প্রধানমন্ত্রী হিসেবে গত মঙ্গলবার দায়িত্ব গ্রহণ করা টাকাচি শনিবার দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় নেশনস (ASEAN) নেতাদের একটি সম্মেলনে যোগ দিতে কুয়ালালামপুরে ছিলেন। সেখানেই তিনি এয়ার ফোর্স ওয়ানে করে একই সম্মেলনের উদ্দেশ্যে যাত্রা করা মার্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে প্রায় ১০ মিনিট কথা বলেন।
ফোনালাপ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় প্রধানমন্ত্রী টাকাচি বলেন, "আমরা জাপান-মার্কিন জোটকে নতুন উচ্চতায় উন্নীত করার লক্ষ্যে কাজ করতে সম্মত হয়েছি।" তিনি আরও বলেন, "আমি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে জানিয়েছি যে কূটনৈতিক ও নিরাপত্তা ক্ষেত্রে জোট শক্তিশালীকরণ আমার প্রশাসনের শীর্ষ অগ্রাধিকার।"
প্রধানমন্ত্রী টাকাচির এই বক্তব্য ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে চীনের ক্রমবর্ধমান সামরিক শক্তি এবং উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক কর্মসূচির মতো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার প্রেক্ষাপটে তাৎপর্যপূর্ণ। ঐতিহাসিকভাবেই জাপান-মার্কিন নিরাপত্তা চুক্তি এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার ভিত্তি হিসেবে কাজ করেছে। নতুন প্রধানমন্ত্রী ট্রাম্পের সঙ্গে প্রথম আলাপেই এই জোটের গুরুত্বকে শীর্ষ অগ্রাধিকার দেওয়ায়, তাঁর প্রশাসন যে প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা নীতিতে কঠোর অবস্থানে থাকবে, তার স্পষ্ট ইঙ্গিত পাওয়া যায়।
তবে, আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের 'আমেরিকা ফার্স্ট' নীতির পটভূমিতে এই জোটের খরচ বহন এবং বাণিজ্য নীতি নিয়ে আগামী দিনগুলোতে উভয় পক্ষের মধ্যে আরও দর কষাকষি হতে পারে। বিশেষত, যখন ট্রাম্প প্রশাসন সামরিক অংশীদারিত্বের ক্ষেত্রে মিত্র দেশগুলোর ওপর আরও 'বোঝা ভাগ করে নেওয়ার' চাপ দেয়।
টাকাচি ও ট্রাম্পের মধ্যে আগামী মঙ্গলবার যে শীর্ষ বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হতে চলেছে, তাতে এই প্রাথমিক কথোপকথনের ধারাবাহিকতায় নিরাপত্তা সহযোগিতা এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা সংক্রান্ত বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আলোচিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। জাপানের নতুন প্রধানমন্ত্রীর জন্য এটি প্রথম আন্তর্জাতিক শীর্ষ সম্মেলন, যেখানে তিনি তার কঠোর রক্ষণশীল অবস্থান এবং আর্থিক নিরাপত্তা বিষয়ক নীতিগুলো আন্তর্জাতিক মঞ্চে তুলে ধরার সুযোগ পাবেন।
জাপানের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নির্বাচিত হওয়া টাকাচি, যিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবের অনুসারী হিসেবে পরিচিত, তার এই কূটনৈতিক তৎপরতা জাপানের বিদেশ নীতিকে আরও গতিশীল ও দৃঢ় করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।