১৯৮৫ সালের ১২ আগস্ট জাপানের ইতিহাসে এক কালো দিন হিসেবে চিহ্নিত। এদিন জাপান এয়ারলাইন্সের (JAL) ফ্লাইট ১২৩ গুনমা প্রদেশের পার্বত্য অঞ্চলে বিধ্বস্ত হয়। এটি ছিল বিমান চলাচলের ইতিহাসে অন্যতম ভয়াবহ দুর্ঘটনা। ৪০ বছর আগের সেই মর্মান্তিক ঘটনায় ৫২০ জন যাত্রী প্রাণ হারান, এবং মাত্র চারজন অলৌকিকভাবে বেঁচে যান। কিন্তু দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও এই দুর্ঘটনা ঘিরে বিতর্কিত তত্ত্ব এবং রহস্যের জাল আজও কাটেনি।
সরকারি তদন্তে বলা হয়েছিল, বোয়িং কোম্পানি-এর ত্রুটিপূর্ণ মেরামতের কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। তবে, এই সরকারি প্রতিবেদনের পরও অনেকেই মনে করেন, দুর্ঘটনার পেছনে অন্য কোনো কারণ থাকতে পারে। এ নিয়ে বিভিন্ন বিতর্কিত তত্ত্ব এখনো মানুষের মুখে মুখে ঘুরছে।
বিমান দুর্ঘটনার ৪০ বছর পূর্তিতে নিহতদের স্বজনরা গুনমা প্রদেশের উয়েনো গ্রামে একত্রিত হয়েছেন। সেখানে তারা তাদের প্রিয়জনদের স্মৃতিতে প্রার্থনা করেন এবং শ্রদ্ধা জানান। নিহতদের স্মরণে তৈরি করা স্মৃতিস্তম্ভের সামনে দাঁড়িয়ে অনেকেই আবেগঘন হয়ে পড়েন। কিমি ওজাওয়া, যিনি এই দুর্ঘটনায় তার স্বামীকে হারিয়েছিলেন, তিনি বলেন, "৪০ বছর কেটে গেছে, কিন্তু ব্যথা আজও তাজা।"
এই ঘটনাটি শুধু জাপানে নয়, বিশ্বজুড়ে বিমান নিরাপত্তার বিষয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করে। সরকারি তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত হলেও, এর কিছু দিক এখনো প্রশ্নবিদ্ধ। তাই, এই দুর্ঘটনার পেছনের প্রকৃত কারণ নিয়ে রহস্য আজও পুরোপুরি সমাধান হয়নি।