নেপালে কয়েকদিনের ভয়াবহ সহিংসতার পর রাজধানী কাঠমান্ডুর রাস্তায় সেনা টহল শুরু হয়েছে এবং দেশজুড়ে কারফিউ জারি করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগের পর সৃষ্ট নেতৃত্বশূন্যতার মধ্যে সেনাবাহিনী শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছে।
এরই মধ্যে, যে ‘জেন-জি’ প্রজন্মের তরুণরা দুর্নীতিবিরোধী এই আন্দোলন শুরু করেছিল, তারা মঙ্গলবারের ব্যাপক অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরের ঘটনা থেকে নিজেদের দূরে সরিয়ে নিয়েছে।
এক বিবৃতিতে আন্দোলনকারীরা দাবি করেছে, তাদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকে "সুবিধাবাদী" অনুপ্রবেশকারীরা "ছিনতাই" (hijack) করেছে। তারা জানিয়েছে, "আমাদের আন্দোলন ছিল এবং থাকবে অহিংস। আমরা সহিংসতার তীব্র নিন্দা জানাই।" একইসঙ্গে, বুধবার থেকে পরবর্তী সকল বিক্ষোভ কর্মসূচি স্থগিত করার ঘোষণাও দিয়েছে তারা।
আন্দোলনকারীদের এই দাবির সঙ্গে একমত হয়েছে সেনাবাহিনীও। সেনা মুখপাত্র জানিয়েছেন, কিছু "নৈরাজ্যবাদী গোষ্ঠী" বিক্ষোভের সুযোগ নিয়ে সরকারি-বেসরকারি সম্পত্তিতে লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ চালিয়েছে। সহিংসতায় জড়িত থাকার অভিযোগে এখন পর্যন্ত ২৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগের পর নেপাল এখন এক গভীর রাজনৈতিক সংকটের মধ্যে রয়েছে। একদিকে সেনাবাহিনীর শৃঙ্খলা ফেরানোর চেষ্টা, অন্যদিকে মূল আন্দোলনকারীদের সহিংসতা থেকে সরে আসার ঘোষণা—এই পরিস্থিতিতে দেশটির ভবিষ্যৎ কোন দিকে মোড় নেবে, তা নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।