গতকাল (বৃহস্পতিবার) ন্যাটোর প্রধান মার্ক রুটে রাশিয়া থেকে তেল ও গ্যাস আমদানিকারক দেশগুলোকে "শতভাগ গৌণ নিষেধাজ্ঞার" হুমকি দেন। এর জবাবে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা তাদের সর্বাগ্রে প্রাধান্য। তারা বাজারের সহজলভ্যতা এবং বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে তাদের নীতি নির্ধারণ করে।
জয়সওয়াল আরও বলেন, "আমরা এ বিষয়ে প্রতিবেদন দেখেছি এবং পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছি। আমি আবারও বলতে চাই যে, আমাদের জনগণের জ্বালানি চাহিদা পূরণ করা আমাদের জন্য একটি অপরিহার্য অগ্রাধিকার। এই প্রচেষ্টায় আমরা বাজারে যা উপলব্ধ রয়েছে এবং বিদ্যমান বৈশ্বিক পরিস্থিতির দ্বারা পরিচালিত হই।" তিনি দ্ব্যর্থহীনভাবে "কোনো দ্বৈত নীতির" বিরুদ্ধে সতর্ক করেন।
ওয়াশিংটনে রুটে তার মন্তব্যে ব্রাজিল, ভারত ও চীনকে সতর্ক করে বলেছিলেন যে, যদি তারা রাশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্য চালিয়ে যায় তবে ইউক্রেন সংঘাতের কারণে তাদের "মারাত্মক পরিণতি" ভোগ করতে হতে পারে।
এদিকে, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরী বৃহস্পতিবার বলেছেন যে, রাশিয়ান সরবরাহ যদি গৌণ নিষেধাজ্ঞার কারণে প্রভাবিত হয়, তবে ভারত "এটি মোকাবেলা করবে"। তিনি জানান, ভারত তাদের তেলের উৎস বৈচিত্র্যময় করেছে এবং বর্তমানে প্রায় ৪০টি দেশ থেকে তেল আমদানি করছে।
ন্যাটো প্রধানের এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এলো যখন বৈশ্বিক বাণিজ্যে অনিশ্চয়তা বাড়ছে। রাশিয়ার সঙ্গে ভারতের জ্বালানি বাণিজ্য নিয়ে পশ্চিমা দেশগুলো চাপ সৃষ্টি করছে। সম্প্রতি, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রাশিয়া-ইউক্রেন শান্তি চুক্তি না হলে রাশিয়ান রপ্তানির ক্রেতাদের উপর "তীব্র" গৌণ শুল্ক আরোপের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।