ষয়ক্ষতির বিশালত্ব কোনোভাবেই অস্বীকার করার উপায় নেই। ধুবড়ি জেলা প্রশাসনের আনুষ্ঠানিক ভাষ্য অনুযায়ী, উদ্ধারকৃত ৬৫০ বিঘা জমি থেকে প্রায় ৫৫০টি পরিবারকে উচ্ছেদ করা হয়েছে।

 

তবে স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের সরেজমিন প্রতিবেদনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সংখ্যা ৬৪০ থেকে ৭৫০ পর্যন্ত উল্লেখ করা হয়েছে। বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, এই অভিযানে ৬৪০টিরও বেশি বাঙালি মুসলিম পরিবারের বসতবাড়ি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় অন্তত চার হাজারেরও বেশি মানুষ রাতারাতি বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।

 

প্রশাসনের পক্ষ থেকে বারবার দাবি করা হচ্ছে যে, উচ্ছেদ করা জমিগুলো সম্পূর্ণ সরকারি মালিকানাধীন এবং আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় নোটিশ প্রদানসহ সকল প্রশাসনিক প্রক্রিয়া যথাযথভাবে অনুসরণ করেই এই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।

 

কিন্তু স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেকেই গণমাধ্যমের কাছে দাবি করেছেন যে, তারা বংশপরম্পরায় দীর্ঘদিন ধরে ওই জমিতে বসবাস করে আসছেন। উচ্ছেদের আগে প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাদের সঙ্গে যে ধরনের অমানবিক আচরণ করা হয়েছে এবং পুনর্বাসনের কোনো কার্যকর ও সম্মানজনক বিকল্প ব্যবস্থা না রেখেই যেভাবে তাদের পথে বসানো হয়েছে, তা নিয়ে তারা তীব্র ক্ষোভ ও প্রশ্ন তুলেছেন।

 

আসামে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে রাজ্যটিতে বসবাসরত বাঙালি মুসলিম জনগোষ্ঠীর বসতি উচ্ছেদ নিয়ে বিভিন্ন সময়ে তীব্র সমালোচনা হয়েছে এবং সর্বশেষ এই অভিযান সেই পুরোনো বিতর্ককে নতুন করে আন্তর্জাতিক আঙিনায় নিয়ে এসেছে।

 

বিগত ২০২১ সালে বিজেপি আসামে ক্ষমতায় আসার পর থেকে পরিচালিত বিভিন্ন ধারাবাহিক উচ্ছেদ অভিযানে প্রায় ৫০ হাজার মানুষ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, যাদের নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশই হলেন বাঙালি মুসলিম।

 

আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্সের ২০২৫ সালের জুলাই মাসে প্রকাশিত একটি বিস্তারিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, আসামে হাজার হাজার বাঙালি ভাষাভাষী মুসলিম পরিবারকে অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে তাদের বাড়িঘর থেকে উচ্ছেদ করা হয়েছে।

 

সরকারি কর্মকর্তারা প্রতিনিয়ত তাদের বিরুদ্ধে সরকারি জমি দখল করার অথবা প্রতিবেশী দেশ থেকে আসা অবৈধ অভিবাসী হওয়ার গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন। তবে উচ্ছেদের শিকার হওয়া এই অসংখ্য বাসিন্দার দৃঢ় দাবি, তারা বংশপরম্পরায় ভারতের বৈধ নাগরিক এবং তাদের কাছে প্রয়োজনীয় নথিপত্রও রয়েছে।

 

সমালোচকদের অভিযোগ, প্রধানত মুসলিম অধ্যুষিত এলাকাগুলোকে সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করে বারবার বুলডোজার অভিযান চালানো এবং বিশেষ করে বাঙালি মুসলিমদের পরিচয় ও নাগরিকত্ব নিয়ে রাজনৈতিক নেতাদের উসকানিমূলক বক্তব্যের কারণে ওই নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠীর মধ্যে এক ধরনের স্থায়ী নিরাপত্তাহীনতা ও ভয়ের সংস্কৃতি তৈরি হয়েছে।

 

মানবাধিকারকর্মীদের একটিই প্রশ্ন, উচ্ছেদের ক্ষেত্রে আইনি সুরক্ষা, প্রশাসনিক স্বচ্ছতা এবং পুনর্বাসনের মানবিক ব্যবস্থা ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে রাষ্ট্রের সকল নাগরিকের জন্য সমানভাবে কার্যকর হচ্ছে কি না।

