নিরাপত্তা সূত্র জানিয়েছে, তুরস্কের অনুরোধে ইসলামাবাদ আফগান তালেবানের সঙ্গে পুনরায় আলোচনায় বসতে রাজি হয়েছে। ইস্তাম্বুলে সপ্তাহান্তে দুই দেশের মধ্যে যে দ্বিতীয় দফা আলোচনা শুরু হয়েছিল, সেখান থেকে পাকিস্তানি প্রতিনিধি দলের দেশে ফিরে আসার কথা ছিল। কিন্তু তুরস্কের অনুরোধে তারা ইস্তাম্বুলে তাদের অবস্থান বাড়াতে সম্মত হন।
একজন নিরাপত্তা কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন যে, শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য এটি "আরও একটি সুযোগ" হিসেবে দেখা হচ্ছে এবং আলোচনার ধারাবাহিকতা বজায় রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে এই আলোচনার মূল কেন্দ্রবিন্দু হবে পাকিস্তানের "প্রধান দাবি"-আফগানিস্তানকে অবশ্যই পাকিস্তানের বিরুদ্ধে পরিচালিত সন্ত্রাসী কার্যকলাপের বিরুদ্ধে "স্পষ্ট, যাচাইযোগ্য এবং কার্যকর পদক্ষেপ" নিতে হবে। এই আলোচনায় পাকিস্তান আবারও জোর দিয়েছে যে, আফগানিস্তানের মাটি যেন পাকিস্তানের অভ্যন্তরে সন্ত্রাসী হামলা চালানোর জন্য ব্যবহৃত না হয়।
এর আগে আফগান ভূমি থেকে উদ্ভূত সন্ত্রাসী হামলা মোকাবিলার লক্ষ্যে পরিচালিত আলোচনা "কোনো কার্যকর সমাধান আনতে ব্যর্থ" হয়েছিল বলে জানিয়েছিলেন তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার। তথ্যমন্ত্রীর এই বিবৃতির পরপরই পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ কাবুলকে কড়া ভাষায় সতর্ক করে দেন। তিনি হুঁশিয়ারি দেন যে, যদি পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী কার্যক্রম অব্যাহত থাকে, তবে আফগানিস্তানের অভ্যন্তরে গভীরে হামলা চালানো হতে পারে। এই মন্তব্যের পরই আলোচনায় নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।
এই মুহূর্তে, আলোচনা পুনরায় শুরু করার সিদ্ধান্ত দুই দেশের মধ্যে নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার একটি কূটনৈতিক প্রয়াস হিসেবে দেখা হচ্ছে, যেখানে তুরস্ক একটি গুরুত্বপূর্ণ মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে। এই আলোচনা থেকে সন্ত্রাস দমনে সুনির্দিষ্ট ও কার্যকর পদক্ষেপ আসে কিনা, সেদিকেই এখন আন্তর্জাতিক মহলের নজর।