নয়া দিল্লির তিস হাজারি আদালতের নারকোটিক ড্রাগস অ্যান্ড সাইকোট্রপিক সাবস্ট্যান্সেস (এনডিপিএস) আইনের বিশেষ বিচারক বীরেন্দ্র সিং এই আদেশ দেন। অভিযুক্ত ভারত কুমার নামক ওই ব্যক্তি বর্তমানে বিচারবিভাগীয় হেফাজতে রয়েছেন।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, অভিযুক্ত ভারত কুমার পলাতক আসামী বিকাশ মানের নির্দেশে অপর এক সহ-অভিযুক্ত তুষার গোয়েলের কাছ থেকে নিষিদ্ধ মাদকদ্রব্য সংগ্রহের উদ্দেশ্যে মুম্বাই থেকে দিল্লি ভ্রমণ করেন। এই মামলার তদন্তে দিল্লি পুলিশ প্রায় ১২৯০.৯৬৭ কেজি কোকেন ও মেফেড্রোন এবং ৩৯.৭০৬ কেজি হাইড্রোপনিক গাঁজা উদ্ধার করেছিল।
গত বছর (২০২৪) অক্টোবর মাসের ১ ও ২ তারিখে দিল্লির মহিপালপুর এলাকার একটি গোডাউনে অভিযান চালিয়ে এই বিপুল পরিমাণ মাদক উদ্ধার করা হয়। অভিযুক্ত ভারত কুমারকে ২রা অক্টোবর, ২০২৪ তারিখে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। আদালতে জামিনের বিরোধিতা করে বিশেষ সরকারি কৌঁসুলি জানান, এই মাদক চক্রটি অত্যন্ত সতর্কতার সাথে এবং অভিনব উপায়ে কাজ করছিল।
সহ-অভিযুক্ত তুষার গোয়েলের মোবাইল ফোন থেকে তদন্তকারীরা অভিযুক্ত ভারত কুমারের একটি ছবি এবং একটি দশ টাকার নোটের ছবি উদ্ধার করেন। মাদক হস্তান্তরের সময় পরিচয় নিশ্চিত করার জন্য এই ছবি দুটিকে 'টোকেন' হিসেবে ব্যবহার করার কথা ছিল।
অভিযোগ আরও জোরালো হয় যখন তদন্তকারীরা জানান, গ্রেপ্তারের সময় ভারত কুমারের পরনে সেই একই টি-শার্ট ছিল, যেটি তুষার গোয়েলের ফোনে পাওয়া ছবিতে দেখা গেছে। এছাড়া, তল্লাশি চালিয়ে ভারত কুমারের কাছ থেকে সেই নির্দিষ্ট দশ টাকার নোটটিও উদ্ধার করা হয়। পাশাপাশি, গোডাউনে অভিযানের সময় অভিযুক্তের মোবাইল ফোনের অবস্থানও ঘটনাস্থলের ২০০ মিটারের মধ্যেই ছিল বলে প্রমাণ মিলেছে।
অন্যদিকে, অভিযুক্তের আইনজীবী জামিনের পক্ষে যুক্তি দেন যে, তার মক্কেলের সাথে অন্য আসামীদের কোনো সরাসরি কথোপকথন বা আর্থিক লেনদেনের প্রমাণ নেই। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, এই মামলার অন্য এক আসামী রবীন্দর সিংকে ইতিমধ্যে আদালত জামিন দিয়েছেন। অভিযুক্তের স্ত্রী ও সন্তান প্রতিবন্ধী এবং সম্পূর্ণভাবে তার ওপর নির্ভরশীল-এই মানবিক দিকটিও আদালতে তুলে ধরা হয়।
উভয় পক্ষের দীর্ঘ সওয়াল-জবাব শোনার পর, বিশেষ বিচারক বীরেন্দ্র সিং জামিনের আবেদনটি খারিজ করে দেন। আদালত তার আদেশে উল্লেখ করেন, উদ্ধারকৃত মাদকের পরিমাণ 'বিপুল' এবং এটি বাণিজ্যিক পরিমাণের আওতায় পড়ে। এনডিপিএস আইনের কঠোর ৩৭ নং ধারা অনুযায়ী, এই ধরনের মামলায় জামিন পাওয়া ব্যতিক্রম। আদালত মনে করে, প্রাথমিক তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে (বিশেষত 'টোকেন' পদ্ধতি, টি-শার্ট ও নোট উদ্ধার এবং মোবাইলের অবস্থান) মামলায় অভিযুক্তের সম্পৃক্ততা স্পষ্ট। এই পর্যায়ে তাকে জামিন দেওয়া সমীচীন নয়।