 

বসতবাড়ি ও মাথা গোঁজার ঠাঁই হারানোর পাশাপাশি আসামের এই বাস্তুচ্যুত মুসলিম পরিবারগুলোর সামনে এখন নতুন করে ভোটাধিকার হারানোর মতো এক মারাত্মক সাংবিধানিক সংকট ও গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

 

২০২৬ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত প্রখ্যাত ভারতীয় সংবাদমাধ্যম স্ক্রল-এর এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে অত্যন্ত স্পষ্টভাবে বলা হয়, বাড়িঘর ভেঙে দেওয়ার পর বাস্তুচ্যুত বাঙালি মুসলিমদের একটি বিশাল অংশ আসন্ন নির্বাচনগুলোতে ভোটার তালিকায় নিজেদের নাম ধরে রাখা কিংবা পুনরায় অন্তর্ভুক্ত করার ক্ষেত্রে চরম আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও সমস্যায় পড়েছেন।

 

ওই গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদনটিতে ধুবড়ি ও উরিয়ামঘাট এলাকায় সম্ভাব্য ক্ষতিগ্রস্ত প্রায় ৫ হাজার ৭০০ জন ভোটারের তথ্য পরিসংখ্যানসহ তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে শুধুমাত্র ধুবড়ির চারটি ভোটকেন্দ্র থেকে প্রায় ৭৫৬ জন এবং উরিয়ামঘাটের পাঁচটি ভোটকেন্দ্র থেকে আরও ৪ হাজার ৯৪৫ জনের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়ার চাঞ্চল্যকর তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে।

 

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, উচ্ছেদের কারণে তাদের স্থায়ী ঠিকানা সম্পূর্ণ মুছে গেছে এবং বসবাসের প্রমাণসংক্রান্ত নথিপত্র নষ্ট হওয়ায় আইনি জটিলতা তৈরি হয়েছে। ফলস্বরূপ, ভারতের মতো একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে তাদের বৈধ ভোটার নিবন্ধন বজায় রাখা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

 

অন্যদিকে, এই সাংবিধানিক সংকটের বিষয়টি আন্তর্জাতিক মহলেরও দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। ২০২৬ সালের ২৯ অক্টোবর প্রকাশিত ভারতের ভোটার তালিকা সংশোধন ও হালনাগাদ সংক্রান্ত এক বিশেষ প্রতিবেদনে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

 

সংস্থাটি তাদের প্রতিবেদনে ভোটার তালিকায় বিভিন্ন উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অনিয়ম, প্রশাসনিক যথাযথ প্রক্রিয়ার চরম অভাব এবং বিশেষ করে প্রান্তিক ও সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর ভোটার তালিকা থেকে সুকৌশলে বাদ পড়ার মারাত্মক ঝুঁকির কথা তুলে ধরেছে।

 

সংস্থাটি তাদের পর্যবেক্ষণে নির্দিষ্টভাবে মুসলিম ভোটারদের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার জন্য একটি সংঘবদ্ধ গোষ্ঠীর একযোগে ভিত্তিহীন আপত্তি জানানোর ভয়াবহ ঘটনাও প্রকাশ্যে এনেছে।

 

আসামের এই ধারাবাহিক ঘটনাপ্রবাহে একটি গণতান্ত্রিক দেশের সবচেয়ে সংবেদনশীল বিষয়-নাগরিকত্ব, ভোটাধিকার এবং আইনের চোখে সকল নাগরিকের সমান অধিকার নিশ্চিত করার বিষয়টি আজ নতুন করে দেশি-বিদেশি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

 

সমালোচক এবং মানবাধিকার প্রবক্তাদের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের কারণে কিংবা বাসস্থান হারানোর কারণে কোনো স্বাধীন নাগরিকের গণতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক অধিকার কোনোভাবেই ক্ষুণ্ন হওয়া উচিত নয়; বরং রাষ্ট্রকেই এগিয়ে এসে এই অসহায় ও বাস্তুচ্যুত মানুষদের নাগরিক অধিকার ও সম্মানজনক পুনর্বাসন নিশ্চিত করতে হবে।

 

- এনডিটিভি, রয়টার্স