কেসিএনএ-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাশিয়ার উপ-প্রতিরক্ষামন্ত্রী ভিক্টর গোরেমিকিনের নেতৃত্বে প্রতিনিধিদলটি বুধবার (৫ নভেম্বর) পিয়ংইয়ংয়ে পৌঁছায়। তবে এই সফরের সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্য, আলোচ্যসূচি বা সময়কাল সম্পর্কে রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমটি বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
পিয়ংইয়ংয়ে প্রতিনিধিদলটিকে কোরিয়ান পিপলস আর্মির (কেপিএ) জেনারেল পলিটিক্যাল ব্যুরোর উপ-পরিচালক পাক ইয়ং-ইল এবং অন্যান্য জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তারা উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান। ভিক্টর গোরেমিকিন কেবল রাশিয়ার উপ-প্রতিরক্ষামন্ত্রীই নন, তিনি দেশটির সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান সামরিক-রাজনৈতিক অধিদপ্তরেরও দায়িত্বে রয়েছেন।
এই সফরটিকে নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে দক্ষিণ কোরিয়া। সিউলের একীভূতকরণ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রাশিয়ার সামরিক-রাজনৈতিক অধিদপ্তরের প্রধান হিসেবে কোনো কর্মকর্তার উত্তর কোরিয়ায় সফরের ঘটনা এটিই প্রথম। মন্ত্রণালয় মনে করছে, এই সফরটি মূলত একটি পারস্পরিক পদক্ষেপ। এর আগে গত এপ্রিল মাসে উত্তর কোরিয়ার কর্মকর্তা পাক ইয়ং-ইল রাশিয়ায় অনুষ্ঠিত একটি "ফ্যাসিবাদ বিরোধী" ফোরামে যোগ দিয়েছিলেন। গোরেমিকিনের বর্তমান সফরকে সেই সফরের প্রত্যুত্তর হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
গত বছরের জুন মাসে রাশিয়া ও উত্তর কোরিয়ার মধ্যে স্বাক্ষরিত পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি দুই দেশের সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে। এরপর থেকেই উভয় পক্ষের মধ্যে সামরিক আদান-প্রদান এবং সহযোগিতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিভিন্ন সূত্রে অভিযোগ রয়েছে, এই চুক্তির আওতায় উত্তর কোরিয়া ইউক্রেনের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধে সহায়তার জন্য রাশিয়াকে প্রায় ১৫,০০০ সৈন্য এবং বিপুল পরিমাণ প্রথাগত অস্ত্র ও গোলাবারুদ সরবরাহ করেছে।
সামরিক সহায়তার পাশাপাশি অন্যান্য ক্ষেত্রেও দুই দেশের বন্ধন দৃঢ় হচ্ছে। দক্ষিণ কোরিয়ার গোয়েন্দা সংস্থা গত মঙ্গলবার জানিয়েছে যে, চলতি বছরের সেপ্টেম্বর মাস থেকে উত্তর কোরিয়ার প্রায় ৫,০০০ নির্মাণ শ্রমিক রাশিয়ায় যেতে শুরু করেছে। ধারণা করা হচ্ছে, এই শ্রমিকদের মূলত রাশিয়ার বিভিন্ন অবকাঠামো পুনর্নির্মাণ প্রকল্পে নিযুক্ত করা হবে। ভিক্টর গোরেমিকিনের এই সফর দুই দেশের মধ্যে বহুমুখী সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করার চলমান প্রচেষ্টারই প্রতিফলন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।