অল পাকিস্তান গুডস ট্রান্সপোর্ট অ্যালায়েন্সের সভাপতি নিসার হুসেন জাফরি জানিয়েছেন, গত তিন দিন ধরে পণ্য সরবরাহে মারাত্মক সংকট তৈরি হয়েছে। স্বাভাবিক অবস্থায় করাচি থেকে পাঞ্জাবের বিভিন্ন অঞ্চলে পণ্য পৌঁছাতে যে সময় লাগতো, এখন তার চেয়ে দুই থেকে তিন দিন বেশি লাগছে। তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, পাঞ্জাবের বিভিন্ন শহর প্রশাসন কন্টেইনার ট্রাকগুলোর জন্য বিকল্প পথের কোনো নির্দেশনা বা ডাইভারশন সাইন না দেওয়ায় চালকদের ভোগান্তি চরমে উঠেছে। এর ফলে সময় ও জ্বালানি দুটোই অপচয় হচ্ছে।
বন্যার কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কৃষি খাত। সার উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর উপদেষ্টা পরিষদের নির্বাহী পরিচালক ব্রিগেডিয়ার (অব.) শেরশাহ মালিক বলেন, শতদ্রু, রাভি ও চেনাব নদীর তীরবর্তী বন্যা কবলিত এলাকাগুলোতে সার সরবরাহ প্রায় স্থগিত হয়ে গেছে। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, "আগামী কয়েকদিনের মধ্যে বন্যা মুলতান অতিক্রম করে সিন্ধু প্রদেশে প্রবেশ করবে। এরপরই আসল পরিস্থিতি বোঝা যাবে। অন্যদিকে, করাচির পাইকারি সবজি বাজারের সভাপতি হাজী শাহজাহান জানান, বন্যা ও বৃষ্টির কারণে বেলুচিস্তান থেকে পেঁয়াজ এবং হিমাগার থেকে আলুর সরবরাহ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে স্থানীয় বাজারে।
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, এই প্রাকৃতিক দুর্যোগ পাকিস্তানের ভঙ্গুর অর্থনীতিকে আরও সংকটে ফেলতে পারে। ইনসাইট সিকিউরিটিজের বিশ্লেষক মোহাম্মদ শাহরোজের মতে, এই বন্যার কারণে কৃষি উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থা ঝুঁকির মুখে পড়েছে, যা নতুন করে সরবরাহ-জনিত মুদ্রাস্ফীতির চাপ তৈরি করতে পারে। তবে আশার কথা হলো, এখনো পর্যন্ত তেল এবং ওষুধের সরবরাহে কোনো বড় ধরনের ব্যাঘাত ঘটেনি বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। কিন্তু বন্যা পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে এই খাতগুলোও সংকটের মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। সব মিলিয়ে, এই বিপর্যয় কাটিয়ে উঠতে না পারলে পাকিস্তানের সাধারণ মানুষকে আরও কঠিন সময়ের মুখোমুখি হতে হবে।
---