সফরের আগে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে (X) দেওয়া এক পোস্টে প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ বলেন, "আমি মহামান্য প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং অন্যান্য বিশ্বনেতাদের সাথে সাক্ষাতের জন্য উন্মুখ। চীনের সাথে আমাদের সর্বাত্মক কৌশলগত সহযোগী অংশীদারিত্ব এবং এই অঞ্চলের অন্যান্য দেশের সাথে সম্পর্ক আরও মজবুত করাই এই সফরের লক্ষ্য।" তিনি আঞ্চলিক সহযোগিতা বৃদ্ধি, শান্তি ও সমৃদ্ধির জন্য বহুপাক্ষিকতাকে শক্তিশালী করার ওপর জোর দেন।
পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতি অনুযায়ী, এই সফরে প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং প্রিমিয়ার লি কিয়াংয়ের সাথে বৈঠক করবেন। বৈঠকে পাকিস্তান-চীন দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হবে। এছাড়া, তিনি বেইজিংয়ে "বিশ্ব ফ্যাসিস্ট-বিরোধী যুদ্ধের ৮০তম বার্ষিকী" উপলক্ষে আয়োজিত সামরিক কুচকাওয়াজে প্রেসিডেন্ট শি এবং অন্যান্য বিশ্বনেতাদের সাথে যোগ দেবেন।
এই সফরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এজেন্ডা হলো চীন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডোর (সিপিইসি)-এর দ্বিতীয় পর্বের আনুষ্ঠানিক সূচনা। প্রায় পাঁচ বছরের বিলম্বের পর শিল্প সহযোগিতাকে কেন্দ্র করে এই নতুন পর্ব শুরু হতে যাচ্ছে। পাকিস্তানের পরিকল্পনামন্ত্রী আহসান ইকবালের মতে, এই সফরে সিপিইসি ফেজ-২ এর জন্য সুস্পষ্ট অগ্রাধিকার নির্ধারণ এবং বাস্তবসম্মত ফলাফলের বিষয়ে উভয় পক্ষ সম্মত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ চীনের সম্মানিত ব্যবসায়ী এবং কর্পোরেট নির্বাহীদের সাথেও বৈঠক করবেন, যেখানে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য, অর্থনীতি এবং বিনিয়োগ সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা হবে। তিনি বেইজিংয়ে একটি পাকিস্তান-চীন বিজনেস-টু-বিজনেস বিনিয়োগ সম্মেলনেও ভাষণ দেবেন। এই সফরকে উভয় দেশের মধ্যে চলমান উচ্চ-পর্যায়ের আদান-প্রদানের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে দুই দেশের সম্পর্ককে নতুন মাত্রা দেবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
---