প্রধানমন্ত্রী তাকাইচি স্বয়ং এই বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন এবং মন্ত্রিসভাকে দ্রুততার সাথে এই পরিকল্পনা প্রণয়নের নির্দেশনা প্রদান করেন। বৈঠকে প্রবৃদ্ধি কৌশলের দায়িত্বে থাকা মন্ত্রী মিনোরু কিউচি-সহ সরকারের শীর্ষস্থানীয় অর্থনৈতিক উপদেষ্টারা উপস্থিত ছিলেন। এই নতুন অর্থনৈতিক কৌশলের মূল লক্ষ্য হলো জাপানের প্রযুক্তিগত স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন, অর্থনৈতিক নিরাপত্তা জোরদার করা এবং দীর্ঘমেয়াদী প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করা।
এই নতুন রূপরেখায় যে ১৭টি খাতকে বিনিয়োগের জন্য বিশেষভাবে চিহ্নিত করা হয়েছে, তার মধ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), জাহাজ নির্মাণ শিল্প, প্রতিরক্ষা, সেমিকন্ডাক্টর এবং অত্যাধুনিক টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থা অন্যতম। এই খাতগুলোতে সরকারি ও বেসরকারি বিনিয়োগ আকর্ষণের মাধ্যমে জাপান বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলে (সাপ্লাই চেইন) নিজের অবস্থান আরও সুদৃঢ় করতে চায়।
নবগঠিত এই অর্থনৈতিক প্যানেলের উদ্দেশ্যে দেওয়া তার প্রথম ভাষণে প্রধানমন্ত্রী তাকাইচি তার সরকারের অর্থনৈতিক দর্শন অত্যন্ত স্পষ্টভাবে তুলে ধরেন। তিনি করের বোঝা না বাড়িয়েই দেশের রাজস্ব আয় বৃদ্ধির একটি উচ্চাভিলাষী লক্ষ্যের কথা জানান। প্রধানমন্ত্রী বলেন, "আমরা জাপানের অর্থনীতির সরবরাহ কাঠামো শক্তিশালী করতে, (জনগণের) আয় বৃদ্ধি করতে, ভোক্তাদের আস্থা উন্নত করতে, ব্যবসায়িক মুনাফা বাড়াতে এবং কর না বাড়িয়েই কর রাজস্ব বৃদ্ধিতে সচেষ্ট থাকব।"
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই নীতি জাপানের দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক স্থবিরতা কাটানোর একটি প্রচেষ্টা। তাকাইচি প্রশাসন বিশ্বাস করে, সরাসরি কর বৃদ্ধির পরিবর্তে কৌশলগত খাতগুলোতে বিনিয়োগের মাধ্যমে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্প্রসারিত করা গেলে তা স্বাভাবিকভাবেই সরকারের রাজস্ব আয় বৃদ্ধি করবে এবং একইসাথে জনগণের ক্রয়ক্ষমতা ও জীবনযাত্রার মান উন্নত করবে।
এই পরিকল্পনাটি প্রধানমন্ত্রী তাকাইচির ঘোষিত "দায়িত্বশীল ও সক্রিয় রাজস্ব নীতি" (responsible and proactive fiscal policy)-এর একটি প্রধান অঙ্গ। আগামী গ্রীষ্মে এই পূর্ণাঙ্গ রূপরেখাটি প্রকাশিত হলে জাপানের দীর্ঘমেয়াদী অর্থনৈতিক গতিপথ সম্পর্কে একটি স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে।