ঘটনার সূত্রপাত ২০১০ সালে, যখন অভিযুক্ত ব্যক্তির ছয় বা সাত বছর বয়সী কন্যা তার মা ও মামার কাছে অভিযোগ করে যে তার বাবা তার সাথে "খারাপ কাজ" করেছে, যার ফলে সে তীব্র ব্যথা অনুভব করে। এই অভিযোগের ভিত্তিতে শিশুটির বাবাকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং পাকিস্তান দণ্ডবিধির ৩৭৬(১) ধারায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ৩৫,০০০ রুপি জরিমানা করা হয়। ২০১৩ সালে লাহোর হাইকোর্টও নিম্ন আদালতের এই রায় বহাল রাখে।
পরবর্তীতে, অভিযুক্ত ব্যক্তি লাহোর হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে আপিল করেন। তিন সদস্যের বেঞ্চে এই মামলার শুনানি হয়। সুপ্রিম কোর্ট তার পর্যবেক্ষণে জানায়, মামলার প্রমাণে মারাত্মক অসঙ্গতি রয়েছে। আদেশে বলা হয়, "চিকিৎসকের মতামত ছিল স্ব-বিরোধী। তিনি প্রথমে শিশুটিকে ধর্ষণ করা হয়েছে বলে জানালেও, পরবর্তীতে জেরার মুখে রাসায়নিক পরীক্ষকের রিপোর্টের ভিত্তিতে স্বীকার করেন যে ধর্ষণের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
আদালত আরও উল্লেখ করে যে, কোর্ট শিশুটির সাক্ষ্য নেওয়ার আগে তার মানসিক পরিপক্কতা বা 'র্যাশনালিটি টেস্ট' করেনি, যা এই ধরনের মামলায় অত্যন্ত জরুরি। বিচারপতি নাজাফি বলেন, "এই বিষয়টি আপিলকারীর বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগের সম্ভাবনাকে উড়িয়ে দেয় না, বিশেষ করে যখন জানা যায় যে অভিযোগকারী (মা) এবং আপিলকারীর মধ্যে পারিবারিক বিরোধ ছিল। দীর্ঘ ১২ বছর কারাভোগের পর অবশেষে আদালতের এই রায়ে ন্যায়বিচার পেলেন ভুক্তভোগী ব্যক্তি, যা প্রমাণ ব্যবস্থার দুর্বলতা এবং মিথ্যা অভিযোগের ভয়াবহ পরিণতিকে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে।
---