শনিবার, জুলাই ১৮, ২০২৬
৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বন্যা পরবর্তী করাচি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৫ আগস্ট, ২০২৫, ০৮:৩৪ এএম

বন্যা পরবর্তী করাচি
ফাইল ছবি

গত সপ্তাহের প্রবল বর্ষণের ক্ষত এখনো শুকায়নি পাকিস্তানের বাণিজ্যিক রাজধানী করাচিতে। বন্যা পরবর্তী ভাঙাচোরা ও জলাবদ্ধ রাস্তাঘাট মেরামতের কারণে সোমবার (২৫ আগস্ট, ২০২৫) সকাল থেকে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে, যা নগরবাসীর জন্য চরম দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। গত ১৯ আগস্টের মুষলধারে বৃষ্টিতে শহরের অবকাঠামো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। রাস্তাঘাটে বড় বড় গর্ত তৈরি হওয়া এবং বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থা প্রায় ভেঙে পড়ে। এক সপ্তাহ পরেও সেই ভোগান্তির রেশ কাটেনি। সোমবার সকাল থেকে অফিস ও স্কুলগামী হাজার হাজার মানুষ সড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে থাকেন। শহরের প্রধান সড়কগুলো খানাখন্দে ভরা এবং অনেক জায়গায় এখনো বৃষ্টির পানি জমে থাকায় পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করেছে।

 

ট্র্যাফিক পুলিশের তথ্যমতে, শহরের ব্যস্ততম এলাকা যেমন শাহিন কমপ্লেক্সের নিকটবর্তী ডক্টর জিয়াউদ্দিন আহমেদ রোড, এম. এম. আলম রোড, নাথা খান ব্রিজ, এবং গুলশান-ই-জোহরের মতো গুরুত্বপূর্ণ সড়কে 'উন্নয়নমূলক কাজের' কারণে যান চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। কোথাও ড্রেন পরিষ্কারের কাজ চলছে, আবার কোথাও রাস্তার বড় বড় গর্ত ভরাটের কাজ করায় সড়কের একটি অংশ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে, যা যানজটকে তীব্রতর করেছে। বিশেষ করে মালিবাগ, কোরাঙ্গি এবং পূর্ব করাচির বিভিন্ন এলাকা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

 

পরিস্থিতি সামাল দিতে করাচি ট্র্যাফিক পুলিশ (কেটিপি) হিমশিম খাচ্ছে। বিভিন্ন স্থানে ট্র্যাফিক বিকল্প পথে ঘুরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। কেটিপি এক বিবৃতিতে, যাত্রীদেরকে যেকোনো অসুবিধার সম্মুখীন হলে বিকল্প পথের তথ্যের জন্য তাদের হেল্পলাইন নম্বর ১৯১৫-এ যোগাযোগ করার অনুরোধ জানিয়েছে। যদিও দুপুর ১২টার দিকে প্রধান সড়কগুলোতে যান চলাচল কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ার খবর পাওয়া যায়, তবে শহরের অভ্যন্তরীণ অনেক রাস্তা এখনো বন্ধ রয়েছে।

 

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আকস্মিক এই বৃষ্টিপাত করাচির ভঙ্গুর নগর পরিকাঠামোকে পুরোপুরি উন্মোচিত করে দিয়েছে। যদিও ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তাঘাট মেরামত করা জরুরি, তবে যথাযথ পরিকল্পনার অভাবে তা নগরবাসীর জন্য নতুন ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কবে নাগাদ এই পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হবে, তা এখনো অনিশ্চিত।

 

---

দাওয়ান