পাকিস্তানের শিল্প ও উৎপাদন মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জারি করা এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়, "সরকার এবং চিনি শিল্পের মধ্যে আলোচনার পর চিনির নতুন এক্স-মিল মূল্য নির্ধারণের বিষয়ে ঐকমত্য достигнуত হয়েছে।"
মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, এই সিদ্ধান্তের আলোকে সকল প্রাদেশিক সরকারকে নিজ নিজ অঞ্চলে নির্ধারিত মূল্যে চিনির সরবরাহ নিশ্চিত করার জন্য কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এর ফলে খুচরা বাজারেও চিনির দামে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
চিনির বাজার নিয়ন্ত্রণে এটিই সরকারের একমাত্র পদক্ষেপ নয়। সম্প্রতি, নিত্যপ্রয়োজনীয় এই পণ্যটির দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে ফেডারেল সরকার বিদেশ থেকে পাঁচ লক্ষ মেট্রিক টন চিনি আমদানির অনুমোদন দিয়েছে। সরকারের অর্থনৈতিক সমন্বয় কমিটি (ECC) এই বিশাল পরিমাণ চিনি আমদানির সিদ্ধান্ত নেয়, যাতে দেশের কোথাও চিনির ঘাটতি তৈরি না হয় এবং অসাধু ব্যবসায়ীরা কৃত্রিম সংকট তৈরি করে দাম বাড়াতে না পারে।
এর আগেও সরকার চিনির মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল। গত মার্চ মাসে, কম্পিটিশন কমিশন অফ পাকিস্তান (CCP) যখন কয়েকটি চিনি কলকে দাম কারসাজির বিরুদ্ধে সতর্ক করে, তখন উপ-প্রধানমন্ত্রী ইসহাক দার বলেছিলেন যে খুচরা পর্যায়ে চিনির দাম প্রতি কেজি ১৬৪ রুপির বেশি হওয়া উচিত নয়।
সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে চিনির গুরুত্ব অপরিসীম। বারবার এর মূল্যবৃদ্ধি নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোর ওপর ব্যাপক চাপ সৃষ্টি করছিল। সরকারের এই সমন্বিত পদক্ষেপ—একদিকে দাম নির্ধারণ এবং অন্যদিকে আমদানি বৃদ্ধির মাধ্যমে সরবরাহ নিশ্চিত করা—দেশটির সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি আনবে বলে আশা করা হচ্ছে। এখন দেখার বিষয়, সরকারের এই সিদ্ধান্ত মাঠ পর্যায়ে কতটা কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হয়।
---