সাপ্তাহিক প্রেস ব্রিফিংয়ে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র শাফকাত আলী খান এই বিষয়ে দেশের অবস্থান তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ডোভালের মন্তব্য "জনগণকে বিভ্রান্ত করার একটি ইচ্ছাকৃত প্রচেষ্টা" এবং এটি "দায়িত্বশীল রাষ্ট্র পরিচালনার রীতিনীতির পরিপন্থী। শাফকাত আলী খান বলেন, "একটি সার্বভৌম দেশের বিরুদ্ধে সামরিক আগ্রাসনের বড়াই করা জাতিসংঘের সনদ এবং আন্তর্জাতিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।" তিনি ভারতের প্রতি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বলেন, "কাল্পনিক আখ্যান তৈরি না করে ভারতের উচিত তাদের ছয়টি যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়া এবং অন্যান্য সামরিক স্থাপনায় গুরুতর ক্ষয়ক্ষতি স্বীকার করে নেওয়া। তিনি আরও যোগ করেন, এটা এখন সবাই জানে যে ভারত তথাকথিত 'সন্ত্রাসী লক্ষ্যবস্তু'তে হামলা চালানোর নামে সাধারণ নাগরিকদের হত্যা করেছে।
এক প্রশ্নের জবাবে মুখপাত্র অভিযোগ করেন, "পাকিস্তানে সন্ত্রাসবাদে ভারতের মদত দেওয়ার বিষয়টি অত্যন্ত স্পষ্ট এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এখন এ বিষয়ে আগের চেয়ে অনেক বেশি সচেতন।" তিনি আরও বলেন, "প্রাথমিকভাবে ভারতের রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসবাদ শুধু পাকিস্তানকে লক্ষ্যবস্তু করেছিল, কিন্তু আমরা দেখেছি সম্প্রতি এটি বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়েছে। ভারতের এই ক্ষতিকর তৎপরতা বন্ধ করা না গেলে তার পরিণতি ভয়াবহ হবে। তিনি কানাডা, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশে গুপ্তহত্যার অভিযানে ভারতের জড়িত থাকার দিকেও ইঙ্গিত করেন।
অন্যান্য বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে মুখপাত্র চীনকে পাকিস্তানের "ঘনিষ্ঠ বন্ধু" এবং "লৌহ কঠিন ভাই" হিসাবে বর্ণনা করেন এবং কৌশলগত সহযোগিতার ওপর জোর দেন। একই সাথে তিনি বলেন, "ঐতিহাসিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আমাদের অত্যন্ত দৃঢ় সম্পর্ক রয়েছে এবং আমরা এই সম্পর্ক বজায় রাখতে আগ্রহী।" শিগগিরই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন। সব মিলিয়ে, ডোভালের মন্তব্যের পর দুই পরমাণু শক্তিধর প্রতিবেশীর মধ্যে নতুন করে কূটনৈতিক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।
---