রবিবার, ডিসেম্বর ৭, ২০২৫
২২ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

শিনজো আবে হত্যাকাণ্ড, তিন বছর পর আদালতে অভিযুক্ত, জানুয়ারিতে রায়

আর এন এস আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৭ অক্টোবর, ২০২৫, ০৭:১৫ এএম

শিনজো আবে হত্যাকাণ্ড, তিন বছর পর আদালতে অভিযুক্ত, জানুয়ারিতে রায়
ছবি: JIJI

জাপানের ইতিহাসে সবচেয়ে প্রভাবশালী এবং একইসঙ্গে বিতর্কিত নেতাদের অন্যতম, প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে-কে হত্যার তিন বছরেরও বেশি সময় পর অভিযুক্ত ব্যক্তির বিচার প্রক্রিয়া অবশেষে শুরু হতে চলেছে। মঙ্গলবার নারা জেলা আদালতে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে-কে হত্যার দায়ে অভিযুক্ত টেতসুয়া ইয়ামাগামি-এর (৪৫) বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলার শুনানি শুরু হবে।

 

আবে হত্যাকাণ্ড জাপানের কঠোর অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ আইন এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার প্রেক্ষাপটে বিশ্বজুড়ে এক গভীর আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। এই বিচার প্রক্রিয়ার দিকে তাই আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ও পর্যবেক্ষকদের নিবিড় দৃষ্টি রয়েছে।

 

২০২২ সালের জুলাই মাসে নারা শহরে একটি নির্বাচনী প্রচারণামূলক বক্তৃতার সময় ইয়ামাগামি হাতে তৈরি বন্দুক দিয়ে আবেকে পরপর দুটি গুলি করেছিলেন, যার মধ্যে একটি গুলিই তাঁর মৃত্যুর কারণ হয়েছিল। ইয়ামাগামির বিরুদ্ধে হত্যা এবং আগ্নেয়াস্ত্র ও তরবারি আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ আনা হয়েছে।

 

তদন্তকারীদের কাছে ইয়ামাগামি স্বীকার করেছেন যে, তিনি দক্ষিণ কোরিয়াভিত্তিক ধর্মীয় গোষ্ঠী ইউনিফিকেশন চার্চ-এর (যার অনুসারীরা 'মুনিজ' নামে পরিচিত) সঙ্গে আবের সম্পর্কের কারণে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীকে লক্ষ্য করেছিলেন। এই গোষ্ঠীটি ব্যাপক গণবিবাহ এবং আগ্রাসীভাবে অনুদান চাওয়ার কৌশলের জন্য পরিচিত। ইয়ামাগামি বিশ্বাস করতেন যে, এই গোষ্ঠীর কারণে তার পরিবার আর্থিক দুর্দশার শিকার হয়েছে। যদিও ইয়ামাগামি প্রাথমিকভাবে এই গোষ্ঠীর নেতাকে লক্ষ্য করতে চেয়েছিলেন, কিন্তু তিনি আবেকে তাদের 'গুরুত্বপূর্ণ সমর্থক' হিসেবে বিবেচনা করে এই হত্যাকাণ্ড ঘটান।

 

নারা জেলা আদালত ইয়ামাগামির বিচারের জন্য ১৯ দিনের সময়সূচি নির্ধারণ করেছে এবং আগামী ২১ জানুয়ারি রায় ঘোষণার দিন ধার্য করা হয়েছে। জাপানের মতো শান্ত দেশে একজন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর এই ধরনের প্রকাশ্য হত্যাকাণ্ড ছিল এক নজিরবিহীন ঘটনা, যা দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েও ব্যাপক প্রশ্ন তুলেছিল।

 

ইয়ামাগামির বিচার শুরু হওয়ার মাধ্যমে, কেবল এই হত্যাকাণ্ডের বিচারিক সমাপ্তি নয়, বরং জাপানের রাজনৈতিক এবং সামাজিক জীবনে ইউনিফিকেশন চার্চের প্রভাব সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের বিতর্কিত বিষয়গুলো পুনরায় আলোচনার কেন্দ্রে উঠে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।

 

- Japan Times