জাপানের হোক্কাইডো দ্বীপের বিশ্ববিখ্যাত নিসেকো স্কি রিসোর্টের নিকটবর্তী ছোট্ট শহর কুচানে, একখণ্ড আলু ক্ষেত এখন জাতীয় পর্যায়ে অভিবাসন বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। একদিকে দেশের বিকাশমান পর্যটন শিল্পের জন্য বিদেশি কর্মীর প্রয়োজনীয়তা, অন্যদিকে স্থানীয়দের সামাজিক উদ্বেগ—এই দুইয়ের টানাপোড়েনে পড়েছে জাপান।
বিতর্কের মূলে রয়েছে একটি আবাসন প্রকল্প। ডেভেলপাররা কুচানের ওই জমিতে প্রায় ১,২০০ অস্থায়ী কর্মীর জন্য একটি আবাসন সুবিধা তৈরি করার পরিকল্পনা করেছেন, যাদের বেশিরভাগই হবেন বিদেশি। এই কর্মীরা মূলত পর্যটন কেন্দ্র এবং নির্মাণ সাইটগুলোতে কাজ করার জন্য প্রয়োজনীয়।
কিন্তু, স্থানীয় বাসিন্দারা এই প্রকল্পের বিরুদ্ধে তীব্র আপত্তি জানিয়েছেন। নিরাপত্তা এবং সামাজিক শৃঙ্খলার অবনতির আশঙ্কায়, তারা এই আবাসন নির্মাণ বন্ধ করার জন্য সরকারের কাছে একটি পিটিশন দায়ের করেছেন।
এই ঘটনাটি জাপানের একটি গভীর সংকটকে সামনে নিয়ে এসেছে। দেশটির জনসংখ্যা দ্রুত কমছে এবং বয়স্ক মানুষের সংখ্যা বাড়ছে, যার ফলে কুচানের মতো অনেক ছোট শহরে কর্মক্ষম মানুষের তীব্র অভাব দেখা দিয়েছে। অন্যদিকে, পর্যটন খাত জাপানের দ্বিতীয় বৃহত্তম রপ্তানি শিল্পে পরিণত হয়েছে, যা ধরে রাখার জন্য বিদেশি কর্মীর কোনো বিকল্প নেই।
কুচানের এই পরিস্থিতি প্রমাণ করে, জাপানকে এখন একটি কঠিন সিদ্ধান্তের মুখোমুখি হতে হবে। একদিকে যেমন পর্যটন শিল্পের বিকাশ ঘটাতে বিদেশি কর্মীদের স্বাগত জানানো প্রয়োজন, তেমনি অন্যদিকে স্থানীয় জাপানি নাগরিকদের উদ্বেগ ও সামাজিক ভারসাম্য বজায় রাখাও একটি বড় চ্যালেঞ্জ। এই দুইয়ের মধ্যে সমন্বয় সাধনই এখন জাপান সরকারের জন্য সবচেয়ে বড় পরীক্ষা।