শনিবার, জুলাই ১৮, ২০২৬
৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইমরান খানের ভাগ্নে শাহরেজ খান কারাগারে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ৩০ আগস্ট, ২০২৫, ০৯:০০ এএম

ইমরান খানের ভাগ্নে শাহরেজ খান কারাগারে
ফাইল ছবি

পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের ভাগ্নে এবং আন্তর্জাতিক ট্রায়াথলেট শাহরেজ খানকে ১৪ দিনের বিচার বিভাগীয় হেফাজতে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন লাহোরের একটি সন্ত্রাস দমন আদালত। গত বছর ৯ই মে’র সহিংস বিক্ষোভে জিন্নাহ হাউসে হামলার ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে তাকে এই নির্দেশ দেওয়া হয়। আট দিনের শারীরিক রিমান্ড শেষে শাহরেজকে সন্ত্রাস দমন আদালতের বিচারক মনজার আলি গিলের এজলাসে হাজির করে লাহোর পুলিশ। শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষ শাহরেজের শারীরিক রিমান্ডের মেয়াদ আরও ৩০ দিন বাড়ানোর আবেদন করে। অন্যদিকে, শাহরেজের আইনজীবীরা তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগকে ভিত্তিহীন দাবি করে মামলা থেকে অব্যাহতির আবেদন জানান।

 

শাহরেজের পক্ষে আইনজীবী রানা মুদাসসার উমর এবং পিটিআই-এর সেক্রেটারি জেনারেল সালমান আকরাম রাজা আদালতে জোরালো সওয়াল করেন। অ্যাডভোকেট উমর আদালতকে জানান, ঘটনার দিন অর্থাৎ ৯ মে, ২০২৩-এ শাহরেজ লাহোরেই ছিলেন না। তিনি পরিবার ও বন্ধুদের সাথে খাইবার পাখতুনখোয়ার চিত্রালে অবস্থান করছিলেন। এর সপক্ষে তারা সাতজন প্রত্যক্ষদর্শীর হলফনামা এবং হোটেলের ব্যবস্থাপকের বক্তব্য আদালতে উপস্থাপন করেন।

 

আইনজীবী উমর অভিযোগ করেন, "শুধু ইমরান খানের ভাগ্নে হওয়ার কারণেই তাকে এই মামলায় জড়ানো হয়েছে। তার মা আলীমা খান যেহেতু ইমরান খানের মুক্তির জন্য সোচ্চার, তাই তাকে চুপ করাতেই তার ছেলেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ইমতিয়াজ আহমদ সিপ্রা বলেন, শাহরেজের কাছ থেকে একটি লাঠি উদ্ধার করা হয়েছে এবং তার ফটোগ্রামমেট্রি পরীক্ষাও সম্পন্ন হয়েছে। ঘটনার অধিকতর তদন্তের জন্য এবং তার সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট যাচাই করার জন্য রিমান্ড প্রয়োজন।

 

দুই পক্ষের বক্তব্য শোনার পর বিচারক পুলিশের রিমান্ডের আবেদন নাকচ করে দেন। আদালত তার পর্যবেক্ষণে জানায়, সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট বা ভ্রমণ ইতিহাস যাচাই করার জন্য আসামিকে শারীরিক হেফাজতে রাখার প্রয়োজন নেই। বিচারক আগামী ১৩ সেপ্টেম্বরের মধ্যে মামলার চার্জশিট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন এবং শাহরেজকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

 

উল্লেখ্য, গত ২১ আগস্ট লাহোরের বাসভবন থেকে শাহরেজকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর একদিন পরেই তার ভাই শেরশাহ খানকেও একই অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। শাহরেজ ও তার ভাইয়ের গ্রেপ্তার নিয়ে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এবং হিউম্যান রাইটস কমিশন অফ পাকিস্তান (HRCP) গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং এটিকে "রাজনৈতিক প্রতিহিংসা" বলে অভিহিত করেছে।

 

---

দাওয়ান