পাঞ্জাবের চেনাব, শতদ্রু ও রাভি নদীর পানি উপচে পড়ায় সিন্ধুর সেচ কর্মকর্তারা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছেন। এই নদীগুলো পাঞ্জনদ ব্যারেজ হয়ে মিঠানকোটের কাছে সিন্ধু নদে মিলিত হয়, যা সিন্ধু প্রদেশের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। এই সম্মিলিত পানির স্রোত গুড্ডু ব্যারেজের ওপর প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সিন্ধুর সেচমন্ত্রী জাম খান করাচি থেকে ফোনে জানান, "বর্তমান পরিস্থিতি অনুযায়ী, আমরা গুড্ডু ব্যারেজে ৬৫০,০০০ থেকে ৭০০,০০০ কিউসেক পানির প্রবাহ আশা করছি। যদিও বৃষ্টির ধরনের ওপর অনেক কিছু নির্ভর করছে, তবে আমরা যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত এবং বাঁধগুলোতে কর্মী মোতায়েন করা হয়েছে।"
এই পরিস্থিতি মোকাবেলায় সিন্ধু সরকার ইরসার পরিচালক খালিদ ইদ্রিস রানার সঙ্গে যোগাযোগ করে তারবেলা বাঁধ থেকে পানির প্রবাহ কমানোর অনুরোধ জানায়। বুধবার সকালে তারবেলা থেকে ১ লাখ ৫৪ হাজার কিউসেক পানি ছাড়া হলেও সন্ধ্যায় তা বেড়ে ২ লাখ ৫৬ হাজার কিউসেক হয়। তবে সিন্ধুর অনুরোধের পর রাত ৮টায় তা কমিয়ে ১ লাখ ৫৫ হাজার কিউসেকে নামিয়ে আনা হয়। ইরসার পরিচালক জানান, তারবেলা বাঁধে সর্বোচ্চ ধারণক্ষমতা ১,৫৫০ ফুট হলেও সাময়িকভাবে পানি ১,৫৫০.২ বা ১,৫৫০.৩ ফুট পর্যন্ত ধরে রাখা সম্ভব, যা সিন্ধুকে বাড়তি সময় দেবে। ইরসার পরিচালক খালিদ ইদ্রিস রানা আরও বলেন, "আমরা পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছি। বর্তমান পূর্বাভাস অনুযায়ী, গুড্ডু ব্যারেজে প্রায় ৬৫০,০০০ কিউসেক পানির একটি আকস্মিক বন্যা হতে পারে, যা পাঁচ থেকে ছয় ঘণ্টা স্থায়ী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আমাদের প্রধান লক্ষ্য হলো, গুড্ডু ব্যারেজের প্রবাহ যেকোনো মূল্যে ৬০০,০০০ কিউসেকের নিচে রাখা, যাতে বড় ধরনের কোনো বিপর্যয় এড়ানো যায়।
---